সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জরুরি বিভাগে মোবাইলের টর্চই ভরসা!

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-১০-২০২১ ইং
জরুরি বিভাগে মোবাইলের টর্চই ভরসা!
স্পট : চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতাল লাইটের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবকেরা কর্তৃপক্ষকে কিছুই বলেনি : আরএমও রুদ্র রাসেল: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সিলিং লাইট অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া অনেক আগেই নষ্ট হয়েছে জরুরি বিভাগের একমাত্র পোর্টেবল অপারেশন লাইটও। এই প্রয়োজনীয় লাইটগুলো নষ্ট হওয়ায় জরুরি বিভাগে দেখা দিয়েছে আলোর স্বল্পতা। তবে এটা যেন জরুরি বিভাগের কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকদের নিকট কোনো সমস্যায় নয়। মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে নির্বিঘ্নে ক্ষত স্থানে সেলাইসহ রোগীদের নানাবিধ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। তবে অভিযোগ রয়েছে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে গতকাল রাত আটটার দিকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আমিরুল ইসলাম (৬৫) ও সোহাগ হোসেন (২৫) নামের দুজন ব্যক্তি। আহত আমিরুল ইসলামের কপালে সৃষ্ট ক্ষতস্থানে সেলাই দিচ্ছিলেন জরুরি বিভাগের কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকেরা। জরুরি বিভাগের লাইট নষ্ট থাকায় মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়েই কাজ করছিলেন তাঁরা। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতালে টর্চ জ্বালিয়ে সেলাই করা হয় তা আগে জানা ছিল না। প্রতিটি রোগীর কাছে তাঁর ক্ষত স্থানে চিকিৎসা করানো জরুরি। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি চিকিৎসকেরা টর্চ জ্বালিয়ে ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে শুরু করেন, তাতে রোগীরা ঘাবড়ে যাবেই। মোবাইলের টর্চের আলোই আমরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছি কিনা, তাইবা বুঝব কীভাবে? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিষয়টি নজরে নেওয়া উচিৎ।’ জরুরি বিভাগের একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘লাইট সবগুলোই ভালো আছে, শুধু দুইটা লাইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমাদের তেমন কোনো সমস্য হচ্ছে না। লাইট অন থাকলেও মোবাইলের টর্চ জ্বালালে ভালো দেখা যায়। তাই রাতের বেলা মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কাজ করি।’ হাসপাতালের নষ্ট লাইট ও আলোর স্বল্পতার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট জানিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, ‘আলো কম থাকলেও তাদের সেবা দিতে তেমন কোনো সমস্যা না হওয়ায় কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার বলেন, ‘জরুরি বিভাগের ড্রেসিং রুমের দুটি লাইট সম্প্রতি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে অন্য যে লাইটগুলো ভালো আছে, তা দিয়ে জরুরি বিভাগের স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করে যাচ্ছে। দিনের আলোতে কাজ করতে সমস্যা না হলেও রাতের বেলা আলোস্বল্পতা থাকায় গুরুতর আহত রোগীর ক্ষেত্রে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কাজ করা হয়।’ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘জরুরি বিভাগের ড্রেসিং রুমে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। জরুরি বিভাগে যে আলো স্বল্পতা রয়েছে, তাতে তাদেরইে প্রথম সমস্যা হওয়ার কথা। কিন্তু তাদের এনিয়ে কোনো সমস্যায় নেই। নতুন কিছু সিলিং লাইট হাসপাতালের স্টোরে রয়েছে, তারা চাইলেই যেকোনো সময় তা বদলে নিতে পারে। আজ (গতকাল) জানতে পারলাম তারা মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে রোগীর ক্ষতস্থানে সেলাই দেয়, তবুও লাইটগুলো বদলানোর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কিছুই বলে না।’


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী