সাহিদুজ্জামান টরিকের সাথে সাক্ষাতসহ হোটেল সাহিদ প্যালেস পরিদর্শন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
হঠাৎ ব্যক্তিগত সফরে চুয়াডাঙ্গায় আসলেন এ জেলার কৃতী সন্তান ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল জুবায়ের সালেহিন। যশোর ক্যান্টনমেন্টে অফিসিয়াল কাজে এসেছিলেন তিনি। গতকাল সোমবার সকালে আত্মার টানে একদিনের জন্য তিনি ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গায়। বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জান্নাতুল মাওলা কবস্থানে নিজের পিতার কবর জিয়ারত করেন তিনি। চুয়াডাঙ্গায় পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে একান্ত সময় কাটিয়ে গতকালই তিনি পুনরায় যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে নিজের বাল্যবন্ধু চুয়াডাঙ্গার আরেক কৃতী সন্তান সাহিদ গ্রুপের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। চুয়াডাঙ্গার এই দুজন কৃতী সন্তানই একসাথে ১৯৭৮ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করেছিলেন। হোটেল সাহিদ প্যালেসে তাঁদের দুজনের এ সৌজন্য সাক্ষাতকালে মেজর জেনারেল জুবায়ের সালেহিন চুয়াডাঙ্গার একমাত্র তিন তারকা হোটেল সাহিদ প্যালেসও পরিদর্শন করেন।
এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল খালেকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। হোটেল সাহিদ প্যালেসের পক্ষ থেকে হোটেলের কর্মকর্তারা মেজর জেনারেল জুবায়ের সালেহিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। পরে তাঁরা হোটেল সাহিদ প্যালেসে মধ্যহ্নভোজে অংশ নেন।
বাংলাদেশ আর্মির ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল জুবায়ের সালেহিন চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান। মেজর জেনারেল মো. জুবায়ের সালেহীন, জানুয়ারি ২০২১ এ মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের ২৬তম কমান্ড্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন। তার এর আগে তিনি পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ছিলেন।

১লা ফেব্রুয়ারি ১৯৭০ সালে চুয়াডাঙ্গার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম মেজর জেনারেল জুবায়ের সালেহিনের। তাঁর পিতা অধ্যাপক আনসার আলী চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ও দর্শনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেট মেজর জেনারেল জুবায়ের সালেহিন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ১৯তম লং কোর্স শেষে ২৩ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন। মেজর জেনারেল জুবায়ের সালেহীন তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি অসাধারণ ক্যারিয়ারের সাথে বিভিন্ন দায়িত্বপালন করছেন। তিনি একটি পদাতিক বিভাগ, একটি প্রকৌশলী নির্মাণ ব্রিগেড, একটি পদাতিক ব্রিগেড এবং দুটি প্রকৌশলী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশনে একটি প্রকৌশল ইউনিটের কমান্ডারও ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্লাটুন কমান্ডারের দায়িত্বপালন করেছেন। তিনি স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস এবং বাংলাদেশের ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে অনুষদ সদস্য ছিলেন।
১ম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর বিস্ফোরক অর্ডন্যান্স ডিভাইস ছাড়ার জন্য তিনি কুয়েতে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার কন্টিনজেন্টের প্রধান সদস্যের দায়িত্বপালন করেছেন। মেজর জেনারেল জুবায়ের সালেহীন সামরিক পেশার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যময় জ্ঞানের একজন স্যাপার কর্মকর্তা। তিনি দেশে এবং বিদেশে বেশ কয়েকটি পোস্ট কমিশন সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বিভিন্ন কোর্সে তার অসাধারণ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘সেনা পদক অব এক্সিলেন্স (সেনা উৎকর্ষ পদক - এসইউপি)’ প্রদান করা হয়েছে। মেজর জেনারেল জুবায়ের সালেহীন ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ অব বাংলাদেশের স্নাতক। তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ ইন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে ইউএসএ ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। মেজর জেনারেল জুবায়ের সালেহীন এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং আফ্রিকার অনেক দেশ পরিদর্শন করেছেন। তিনি সামিয়া দেওয়ানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহিত জীবনে দুই কন্যা সন্তানের গর্বিত পিতা তিনি। পড়া, গল্ফ এবং ভ্রমণে গভীর আগ্রহ আছে মেজর জেনারেল জুবায়ের সালেহীনের।