সড়কের জলাবদ্ধতায় নাকাল জনসাধারণ
- আপলোড তারিখঃ
২৮-০৯-২০২১
ইং
আজকের স্পট : সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন
চেয়াম্যান ভুট্টু বললেন, আমি সফল না, মানুষও নিজের ভালো চায় না
এম এ মামুন:
পাঠক আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের নানাবিধি সমস্যার চিত্র। সময়ের সাথে সাথে সব বদলে যায়। বদলে যায় মানুষ, বদলায় প্রকৃতি ও উন্নয়নের মানচিত্র। তবে কিছু কিছু সমস্যা থেকে যায়। তবে জনদুর্ভোগ সমাধানের প্রশ্নে জনসাধারণকেই দুষলেন দুই দুইবারের নির্বাচিত কার্পাসডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ভুট্টু। তিনি বললেন, কার্পাসাডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রধান দুইটি সমস্যার মধ্যে রয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও সড়কের বেহাল দশা। এ দুটি সমস্যার কারণ হিসেবে চেয়ারম্যান মন্তব্য করতে যেয়ে বলেন, মানুষ ড্রেন করতে জমি দেয় না। জমি না দেওয়ায় কার্পাসডাঙ্গার তিন কিলোমিটার সড়ক বছরের প্রায় ১০ মাস পানিতে ডুবে থাকে। একইভাবে অপরিকল্পিত এবং নিম্নমানের সড়কই এখন এই ইউনিয়নবাসীর দুঃখের নাকাল। উল্লেখিত সমস্যার সমাধান হলে ইউনিয়নবাসী কিছুটা হলেও নাগরিক সুবিধা পাবে।
দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ। ১৭টি গ্রাম নিয়ে এই পরিষদ গঠিত। এর মোট আয়তন প্রায় ১২ কিলোমিটার। ২০১১ সালের পরিসংখ্যানে ৪৬ হাজার হলেও বর্তমানে এর জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারের ওপরে। বর্তমানে এর ভোটার সংখ্যা ৩৬ হাজার ৫ শ, তবে নতুন ভোটার তালিকায় ভোটার আরও বেড়েছে। বৃহৎ এই জনসংখ্যার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সমস্যার চিত্র দেখতে গতকাল সোমবার সরেজমিনে পরিষদের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখলে নানা সসমস্যায় চোখে পড়ে। এলাকার মানুষের নানাবিধ সমস্যার মধ্যে প্রধান সমস্যা হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা, যা সমাধানে জনপ্রতিনিধিরা ব্যর্থ, এমন মন্তব্য এলাকাবাসীর।
এলাকার মানুষ মনে করেন, দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার হলেও চেয়ারম্যান মেম্বাররা এর খোঁজ রাখেন না। সচেতন মহলের কেউ কেউ বলেন, সবাই উন্নয়নের কথা মুখে বলে, কিন্তু কাজে-কর্মে তার প্রমাণ পাওয়া যায় না।
এলাকাবাসী সমস্যার কথা স্বীকার করে চেয়ারম্যান নিজেই তাঁর প্রধান সমস্যার চিত্র তুরে ধরলেন বলেন, ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তা ও পাকা সড়ক মিলে প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের ৫০ ভাগই ভাঙাচোরা ও জনসাধারণ এবং যানবাহন চলাচলের অযোগ্য। তিনি আরও বলেন, যেসব সড়কের সমস্যা, তাহলো কার্পাসডাঙ্গা থেকে মুন্সীপুর, আরামডাঙ্গার পাকুড়তলা থেকে পিরপুরকুল্লা, নতুনপাড়া ও কুতুবপুর কবরস্থান, তালসারী থেকে হরিরামপুর শিবপুর হয়ে জাহাজপোতা, কুতুবপুর জাহাজপোতা হুদাপাড়া ও খলিশাগাড়ী, গালকাটি থেকে বইরা, বাটকেমারী থেকে কানাইডাঙ্গা, কোমরপুর গ্রামের সড়ক, কার্পাসডাঙ্গা ব্রিজমোড় থেকে বাঘাডাঙ্গা সড়ক, সুভলপুর থেকে কেসমতপুর পাড়া সড়ক, কার্পাসডাঙ্গা বাজার থেকে শিন পাড়াসহ গ্রামের বিভিন্ন মহল্লা সড়কের বেহাল দশার কারণে জনসাধরণ প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকার সব সড়কের উন্নয়ন হলে এলাকাবাসী দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
এদিকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আমলে না নিলেও চেয়ারম্যান ভুট্টু এই এলাকার স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও সড়কের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি মনে করি আমি খুব একটা সফল চেয়ারম্যান না। কিন্তু ইউনিয়নবাসীর উন্নয়ন হোক, এটা আমি চাই এবং চেষ্টার কোনো ত্রুটিও করি না। তবে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডতে সরকারের একটি বিভাগ কাজ করে থাকে। সে ক্ষেত্রে তারা যাদি অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের বিষয়ে কঠোর নজরদারি করতো, তাহলে সড়কগুলোর নির্মাণ কাঠামো ভালো হতো। কিন্তু এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ।
তিনি আরও বলেন, জনগণও তাঁর নিজেদের ভালো নিজেরা চায় না। কার্পাসডাঙ্গার তিন কিলোমিটার সড়ক জলাবদ্ধতার মূল কারণ ওই এলাকার জনসাধারণ তাদের বাড়ি নির্মাণ করেছে ঠিকই, কিন্তু এক ফিট জমিও ছেড়ে রাখেননি। ফলে তার সুবিধার জন্য বাড়ির পাশে পয়ঃনিস্কাশনের ড্রেন নির্মাণ করতে হবে সে কথা তিনি চিন্তা করেননি। এদিকে, পরিষদের এমন কোনো বাজেট নেই যে সড়কের মাঝখান দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করবে। এ ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর নিজেদের ভুলে আজ জলাবদ্ধতার শিকার।
অপর দিকে, নিজেদের এলাকার চলাচলের সড়কগুলি নিয়েও জনগণের উদাসীনতা কাজ করে। তারা তাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সড়কের ওপর গোবর, রাস্তা খুড়ে গরুর গোয়ালের চুনা, বাড়ির টয়লেট, বাথরুমের ময়লা পানি ফেলে সড়কটাকে ড্রেন হিসেবে ব্যবহার করে এবং জলাবদ্ধা সৃষ্টি করে সড়কের ক্ষয়-ক্ষতি করে থাকে। নিজের জমিতে পুকুর কাটে, সেই পুকুরের মাটি সড়কের ওপরে ফেলে সড়কে যানবাহন বা জনসাধারণ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এছাড়া কার্পাসডাঙ্গা উনিয়ন ও পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের যে কয়টি ইটভাটা সড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছে, তারাও ভাটার মাটির স্তূপ সড়কের ওপর রেখে প্রতিবন্ধকতাসহ সড়কে দুর্ঘটনার কারণও ভাটা মালিকদের এ কাজের জন্য। এসবের প্রতিবাদ করলে জনপ্রতিনিধিরা জনগণের রোষানলে পড়েন। তাছাড়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সভায় এলাকার উন্নয়ন এবং নানাবিধ সমস্যা সমাধনে সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে আবেদন-নিবেদন করলেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে চান না।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘সব মিলিয়ে আমি হয়ত সফল চেয়ারম্যান না, তার কারণও যদি বলি, তাহলো- জনগণ নিজেরাই নিজেদের সমস্যা সৃষ্টি করছে। সেক্ষেত্রে জনগণও তার নিজের ভালোই চায় না। এজন্য একা চেয়ারম্যান-মেম্বার ভালো হলেই জনসাধরণের উন্নয়ন করতে পারবে না, উন্নয়ন করতে হলে জনগণকেও ভালো হতে হবে এবং জনপ্রতিনিধিদের হাতে হাত মিলিয়ে উন্নয়ন বুঝে নিতে সহযোগিতা করতে হবে।’ তবে জনপ্রতিনিধিরা যে কথায় বলুক না কেন বর্তমান সরকারের আমলে ক্ষমাসীন দলের সমর্থিত চেয়ারম্যান মেম্বাররা এলাকার উন্ননের চাকা ঘোরাতে না পারার পিছনে এ দায়-ব্যর্থতাও তাঁদের এমন স্পট বক্তব্য জনগণের।
কমেন্ট বক্স