মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

১৭ দিনেও চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়নি টিসিবি'র ১১ ঠিকাদারের পণ্য বিক্রি : অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা : রমজানেও ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাচ্ছেন না ক্রেতারা : ক্ষোভ : সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জনসাধারণ : ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি

  • আপলোড তারিখঃ ০১-০৬-২০১৭ ইং
১৭ দিনেও চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়নি টিসিবি'র ১১ ঠিকাদারের পণ্য বিক্রি : অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা : রমজানেও ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাচ্ছেন না ক্রেতারা :  ক্ষোভ : সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জনসাধারণ : ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরুর ১৭ দিন হলেও চুয়াডাঙ্গায় এখনও শুরু হয়নি ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম। এই রমজানেও ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার জনসাধারণ। ক্রেতাদের অভিযোগ, অন্যান্য বছরের মতো এবারও পণ্য তোলেননি চুয়াডাঙ্গার ১১ ঠিকাদার। ফলে বাড়তি দামে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এদিকে, সরকারের বিপনণ সংস্থার (টিসিবি) চুয়াডাঙ্গার ডিলাররা পণ্য বিক্রি না করায় চলতি রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। একইসাথে রোজার সময় বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে সরকারের উদ্যোগও ভেস্তে যেতে বসেছে। অপরদিকে, অন্যান্য বছরেও মতো এবারও চুয়াডাঙ্গায় টিসিবি'র পণ্য বিক্রি না করায় জেলার ১১ ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। তবে, টিসিবির পণ্যের মান ভাল না হওয়ায় এবং লাভ না হওয়ার কারণেই বরাদ্দকৃত পণ্য উত্তোলন করছেন না চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদাররা। চলতি রমজান উপলক্ষে গত ১৫ মে থেকে সারাদেশে ন্যায্যমূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করে সরকারের বিপনণ সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের মাধ্যমে খোলা বাজারে নিত্য পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি ১৭ দিন ধরে সারাদেশে চলছে। কিন্তু চুয়াডাঙ্গায় টিসিবি কর্তৃক নিয়োগ করা ১১ জন ঠিকাদার থাকলেও চলতি রমজানে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করছেন না তারা।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ১১ জন টিসিবি’র ডিলার রয়েছেন। ডিলারগুলো হলো, চুয়াডাঙ্গা সদরের সরোজগঞ্জ বাজারের এগ্রো বিজনেসের মেসার্স আজিজুল হক, তালতলার মেসার্স স্বপ্ন কনস্ট্রাকশন, জীবননগর বাজারের মেসার্স সাগর কুমার বিশ্বাস ও চ্যাংখালী রোডের মেসার্স সাইদুর রহমান, আলমডাঙ্গার মেসার্স কাকুলী ট্রেডার্স, মেসার্স আলম ট্রেডার্স ও মেসার্স হেলাল ট্রেডার্স এবং দামুড়হুদার দর্শনা বাসস্ট্যান্ডের মেসার্স নিতুন ট্রেডার্স, দর্শনা রেল বাজারের মেসার্স আব্দুস ছাত্তার, জুড়ানপুর গ্রামের মেসার্স মোখলেছুর এন্টারপ্রাইজ ও দশমীর মেসার্স জব্বার এন্টারপ্রাইজ। সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও গত ১৫ মে থেকে শুরু হয়ে পণ্য বিক্রি আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত চলার কথা। এই সময়ের মধ্যে বাজার মূল্যে থেকে কম দামে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করবেন টিসিবি ঠিকাদাররা। টিসিবি কর্তৃক নির্ধারিত চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৮০ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা এবং সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা লিটার বিক্রি করবে তারা। কিন্তু পণ্য বিক্রি শুরুর ১৭ দিন পার হলেও এখনও পর্যন্ত টিসিবির কোন পণ্যই নেয়নি চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদাররা। সারাদেশে ক্রেতারা বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য কিনছেন, অথচ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জেলার দরিদ্র মানুষেরা। ফলে, টিসিবির নির্ধারিত চুয়াডাঙ্গার সকল ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান। একইসাথে যারা পণ্য বিক্রি করবেন এমন কোন ব্যক্তিকে ঠিকাদারি লাইসেন্স দেয়ারও দাবি জানান তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গায় টিসিবি’র ১১জন ডিলারের মধ্যে ৪জনের লাইসেন্স বাতিল, বাকী ৫ জনের মধ্যে ৩জন ডিলার পণ্য তুলছেন না। শুধু মাত্র আলমডাঙ্গার দুইজন ডিলার কাকলি ও হেলাল টেড্রার্স এর সত্বাাধিকারী এই রমজানে প্রথম বরাদ্দের ছোলা, চিনি, মশুর ডাউল ও সয়াবিনসহ মোট ১হাজার ৫শ’ কেজি পণ্য উত্তোলন করেছেন। কিন্তু এই দু’জন ডিলারকে প্রথম চালানের উত্তোলনকৃত পণ্যে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। কাকলি ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম জানান, এক চালানে সব মিলিয়ে মাত্র ১৫শ’ কেজি পণ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অল্প পরিমানের পণ্য খুলনা থেকে আনতে ট্রাকভাড়াসহ প্রায় ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ লাভ হয় মাত্র ৫ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি চালানে লোকসান ৪হাজার টাকা। তাই তিনি দ্বিতীয় চালানের পণ্য উত্তোলন করতে ভয় পাচ্ছেন। দামুড়হুদার জব্বার ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল জব্বার জানান, টিসিবির ডিলারশীপ নিয়ে তার ঘর ভাড়া আর প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন খরচে মূল পুঁজির ঘাটতি হয়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গা সদরের ডিলার সরোজগঞ্জের আজিজুল ইসলাম বলেন টিসিবি পণ্য তুলে লোকসানের কারণে আমার লাইসেন্স সমর্পন করেছি। এদিকে টিসিবির পণ্য উত্তোলনের বিষয়ে ডিলারদের সমস্যার কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসক জিয়া উদ্দীন আহমেদ টিসিবি’র উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পত্র পাঠিয়েছেন। যেন ডিলারদের দুইবারের কোটার বরাদ্দ একসাথে সরবরাহ দেন। এদিকে সাধারণ ক্রেতারাও দাবী তোলেন, বিশেষ একটি দিনকে সামনে রেখে নয়, জনসাধরণ যেন ন্যায্যমূলে সারাবছর মানসম্পন্ন পণ্য ক্রয় করতে পারে। আর ব্যবসায়ীরা যেন মনোপলি ব্যবসা করতে না পারে সেজন্য সরকারের উচিত প্রতিবছর বিশেষ দিনে একবার নয়, সারা বছর ধরে নিয়মিত টিসিবির মানসম্পন্ন পণ্য বাজারজাতের দাবী করে। এছাড়া অনেকে অভিযোগ করেন দলীয়ভাবে মুখচেনা অব্যবসায়ীদেরকে টিসিবির ডিলার দেওয়া হয়েছে, যারা ডিলারশীপ নিয়ে পণ্য তুলছেন না।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী