আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ১০-১২ জনের একটি ডাকাতদল বাড়ীর লোকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৬টি বাড়ীতে ডাকাতি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। জান গেছে, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে খেজুরতলা গ্রামের মাদ্রাসাপাড়ার দুলু বিশ্বাস এর ছেলে শিপন বিশ্বাস (৩০) প্রকৃতির ডাকে বাড়ির বাইরে আসলে সে সময় ডাকাত দল তাকে জাপটে ধরে। শিপন বিশ্বাস জানায় তার সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সুবিধা করতে না পারায় তাকে উদ্দেশ্য করে একটি বোমা নিক্ষেপ করে ডাকাতেরা। সৌভাগ্য বসত বোমাটি একটি গর্তের পানিতে গিয়ে পড়ে। সে সুযোগে শিপন বিশ্বাস বাড়ির ভিতর দৌঁড়ে পালালে ডাকাত দল তার পিছু নেয় এবং বাড়িতে ঢুকে শিপন বিশ্বাসের ৩ বছরের শিশু পুত্র সিয়ামের গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে গরু কেনা বাবদ তাদের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এই ঘটনার পর ডাকাত দল একই গ্রামের মাঠপাড়ায় রাত ১টার দিকে সাকের মন্ডলের ছেলে প্রবাসী ওহিদুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে বাড়ির লোকজন কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সোনার গহনাসহ নগদ ১০ হাজার টাকা, সাইকেল ঘড়ি ও বিদেশী লাইট ছিনিয়ে নেয়। একই কায়দায় ওহিদুলের অপর ভাই রাশীদুলের বাড়িতে নগদ ৫হাজার টাকা নিয়ে অন্য কিছু না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রাশিদুল ইসলামকে বালিধারা দিয়ে বেদম মারপিঠ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর পর একই পাড়ার বারিক আলীর ছেলে জহিরুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে সকল কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১টি সোনার চেইন, আংটি, নাকের নোলক, রুপার তোড়া, সাইকেল ও দামি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রতিবেশী জাহার মন্ডল এর ছেলে নফর আলীর বাড়িতে ঢুকে একইভাবে সকল কে জিম্মি করে নগদ ৯ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। সব শেষে একই পাড়ার হাগু মন্ডলের ছেলে রবিউল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে সকল কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুল্যবান জিনিস পত্র ডাকাতি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার দুলু মিয়ার ছেলে শিপন বাদি হয়ে ৪জনকে আসামী করে আলমডাঙ্গা থানায় একটি ডাকাতি মামলা করেছে। থানা পুলিশ বাদির অভিযোগের ভিতিত্তে একই গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে রাজু (২২) কে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে রাজু অভিযোগ করে বলেন শিপনের বাড়িতে প্রতিদিন মাদক ব্যবসা হয়। আমি শিপন মিয়াকে মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করি এবং ঘোলদাড়ি ফাঁড়ি পুলিশকে অবহিত করবো বলে জানালে সে প্রতিহিংসায় আমার নামে থানায় অভিযোগ করেছে। শিপন ডাকাতি ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, খেজুরতলা গ্রামের নাসির এর ছেলে রাজু, ইউছুপ এর ছেলে ইকদুল, ফরাং এর ছেলে সুইট, জানালমের ছেলে মাসুদসহ আরও অনেকে আমার বাড়িতে ডাকাতি করতে এসেছিল। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রুবেল হোসেন সাথে কথা বললে তিনি জানান, এলাকার কিছু ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে বাজি ধরা খেলা করে আসছে, আর এই বাজির টাকা ম্যানেজ করার জন্য বিভিন্ন বাড়িতে ডাকাতি করছে। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ আকরাম হোসেন সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি খবর পেয়েছি কয়েকটি পরিবারে ডাকাতি হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য ঘটনা স্থলে এসআই জিয়াকে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন অপরাধীরা সকলে শাস্তি পাবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন