দেবীকে স্বাগত জানাতে সাজ সাজ রব, জেলায় ১১৭টি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা শারদ উৎসব উদযাপন প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে : এসপি জাহিদ রুদ্র রাসেল: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর এই দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে সাজসাজ রব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই স্বর্গ থেকে মর্তলোকে আগমন ঘটেছিল দেবী দুর্গার। এরই ধারাহিকতায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর শারদীয় উৎসব হিসেবে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে। আগামী ১১ অক্টোবর সোমবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। এদিকে, জেলার সবকয়টি পূজা মণ্ডপে যে কোন অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে তিন স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। জানা যায়, এ বছর চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি থানার মোট ১১৭টি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ২৪ টি, আলমডাঙ্গা থানায় পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ৩৮টি, দামুড়হুদা থানায় পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ১৪টি, জীবননগর থানায় পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ২৩টি ও দর্শনা থানায় পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ১৮টি। পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তায় জেলার ১১৭টি পূজা মণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণসহ তিন ভাগে ভাগ করেছে জেলা পুলিশ। অধিক গুরুত্বপূর্ণ পুজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা দায়ীত্বে একজন এসআই, দুইজন পুলিশ কনস্টেবল, একজন পিসি, একজন এসিপি, তিনজন পুরুষ আনসার ও দুইজন মহিলা আনসারসহ ১০ জন। গুরুত্বপূর্ণ পুজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা দায়ীত্বে থাকবে দুইজন পুলিশ কনস্টেবল, একজন পিসি, একজন এসিপি, দুইজন পুরুষ আনসার ও দুইজন মহিলা আনসারসহ আটজন এবং সাধারণ পুজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা দায়ীত্বে থাকবে দুইজন পুলিশ কনস্টেবল, একজন এসিপি, দুইজন পুরুষ আনসার ও দুইজন মহিলা আনসারসহ সাতজন। সব মিলিয়ে জেলার ১১৭টি পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ৬৩৪ জন পুলিশ সদস্য ও ৭৪৭ জন আনসার সদস্য। চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর বিভিন্ন পূজা মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, শারদীয় দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে মন্দিরগুলোর প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। দেবীকে স্বাগত জানাতে হিন্দু ধর্মালম্বীদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। শুধুমাত্র বাকি রয়েছে রঙ তুলির আচরের কাজ। তবে এখনও বেশ কয়েকটি মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে শিল্পীদের ব্যস্ত সময় পার করতেও দেখা যায়। কথা হয় পূজা মন্দিরের প্রতিমা শিল্পী সাধন কুমার পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ বছর বেশ কয়েকটি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। একটা প্রতিমা তৈরির জন্য পারিশ্রমিক হিসেবে ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আমরা নিয়ে থাকি। প্রতিটি পূজা মন্দিরের প্রতিমা তৈরির জন্য কমপক্ষে তিন থেকে চার জন করে কাজ করতে হয়। তবে একবারে একটি প্রতিমা তৈরি করা যায় না। কারণ কাদামাটি না শুকালে রঙ এর কাজ কারা যায় না। একটি দুর্গা প্রতিমা তৈরি করতে আমাদের কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে।’ বড় বাজার দুর্গা মন্দির কমিটির দপ্তর সম্পাদক শ্যামল বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার এ বছর ২৪ টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই আমরা পূজা উদযাপণের জন্য প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এখন শুধুমাত্র প্রতিমায় রঙের প্রলেপ দেওয়া বাকী আছে। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার পূজা উদযাপণ উপলক্ষে আমাদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্ত্বা দিয়ে সহযোগীতা করবেন বলে জানিয়েছেন। আশা করছি সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তি শৃংঙ্খলা বজায় রেখে পূজা উদযাপন করবে।’ জেলা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিমা তৈরি, পূজা উদযাপন এবং প্রতিমা বিসর্জনসহ দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্ত্বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সকল সময় সতর্ক ও সজাগ রয়েছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সার্বিক দিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতাদের সঙ্গে স্বাস্থবিধি মেনে পূজা উদযাপনের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন