সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বিষাদের ছায়ায় ভক্তদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় দেবী দুর্গার বিসর্জন

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-১০-২০২১ ইং
বিষাদের ছায়ায় ভক্তদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় দেবী দুর্গার বিসর্জন
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে সংসারের সমৃদ্ধি কামনায় হিন্দু নারীদের সিঁদুর খেলা সমীকরণ প্রতিবেদন: ভক্তদের কাঁদিয়ে কৈলাসে ফিরে গেলেন দেবী দুর্গা। গতকাল শুক্রবার বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এর আগে ১১ই অক্টোবর ষষ্ঠী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল পাঁচদিনের শারদীয় দুর্গাপূজা। এবার দেবীর আগমন ঘটেছিল ঘোড়ায় চড়ে। কৈলাসে দেবালয়ে ফিরেছেন দোলায় চেপে। গতকাল সকালে বিজয়া দশমীর ‘বিহিত পূজায়’ ষোড়শপ্রচার পূজার পাশাপাশি দেবী প্রতিমার হাতে জরা, পান, শাপলার ডালা দিয়ে আরাধনা করা হয়। সবশেষে দর্পণ বিসর্জনের সময় প্রতিমার সামনে একটি আয়না রেখে তাতে দেবীকে দেখে তার কাছ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য বিদায় নেন ভক্তরা। এদিকে সকালে দেবীর অর্চনা শেষে হিন্দু সধবা নারীরা দেবীপ্রতিমাকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। তারপর নিজেরা একে অন্যকে সিঁদুর পরান। আয়োজনের অংশ হিসেবে একইসঙ্গে চলে মিষ্টিমুখ করানো ও ঢাকের তালে তালে নাচ-গান। চুয়াডাঙ্গা: ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে গত সোমবার ষষ্ঠীতে শুরু হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। বোধনে অরুণ আলোর অঞ্জলি নিয়ে আনন্দময়ী মা উমাদেবীর (দেবী দুর্গা) আগমন ঘটে মর্ত্য।ে পরের তিন দিন আনন্দের বর্ণিল ছটা ছড়িয়ে যায় সর্বত্র। গতকাল শুক্রবার সেখানে বাজল বিষাদের করুণ সুর। হিন্দু বিশ্বাসে টানা পাঁচ দিন মৃন্ময়ীরূপে মণ্ডপ ছেড়ে ফিরে যাচ্ছেন কৈলাসে স্বামী শিবের সান্নিধ্যে। বছর ঘুরে আবার আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখো ভক্তকে ভারাকান্ত করে পালকিতে চড়ে বিদায় নিলেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। এরই মধ্যদিয়ে শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গতকাল সকাল থেকেই বিহিত পূজার পর ভক্তের কায়মনো প্রার্থনা আর ঢাক-উলুধ্বনি-শঙ্খনিনাদে হিন্দু রমণীদের পরম আকাক্সিক্ষত সিঁদুর খেলায় মুখর হয়ে ওঠে মন্দিরগুলো। বিকেল হতেই মণ্ডপের পর্ব চুকিয়ে বিজয়া মিছিল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন সবাই। সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গার তীরজুড়ে ‘দুর্গা মা কি, জয়। মহামায়া কি, জয়।’ একের পর এক এমন জয়ধ্বনি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টা বাজিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এবারে অন্যবারের মতো করে করোনাভাইরাসের কারণে শোভাযাত্রা বের না হলেও, অনেক ভক্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি, নাচ, সিঁদুর খেলা হয়। মুখরিত হয়ে ওঠে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। ধান, দুর্বা, মিষ্টি আর আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। একদিকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে উৎসবের আমেজ। মালোপাড়া, দাসপাড়া, তালতলা, কুলচারা, আলুকদিয়া, দৌলাতদিয়াড় এলাকার পূজামণ্ডপগুলো থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাথাভাঙ্গা নদীর বিভিন্ন অস্থায়ী ঘাটে প্রতিমাগুলোর বিসর্জন দেওয়া হয়। সকালে দেওয়া হয় দর্পণ ঘট বিসর্জন। এমনই আয়োজনের মধ্যদিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী বাবার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে গেলেন স্বামীগৃহে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অসুর শক্তি বিনাশকারী দেবী বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে সব অপশক্তির বিনাশ হবে। শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে যাবে সবখানে। অনেকে মায়ের বিদায়ের বিরহে কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রথা অনুযায়ী, প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে শান্তির জল মঙ্গলঘটে নিয়ে তা হৃদয়ে ধারণ করা হয়। আগামী বছর আবার এ শান্তির জল হৃদয় থেকে ঘটে, ঘট থেকে প্রতিমার সম্মুখে রেখে পূজা করা হবে। দৈনন্দিন জীবনে বাঁধা হিসেবে আবদ্ধ বাঙালি আসলে পূজার চার দিনে মুক্তির ছোঁয়া পায়। সারা বছরে লুকিয়ে থাকা ইচ্ছে ডানাগুলো এদিক-ওদিক থেকে বেরিয়ে আসে। খুশিয়াল মেজাজে ভর করে তাদের চার দিন অবাধ ওড়া-উড়ির সমাপ্তি হলো গতকাল শুক্রবার। এবার তাদের গুটিয়ে যাওয়ার পালা। এবার ফিরে চলা প্রতীক্ষার কাছে। তবে মনের মধ্যে অবিরাম ঢাকের বাদ্যি জানান দিয়ে যায়, আসছে বছর আবার হবে। সরোজগঞ্জ: প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো সনার্তন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে সরোজগঞ্জ কাছারি পাড়া ও বোয়ালিয়া, ধুতুরধাট দাসপাড়া, তেঘরিসহ চুয়াডাঙ্গার শঙ্করচন্দ্র ও কুতুবপুর এবং তিতুদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে দেবী দূর্গাসহ অন্যান্য দেব-দেবীকে নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। আন্দুলবাড়ীয়া: জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ও কেডিকে ইউনিয়নে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর ও বাজদিয়া সার্বজনীন পূজা মন্দির ও কেডিকে ইউনিয়নের দেহাটি অন্নপূর্ণা ও কাশিপুর হালদার পাড়া দূর্গা মন্দিরে সরকারি নির্দেশনা মেনে পৃথকভাবে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এদিকে, গতকাল দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম রাসেল, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মুন্না বিশ্বাস, জীবননগর থানার ওসি আব্দুল খালেক ও ওসি (তদন্ত) মারুফ হোসেন। মেহেরপুর: মেহেরপুরে বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ শেষ হলো। চণ্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে গত ১১ অক্টোবর থেকে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু হয়। পরবর্তী পাঁচদিন মেহেরপুর শহরসহ জেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চণার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে তা শেষ হলো। এবার দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে এসেছেন, গিয়েছেন পালকিতে চড়ে। গতকাল শুক্রবার বিকেলের দিকে মেহেরপুর ভৈরব নদসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। মেহেরপুর শহরের পাঁচটি পূজা মন্দিরসহ মেহেরপুর জেলার ৪২টি পূজা মণ্ডপ স্ব-স্ব এলাকায় প্রদক্ষিণ শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা রং মেখে উলুধ্বনি দিয়ে প্রতিমা বিসর্জনে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যদিয়ে শেষ হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। পরের বছর শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে যা তার বাবার গৃহ। প্রতিমা বিসর্জন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঝিনাইদহ: `` সিঁদুর খেলায় মেতেছিল ঝিনাইদহের নারীরা। দেবী দুর্গার বিদায়ের আগে গতকাল শুক্রবার সকালে শহরের বারোয়ারি পূজা মন্দির, চাকলাপাড়া পূজা মন্দির, কালীতলা পূজা মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানের মণ্ডপে মণ্ডপে চলে সিঁদুর কোটা যাত্রা। সকালে পূজার্চনার পর দেওয়া হয় পুষ্পাঞ্জলি। এরপরই হিন্দু বিবাহিত নারীরা দেবীর পায়ে লাল টকটকে সিঁদুর নিবেদন করেন। পরে সেই সিঁদুর একে-অপরকে লাগিয়ে আগামী দিনের জন্য শুভকামনা করেন। সেই সাথে স্বামী-সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। শহরের বারোয়ারি পূজা মন্দিরে আসা পিয়াংকা নামের এক ভক্ত জানান, ‘দুর্গাদেবীর পায়ে সিঁদুর দেওয়ার আমরা সেই সিঁদুর সারা বছর ব্যবহার করি। সিঁদুর কোটা যাত্রার মাধ্যমে স্বামী ও সন্ত্রানের দীর্ঘায়ু কামনা করি। তারা যেন ভালো থাকেন, এই কামনা করি আমরা।’ মুক্ত নামের এক ভক্ত বলেন, দেবী দুর্গার আজ বিদায়ের দিন। প্রতিবছর মা দুর্গা আসে অশুররূপী অপশক্তিকে বধ করতে। আমরা এবার কামনা করি দেবী দেশ তথা বিশ্ববাসীকে করোনামুক্ত করবে। সারা পৃথিবী থেকে করোনা দূর হবে এই কামনা করি।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী