সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দুইমাস পূর্ণ : সেটআপ রেখে ফিরে যাচ্ছে জনবল

  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৯-২০২১ ইং
দুইমাস পূর্ণ : সেটআপ রেখে ফিরে যাচ্ছে জনবল
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সাজেদা ফাউন্ডেশন কর্তৃক স্থাপিত আইসিইউ ইউনিটের রুদ্র রাসেল: দুই মাস আগে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সাজেদা ফাউন্ডেশন কর্তৃক স্থাপিত হয়েছিল আইসিইউ ইউনিট। গতকাল শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ রোববার চলে যাচ্ছেন আইসিইউ ইউনিটের সকল জনবল। তবে তাঁরা জেলাবাসীর সেবায় রেখে যাচ্ছেন আইসিইউ ইউনিট পরিচালনার সকল সরঞ্জাম। এখন থেকে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই এই আইসিইউ ইউনিট পরিচালনা করবে। আইসিইউ ইউনিট সূত্রে জানা যায়, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনাভাইরাসের প্রভাব ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) স্থাপনের জন্য জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে চুক্তি হয় সাজেদা ফাইন্ডেশনের। এরপর গত জুলাই মাসের ২৬ তারিখ ৬ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ ও ৮ শয্যাবিশিষ্ট হাই ডিফেন্ডেন্স ইউনিট (এইচডিইউ) পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ১০ জন চিকিৎসক, ১৪ জন আইসিইউ স্টাফ নার্স, সাতজন ওয়ার্ডবয়, একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট, একজন এক্স-রে টেকনোলজিস্ট, ছয়জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, তিনজন সিকিউরিটি গার্ড, তিনজন অ্যাডমিন/অ্যাকাউন্টস স্টাফসহ মোট ৪৪ জন চুয়াডাঙ্গায় এসে পৌঁছান। এরপর সেসময় ২৬ জুলাই থেকেই আইসিইউ স্থাপন কাজ শুরু করা হয়। এবং গত মাসের অর্থাৎ অঅগস্টের ৭ তারিখে আইসিইউ ইউনিট সেটআপ সম্পূর্ণ হওয়ায় ওইদিন থেকেই তাঁরা আউসিইউ ইউনিটে রোগীদের সেবাদান শুরু করে। এ পর্যন্ত সদর হাসপাতলের সাজেদা ফাউন্ডেশনের আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসা নিয়েছে মোট ৭৫ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। আর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ জন। বর্তমানে আইসিইউ ইউনিটে মুমূর্ষ অবস্থায় দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ রোববার এই দুজন রোগীকে সদর হাপসাতালের চিকিৎসকদেরকে নিকট বুঝিয়ে দিয়ে চলে যাবেন আইসিইউ ইউনিটের সম্পূর্ণ জনবল।’ সদর হাসপাতালের এইচডিইউ ইউনিটের ইনচার্জ ডা. ইয়াসিন আরাফাত মালিক বলেন, ‘সাজেদা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দুই মাসের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিরও উন্নতি হওয়ায় এই মেয়াদ আর বাড়েনি। বর্তমানে আইসিইউ ইউনিটে মাত্র দুজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোববার সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে এই দুজন রোগীকে হস্তান্তর করে আমাদের সকল জনবল নিয়ে এখান থেকে চলে যাব। আমরা যতদিন এখানে ছিলাম আমরা রোগীদের যথাসাধ্য চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করেছি।’ এবিষয়ে সাজেদা ফাউন্ডেশনের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাফিজ উল্লাহ সানি বলেন, ‘সাজেদা ফাউন্ডেশন করোনা মহামারী মোকাবেলায় প্রথম থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও দুই মাসের জন্য আইসিইউ সেবা কার্যক্রম হাতে নেয়। তবে বর্তমানে এই জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই কমে যাওয়াই দুই মাসের চুক্তির মেয়াদ আর বাড়েনি। এই মেয়াদ শেষ হওয়ায় সাজেদা ফাউন্ডেশন আইসিইউ ইউনিটের সকল জনবলকে ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে আইসিইউ ইউনিটের সম্পূর্ণ সেটআপ আমরা রেখে যাচ্ছি। এখন থেকে সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রণে তাঁদের নিজস্ব জনবলে এই আউসিইউ ইউনিট চলমান থাকবে। আগামীতে করোনার প্রভাব বৃদ্ধি পেলে আমরা আবার এখানে আসতে পারি। তবে আশা করবো করোনার এই মহামারী যেন আর ফিরে না আসে।’ চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলাতে করোনা আক্রান্তের হার কমে যাওয়ায় সাজেদা ফাউন্ডেশন তাঁদের মেয়াদ বৃদ্ধি করেনি। আগামীকাল (আজ রোববার) সদর হাসপাতাল থেকে সাজেদা ফাউন্ডেশনের সকল জনবল ফিরে যাবে। তবে তাঁদের সম্পূর্ণ আউসিইউ সেটআপ সদর হাসপাতালের নতুন ভবনেই থাকবে। এখন হাসপাতালের রেডজোন ও ইয়োলো জোনে রোগীর চাপ কমে গেছে। করোনা ইউনিটের দুই জোন মিলিয়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন করে রোগী ভর্তি থাকছেন। তবে তাঁদের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র বা আইসিইউনিটে নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না। এখন থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকদের দ্বারাই এই আইসিইউ ইউনিট পরিচালনা করা হবে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী