সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন

  • আপলোড তারিখঃ ০৪-১০-২০২১ ইং
এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন
ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মালখানায় বিস্ফোরণ ঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মালখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে শফিকুল ইসলাম (২১) নামে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। নিহত শফিকুল ইসলাম সদর উপজেলার উত্তর কাস্টসাগরা গ্রামের বছির উদ্দীন শেখের ছেলে। তিনিই সাব কনট্রাক্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। বাকি আহতরা হলেন- সদর উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামের জামাল উদ্দীনের ছেলে মোস্তাক হোসেন (২০), কাস্টসাগড়া গ্রামের মসলেম মোল্লার ছেলে আসাদ মোল্লা (৩০) ও ভগবাননগর গ্রামের লতাফত হোসেনের ছেলে রাজিব (৩৫)। এরমধ্যে মোস্তাক ও রাজিবকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে ঝিনাইদহ গণপূর্ত বিভাগের কাজ পেয়ে ঠিকাদারের শ্রমিকরা মালখানার মধ্যে লোহার র‌্যাক তৈরির সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ বলতে পারছে না আসলে সেখানে কী বিস্ফোরিত হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় প্রচণ্ড শব্দে গোটা ভবন কেঁপে ওঠে। এসময় আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। অনেকে জানালা ও লোহার গ্রিল ভেঙে জীবন বাঁচাতে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। মালখানায় দায়িত্বরত পুলিশ ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত দমকল বাহিনীর সদস্যরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কোনো ইলেক্ট্রিক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান ও পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ``মালখানার দায়িত্বে নিয়োজিত এসআই ইমামুল জানান, গতকাল রোববার দুপুরে মালখানার মধ্যে কাজ করছিলেন গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদারের ৩-৪ জন শ্রমিক। তিনি নিজেও এসময় রুমে ছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণ ও ধোয়ার কুণ্ডুুলি। তারপর বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার। সঙ্গে সঙ্গে ভবনে থাকা পুলিশ সদস্য, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী ও সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। প্রথমে ৩ জন ও পরে ছিন্নভিন্ন শরীর নিয়ে শফিকুল নামে একজনকে উদ্ধার করে দমকল বাহিনীর সদস্যরা পুলিশের গাড়িতে হাসপাতালে পাঠায়। এসআই ইমামুল দাবি করেন, মালখানার মধ্যে বিস্ফোরকদ্রব্য ছিল না। ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রেকর্ড সহকারী আসাফ-উদ-দৌলা মাসুম জানান, প্রচণ্ড বিস্ফোরণে সবাই যখন আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছিলেন, তখন তিনি ও পুলিশের এসআই দাউদ হোসেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালখানার মধ্যে ঢুকে তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। আইনজীবী সহকারী নুর আমিন জানান, তিনি উদ্ধার কাজে অংশ নিতে গিয়ে নিজেই আহত হন। এক পুলিশ সদস্যও আহত হয়ে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তাঁর মাথা ও শরীরে রক্ত ছিল। ঝিনাইদহ দমকল বাহিনীর উপ-পরিচালক শামিম জানান, মালখানায় আসলে কীসের বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। তবে ইলেক্ট্রনিক কোনো ডিভাইস বিস্ফোরণ হতে পারে। ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ ঘটনায় ওয়েল্ডিং কারখানার মালিক শফিকুল নিহত ও তাঁর ৩ শ্রমিক আহত হন। তিনি জানান, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার সঙ্গে কোনো নাশকতা বা জঙ্গি কানেকশন নেই। এটা নিছক দুর্ঘটনা। তিনি বলেন, সেখানে পুলিশের এক সিপাই অনুপম উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সামনেই এ ঘটনা ঘটে। বারেক আলী নামে এক লেদগ্রিল ব্যবসায়ী জানান, সহজে বহনযোগ্য একটি চায়না সার্কিট মেশিন দিয়ে এমন কাজ করা যায়। যদি সে রকম মেশিন তারা ব্যবহার করে, তবে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মালখানা দীর্ঘদিন অরক্ষিত। মালপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এর আগে একবার মালখানায় চুরি হয়েছে। সেখানে মূল্যবান মামলার আলামত, বিভিন্ন সময় উদ্ধার হওয়া সোনা, টাকা, মাদক ও দেশি কামারশালার অস্ত্র থাকলেও ঠিকাদারের যারা কাজ করতে প্রবেশ করেছিলেন, সেই শ্রমিকদের নাম ঠিকানা বা ব্যক্তিগত কোনো তথ্য মালখানার দায়িত্বরত এসআই ইমামুল দিতে পারেননি। ফলে দুর্ঘটার পর সেখানে কারা কাজ করছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি। এদিকে, ঝিনাইদহ আদালতের মালখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঝিনাইদহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বজেন্দ্র বিশ^াসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঝিনাইদহ সদর সার্কেল) আবুল বাশারকে প্রধান করে আলাদাভাবে তিন সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত পিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী