৯ বছরে কর্তৃপক্ষ ট্রলি কিনেছে মাত্র ৩টি!
- আপলোড তারিখঃ
২৬-০৯-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগী স্থানান্তরে ট্রলি থাকলেও তাতে নেই চাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ট্রলির অভাবে রোগী স্থানান্তর করতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। হাসপাতালের সবগুলো ট্রলিই ভাঙা ও চাকা না থাকায় জরুরি বিভাগ থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী নিয়ে যাওয়া-আসা করোনো এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এদিকে, হাসপাতালে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা রোগী বহনযোগ্য ট্রলি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর। তবে হাসপাতালের ট্রলি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার জন্য রোগীর স্বজনদেরকেই দায়ী করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের প্রায় সবকয়টি ট্রলিই ত্রুটিপূর্ণ। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, করিডোরসহ ওয়ার্ডের বিভিন্নস্থানে অচল অবস্থায় পড়ে আছে রোগীবহনের ট্রলিগুলো। কোনটির একটি চাঁকা নেই, কোনটির দুইটি, আবার কোনটির কোনো চাকায় নেই। এছাড়াও হাসপাতালের করিডোরে রোগীবহনের ট্রলিকে সম্পূর্ণ ভেঙে অচল অবস্থায় পড়ে থাকতেও দেখা যায়।
এই ভাঙা ও চাকা ছাড়া ট্রলিতে রোগী বহন করতে না পেরে বাধ্য হয়ে কোলে করে হাসপাতালের নতুন ভবনের জরুরি বিভাগ থেকে অসুস্থ মাকে পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত সার্জারি ওয়ার্ডে নিয়ে যাচ্ছিলেন ছেলে আব্দুল্লাহ। তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এত বড় হাসপাতাল কিন্তু ট্রলির অভাবে অসুস্থ মাকে নিয়ে দুইতলায় সার্জারি ওয়ার্ডে কোলে করে আনতে হয়েছে। অনেক খুজে একটাও ভাল ট্রলি পায়নি। সব ট্রলি ভাঙা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি রোগীবহনের জন্য কয়েকটি ভাল ট্রলি দিতো তবে আমাদের এতো ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালের প্রথম দিকে তিনটি ট্রলি কেনা হয়েছিল হাসপাতালের জন্য। তবে উক্ত ট্রলি তিনটি ভেঙে যাওয়াই ২০১৯ সালে (৩ বছর পূর্বে) হাসপাতালের জন্য ৫টি নতুন ট্রলির যোগাড় করে দিয়েছিলেন সিনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন। তবে গত ৯ বছরে একটিও ট্রলি কেনেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই ট্রলিগুলোই মেরামত করে পার হয়ে গেছে ৯ বছর। বর্তমানে সদর হাসপাতালের ট্রলির সংখ্যা ১১টি। এর মধ্যে নয়টি ট্রলিই অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ভালো ট্রলির মধ্যে একটি ব্যবহৃত হয় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের জন্য। অন্য ভালো দুইটি ট্রলি যা গত মাসেই মেরামত করা হয়েছে। এই ট্রলি দুইটি বর্তমানে হাসপাতালের রোগীদের জন্য ব্যবহার হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্টোর কিপার হাদিউজ্জামান হাদি বলেন, ‘হাসপাতালে ট্রলি থাকায় ২০১৩ সালের পরে আর নতুন কোন ট্রলি কেনা হয়নি। ট্রলি ভেঙে গেলে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান তা মেরামত করে দেন। এবার হাসপাতালের টেন্ডার হলে নতুন ট্রলি কেনা হবে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম বলেন, ‘১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে এই হাসপাতালের অন্ত:বিভাগে চিকিৎসা নেয় ২৫০-এর অধিক রোগী। এরমধ্যে প্রতিদিন ১০০-এর অধিক রোগীর জন্য ট্রলি ব্যবহার করে তাঁদের স্বজনেরা। এত রোগীর জন্য কমপক্ষে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে ট্রলি থাকা প্রয়োজন, হিসেব অনুযায়ী হাপসাতালে ১১টি ট্রলি রয়েছে। তবে রোগীদেরকে হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন চেম্বারে বা রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য স্বজনেরা ট্রলিতে করে রোগী নিয়ে যায়। এই ট্রলিগুলো হাসপাতালের ভেতরে চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। ট্রলিগুলো হাসপাতালের বাইরে ভাঙা সড়কেও ব্যবহার করায় তা দ্রুত ভেঙে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুইমাস পরপর ভাঙা ট্রলি মেরামতের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করা হয়। তিনি হাপসাতালে রোগীদের স্বার্থে বিনামূলে তা মেরামত করিয়ে দেন। আজকেও (গতকাল) কয়েকটি ট্রলি মেরামতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।’
কমেন্ট বক্স