জীবননগরে পুলিশের বিরুদ্ধে অপেশাদারিত্বের অভিযোগ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার জীবননগর অফিস: আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁদেরকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের নির্দেশে তাঁদের ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ সদস্য হলেন- হাসাদাহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রকি মণ্ডল ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাহাজুল ইসলাম। সূত্র জানায়, গত বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে এসআই রকি মণ্ডল ও এএসআই সাহাজুল ইসলাম হাসাদাহ গ্রামের শরিফুল ইসলাম, সজল, শফি এবং রানা নামের চার যুবককে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক করেন। পরে তাঁদের হাসাদাহ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে ওই চার যুবককে ছেড়ে দেন পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি একপর্যায়ে ওই এলাকায় লোকজনের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়। পরে ওই ২০ হাজার টাকা গত বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে ফেরত দেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষযটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারে। পরে গতকাল শুক্রবার সকালে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনসে তাঁদের ক্লোজ করা হয়। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আটককৃত চার যুবকের সঙ্গে গাইবান্ধা জেলা থেকে আসা সজলের দুই বন্ধু ছিলেন। তাঁদেরকেউ আটক করে পুলিশ। আটককৃত ৬ আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য এএসআই সাহাজুল আসামি সজলের বড় ভাই সাগরের নিকট এক লাখ টাকা দাবি করেন। দেনদরবারের এক পর্যায়ে ২০ হাজার টাকায় রফা হয়। এ বিষয়ে আসামি সজলের বড় ভাই সাগরের সঙ্গে কথা হলে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন, ‘আমাদের উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়ে গেছে। এ বিষয় নিয়ে আমি আর নতুন করে কোনো কথা বলব না।’ অভিযুক্ত হাসাদাহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রকি মণ্ডলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোনটি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। হাসাদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি বিশ্বাস জানান, ‘হাসাদাহ পুলিশ ক্যাম্পটি আমার ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে অবস্থিত। আইসি এবং টুআইসি ক্লোজের বিষয়টি আমি জানি না। আমার মায়ের মৃত্যুর কারণে বেশ কয়েকদিন ইউনিয়ন পরিষদে যাইনি।’ এ প্রসঙ্গে জীবননগর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল খালেক বলেন, হাসাদহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রকি মণ্ডল ও এএসআই সাহাজুল ইসলামকে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো কাগজ হাতে পাইনি। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, অপেশাদারিত্বের কারণে ওই দুজনকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন