প্রত্যাবাসন বন্ধ করতেই হত্যা মুহিবুল্লাহর জন্য মার্কিন, ব্রিটিশ ও ডাচ রাষ্ট্রদূতের শোক, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু শিবিরে আতঙ্ক সমীকরণ প্রতিবেদন: রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ নিহতের ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন, এই মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের দাবিদাওয়া আদায় এবং মিয়ানমারে ফিরে যেতে সোচ্চার সবচেয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন এই নেতার হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মিয়ানমারের এজেন্টরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তারা মনে করেন। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবং এনজিও নেতা আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকার মতে, মুহিবুল্লাহ হত্যায় মিয়ানমারের হাত থাকতে পারে এবং এটা সুপরিকল্পিত ঘটনা। তাদের বক্তব্য মুহিবুল্লাহকে হত্যার মধ্য দিয়েই রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে অস্ত্রধারীরা। অপর দিকে এই নির্মম হত্যার পর নিরাপত্তা জোরদার করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর তার লাশ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয় এবং সেখানে নামাজে জানাজার পর তাকে দাফন করা হয়। মুহিবুল্লাহ নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের শোক : মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন মুহিবুল্লাহর হত্যায় শোক প্রকাশ করেছেন। মিলার এক টুইটে বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকারের একজন সাহসী চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ মুহিবুউল্লাহকে হত্যায় আমি দুঃখিত ও বিচলিত।’ তিনি মুহিবের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং আশা করেন যে এই হত্যাকাণ্ডের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। হাইকমিশনার ডিকসন বলেন, আরাকান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শান্তি এবং মানবাধিকার রক্ষার নেতা মুহিবের হত্যায় তিনি মর্মাহত ও শোকাহত। তিনি টুইটে বলেন, ‘তার পরিবার, বন্ধু এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। আমার আন্তরিক সমবেদনা।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দূতাবাসও টুইট করে বলেছে, ‘রোহিঙ্গা নেতা ও মানবাধিকার কর্মীর ‘হত্যা’ একটি দুঃখজনক ঘটনা।’ দূতাবাস বলেছে,‘আমরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা আশা করি যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে কর্তৃপক্ষ সফল হবে।’ নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত আন্নে গেরার্ড ভেনলিউইন টুইটে লিখেছেন, রোহিঙ্গা নেতা ও মানবাধিকার কর্মী মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় আমরা মর্মাহত ও ব্যথিত। আমি তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আশা করি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে বলেছে, মুহিবুল্লাহর ট্র্যাজিক হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা মুহিবুল্লাহর পরিবার ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। দ্রুত তদন্ত করে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখছি। তদন্ত দাবি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের : মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ক্যাম্পে রোহিঙ্গা কর্মীদের ওপর অন্যান্য হামলার দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য মুহিবুল্লাহ ছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। তিনি সবসময় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, তাদের অধিকার, জীবনমান ও ভবিষ্যৎ করণীয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের অধিকার রক্ষা করেছেন।’ তিনি বলেন, মুহিবুল্লাহর মৃত্যু শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা হুমকির পাশাপাশি মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করবে। প্রসঙ্গত কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলাধীন কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টায় গুলি করে হত্যা করা হয় আলোচিত এই রোহিঙ্গা নেতাকে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (৮ এপিবিএন) পুলিশ সুপার শিহাব কাউছার খান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুহিবুল্লাহর লাশ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এ সময় লাশের সাথে ছিলেন নিহতের ভাই হাবিবুল্লাহ ও চাচাত ভাই নুরুল আমিনসহ স্বজনরা। দুর্বৃত্তের হাতে নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন’ নিয়ে বেশ তৎপর ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন রোহিঙ্গাদের নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে। দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদেরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মিয়ানমারে নির্যাতনের কাহিনী শোনাতে গিয়ে কেঁদেছিলেন বহুবার। ১৫ জন সদস্য নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ (এআরএসপিএইচ)। সংগঠনের ব্যানারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করছিলেন তিনি। মুহিবুল্লাহর স্বজনরা দাবি করেন, ‘স্বদেশে প্রত্যাবাসনে তৎপর হওয়ায় খুন হন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ’। গেল বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মুহিবুল্লাহ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন তার মেজ ভাই হাবিবুল্লাহ, ছোট ভাই আহম্মদ উল্লাহ ও মুহিবুল্লাহর প্রতিবেশী নুরুল আমিন। এ সময় মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে মুহিবুল্লাহসহ আমাদের ৩ ভাই পরিবার নিয়ে পালিয়ে উখিয়ায় চলে আসি। মুহিবুল্লাহর পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও ৯ সন্তান। যার মধ্যে মেয়ে ৫ জন ও ছেলে ৪ জন। তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য আমার ভাই এগিয়ে আসতেন। তাদের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছিলেন। শুধু এখানে নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও আমার ভাইয়ের পরিচিতি ছিল। হয়তো সেই যাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে তাকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘাতকদের শাস্তির দাবি জানাই। কথা হয় তার আরেক ছোট ভাই আহম্মদ উল্লাহর সাথে। তিনি বলেন, যারা গুলি মেরেছে তাদের কয়েকজনকে চিনেছি। তারা ১০ থেকে ২০ জন ছিল। প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছিল ভাই। তাই তাকে মারা হয়েছে। প্রতিবেশী নুরুল আমিন বলেন, রোহিঙ্গাদের সবার শান্তি চেয়েছিলেন মুহিবুল্লাহ। মিয়ানমারে থাকাকালেও সবাই মুহিবুল্লাহকে ডাকত শান্তির বাপ। শান্তির বাপ মানে হচ্ছে; মানুষ যেকোনো জায়গায় বিপদ পড়লে মুহিবুল্লাহ সেই বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করত। কোনো ধরনের টাকা ছাড়া। তাই মানুষজন মুহিবুল্লাহর নাম দিয়েছিল শান্তির বাপ। কিন্তু প্রশ্ন হলো কে এই মুহিবুল্লাহ? কিভাবে সাধারণ রোহিঙ্গাদের নেতা হলেন তিনি? ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় এসেছিলেন মুহিবুল্লাহ। সে সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেছিলেন, ‘আমরা (রোহিঙ্গারা) দ্রুত মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই। এ বিষয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাই। এর আগে তিনি জেনেভায় জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট উখিয়ার কুতুপালং শিবিরের ফুটবল মাঠে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গার গণহত্যাবিরোধী যে মহাসমাবেশ হয়েছিল, তা সংগঠিত করেছিলেন মুহিবুল্লাহ। গণহত্যাবিরোধী ওই সমাবেশ বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল। ওই সমাবেশে মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের নাগরিত্ব প্রদান, নিরাপত্তা, রাখাইনে ফেলে আসা জন্মভিটা ফেরতসহ কয়েকটি দাবি পূরণ না হলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এখনো ওই দাবিতে অনড় রয়েছে রোহিঙ্গারা। এরপর তিনি উখিয়া-টেকনাফে ৩২ রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের একচ্ছত্র নেতা হয়েছিলেন। রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে দক্ষ মুহিবুল্লাহ ধীরে ধীরে সবার প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। ৪৮ বছর বয়সী মুহিবুল্লাহকে রোহিঙ্গারা ‘মাস্টার মুহিবুল্লাহ’ বলে ডাকত। মিয়ানমারে থাকতে তিনি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। জানা যায়, মুহিবুল্লাহ মিয়ানমারের আরকান মংডু এলাকার মৌলভী ফজল আহম্মদের ছেলে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সেই সময় বাস্তুচ্যুত অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছিলেন মুহিবুল্লাহ ও তার পরিবার। তবে ১৯৯২ সালে তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে টেকনাফের আশপাশে অবস্থান করছিলেন। রোহিঙ্গাদের বক্তব্য জানতে মুহিবুল্লাহর সংগঠন ‘এআরএসপিএইচ’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘ইউএনএইচসিআর’। ইংরেজি ভাষা এবং রোহিঙ্গাদের ব্যবহৃত ভাষা জানায় দুই পক্ষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠেন তিনি। ধীরে ধীরে প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন বিদেশীদের। এ দিকে গত ২০১৮ সালের পর জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবসহ যত বিদেশী প্রতিনিধি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেছেন তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই রোহিঙ্গা প্রতিনিধি হিসেবে মুহিবুল্লাহ ও তার সঙ্গীরা দেখা করেন। এই মুহিবুল্লাহই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে মুহিবুল্লাহকে একাধিকবার আটক করে র্যাব। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশে আবার ছেড়ে দেয়া হয়। রোহিঙ্গাদের একটি সূত্রের দাবি, ক্যাম্পগুলোতে মুহিবুল্লাহবিরোধী অন্য একটি সশস্ত্র গ্রুপও সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু মুহিবুল্লাহর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সুসম্পর্ক থাকায় আলোচনায় ছিল তার সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস। এ কারণে সাধারণ রোহিঙ্গারাও মুহিবুল্লাহর ভক্ত ছিলেন। জানা যায়, মুহিবুল্লাহ সবসময় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন দাবি করতেন। এ কারণে মিয়ানমার সরকারেরও কালো তালিকায় ছিলেন তিনি। এ দিকে মুহিবুল্লাহর আকস্মিক এই হত্যাকাণ্ডের পর রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেক রোহিঙ্গা কান্নায় ভেঙে পড়েন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই সাধারণ রোহিঙ্গারা প্রকাশ্যে বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিবিরগুলোতে দাপট দেখানো সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আল ইয়াকিন আমাদের নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যা করে থাকতে পারে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আল ইয়াকিনসহ একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। ওই সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো মিয়ানমারে ফিরতে চায় না। বরং যারা মিয়ানমারে ফেরার পক্ষে কথা বলে, তাদের ওপর হামলা চালায়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীগোষ্ঠী মুহিবুল্লাহকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। কিন্তু দমাতে না পেরে তাকে চিরতরে বিদায় করে দেয়া হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা আগমনের বার্ষিকীতে মুহিবুল্লাহ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশে থাকতে চান না, যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরতে চান। তিনি উখিয়ার লম্বাশিয়া ইস্ট-ওয়েস্ট ক্যাম্প-১ এর বাসিন্দা ছিলেন।’ লম্বাশিয়া ইস্ট-ওয়েস্ট ক্যাম্প-১ এর মাঝি মো: রফিক বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করেছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এম এ কাশেম বলেন, উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য জানান দেয়ার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে; যা স্থানীয়দের ভাবিয়ে তুলেছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন