চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীনের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান
মাদকাসক্ত বনির হাত ধরেই খেলোয়াড় হাসান হয়ে উঠেন মাদক ব্যবসায়ী!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ছিলেন অ্যাথলেট। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে কুষ্টিয়া জেলায় সেরা হয়ে অংশগ্রহণ করেন বিভাগীয় পর্যায়ে। দৌড়ে খুলনা বিভাগেও সবাইকে ছাড়িয়ে যান মো. হাসান। এরপর ঢাকায় গিয়ে ট্রায়াল দিলেও জাতীয় দলে সুযোগ পাননি তিনি। তবে স্প্রিন্টে না পারলেও হ্যান্ডবলে জাতীয় যুবদলে ঠিকই জায়গা করে নেন তিনি। খেলেন বেশকিছু ম্যাচও। ক্রীড়ায় যার এমন উজ্জ্বল পথচলা সেই তিনিই অবশেষে হারিয়ে গেলেন মাদকের অন্ধকার জগতে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার সহযোগীসহ জাতীয় যুব হ্যান্ডবল দলের সাবেক এই খেলোয়াড়কে গ্রেপ্তার করেছে। গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের বড় মসজিদপাড়ার মৃত মওলা বক্সের ছেলে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৩), মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আসলাম (৪৭), মৃত আজিজুল হকের ছেলে মো. হাসান (৪৯) এবং শহরের দৌলতদিয়াড় পাড়ার মতলেবের ছেলে তোতা মিয়া (৪৭)। গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে ৪৯টি প্যাথেডিন, নগদ ৪ হাজার ৪শ টাকা এবং একটি ধারালো দা’ উদ্ধার করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন পিপিএম (বার) বলেন, ‘মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জেলার শীর্ষ মাদক কারবারী বনি ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হাসানও আছেন। তার বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা রয়েছে। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি গ্রেপ্তারকৃ হাসান একজন সাবেক খেলোয়াড়।’
ওসি মহসীন আরও জানান, ‘বনি নামের একব্যক্তি চুয়াডাঙ্গায় মাদকের নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মসজিদপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর হাসান পুলিশকে জানায়, ১৯৮৭ সালে তিনি জাতীয় যুব হ্যান্ডবল দলে খেলেন। ১৯৮৯ পর্যন্ত তিনি এই দলে খেলেন। এরপর ভাগ্যান্বেষণে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমান। সেখানে সুবিধা করতে না পারায় দেশে ফেরেন ২০১৭ সালে। দেশে একটি মুদির দোকান দিলেও তা বন্ধ হয়ে যায় অল্প দিনেই। এরপর বন্ধুদের সাথে মিলে মাদকের জগতে পা বাড়ান। প্রথমে শুধু সেবন করলেও পরে নিজেও বিক্রিতে নেমে পড়েন। যোগ দেন বনির দলে। ২০১৮ সালে একবার গ্রেপ্তারও হন তিনি। গ্রেপ্তার বনির বিরুদ্ধে ৬টি, হাসানের বিরুদ্ধে ৬, আসলামের বিরুদ্ধে ৪টি এবং তোতা মিয়ার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা আছে বলেও জানান