বিজ্ঞাপনসহ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করল বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় টিভি মালিকদের মাথায় হাত! সমীকরণ প্রতিবেদন: নেপাল সীমান্ত নিয়ে বিরোধের পর ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। পাকিস্তানেও ভারতের বাংলা চ্যানেল দেখানো হয় না। কোলকাতার বাংলা চ্যানেলসহ ভারতীয় চ্যানেলগুলোর একচেটিয়া বাজার ছিল বাংলাদেশে। নাটক-সিরিয়ালে পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক কূটচাল, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, স্বামী-স্ত্রী, বউ-শাশুড়ির চুলোচুলি দেখিয়ে সমাজকে কলুষিত করতে বাংলাদেশের দর্শকদের উদ্বুদ্ধ করতো। আকাশ সংস্কৃতির নামে হিন্দুত্ববাদী অপসংস্কৃতি প্রচার করতো। এছাড়া পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করতো। এ নিয়ে বাংলাদেশের বিবেকবান মানুষ চায় ভারতীয় চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ করা হোক। দেরিতে হলেও বাংলাদেশে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ‘ভারতসহ বিদেশি চ্যানেলগুলো তাদের মূল কনটেন্টের সাথে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না’ সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কারণেই মূলত ভারতীয় চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, অ্যাটকো, বিদেশি চ্যানেল ডিস্ট্রিবিউটর, আকাশ ডিটিএইচ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। আবার ‘বিজ্ঞাপন প্রচার ছাড়া বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার সম্ভব নয়’ এমন যুক্তি দেখিয়ে সম্প্রচার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত এসেছে কেবল অপারেটরদের দিক থেকে। ফলে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই দেশে কোনো বিদেশি চ্যানেল দেখা যাচ্ছে না। জানতে চাইলে কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বলেন, এ মুহূর্তে ব্রডকাস্ট অপারেটরেরা বিদেশি চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনমুক্ত সম্প্রচার করতে চাচ্ছে না। আসলে এখনও দেশে সময় আসেনি বিজ্ঞাপনমুক্তভাবে বিদেশি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করার। ফলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক বিদেশি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে। ভারতের কোলকাতার বাংলা চ্যানেলগুলো কার্যত হিন্দুত্ববাদী অপসংস্কৃতি প্রচারের মিশন নিয়ে ব্যস্ত। তারা প্রগতিশীলতার নামের অশ্লীল-শঠতা-কূরুচিপূর্ণ নাটক-সিরিয়াল-অনুষ্ঠানাদি প্রচার করে থাকে। এ কারণে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেছিলেন, ‘কোলকাতার বাংলা চ্যানেলগুলোর সিরিয়াল দেখলে পরিবার-সমাজ নষ্ট হয়ে যায়। কূটিলতা-ঝগড়া-বিবাদ-বউ-শাশুড়ির চুলোচুলির বদলে গঠনমূলক-শিক্ষনীয় অনুষ্ঠান দেখাতে হবে’। এর আগে হাইকোর্ট বাংলাদেশে কোলকাতার ৪টি বাংলা চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন সব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে বিদেশি চ্যানেলগুলো দেখতে গেলে টেলিভিশনের পর্দাজুড়ে একটি বার্তা দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল- ‘গ্রাহকদের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ১ অক্টোবর থেকে বিজ্ঞাপনবিহীন ছাড়া কোনো বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার করা যাবে না। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হচ্ছি’। এদিকে, কলকাতার ক্যাবল অপারেটর অথবা মাল্টি সার্ভিস অপারেটররা গতকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত ঘরোয়া বৈঠকের পর জানিয়ে দিল- বাংলাদেশ সরকার ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে. তা একান্তভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। রাষ্ট্রই পারে এ ব্যাপারে কথা বলতে। চ্যানেলগুলোর কোর্টে বল ঠেলে দিয়ে তারা বলেছে, চ্যানেল ক্লিন ফিড পাঠাবে কিনা সেটা তাদের ব্যাপার। রাত সাড়ে আটটায় ইনফরমাল মিটিং-এর শেষে এমএসও পক্ষের এক মুখপাত্র জানান, বিষয়টি আরও গভীর ও ব্যাপক আলোচনার দাবি রাখে যা হতে পারে শনিবার।
সমীকরণ প্রতিবেদন