সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

৫০ বছরেও ইট পড়েনি, নেই ড্রেন-সড়ক

  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৯-২০২১ ইং
৫০ বছরেও ইট পড়েনি, নেই ড্রেন-সড়ক
আজকের স্পট : চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড ‘মেয়র আমাদের কথায় পাত্তা দেয় না, বলে ধৈর্য্য ধরতে হবে’ এম এ মামুন: চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সময়ের সমীকরণ-এ বেশ কয়েকটি সরেজমিন প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিবেদনেই পৌরবাসী বর্তমান মেয়রের ও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেছে। আর এসব অভিযোগের বেশির ভাগই পৌরসভার নানাবিষয়ক মৌলিক সমস্যা নিয়ে। তবে পৌরবাসী ও কাউন্সিলরদের সব অভিযোগের উত্তর মেয়র খোকন প্রতিবারের মতো একটিই কাশুন্দি বাজিয়ে সমীকরণকে জানিয়েছেন, ‘আমরা কেবলমাত্র দায়িত্ব পায়েচি, আশা কচ্চি সব সমস্যার সমাধান খুব শিগগিরি করা হবে।’ এদিকে, সমীকরণ-এ প্রকাশিত প্রতিনিটি প্রতিবেদন পড়ার পর সমীকরণের অগণিত পাঠক তাঁদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নানা সমস্যার কথা সমীকরণ অফিসে জানানোর কারণেই আজকের স্পট পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড। আজ এই ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী ওয়ার্ডবাসী ও নবনির্বাচিত কাউন্সিলরের সুষ্পষ্ট অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর হালচিত্র তুলে ধরা হলো। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পিছনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করেন কাউন্সিলর হিসেবে ৩২ বছর দায়িত্ব পালনকারী বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীল আলম মালিক খোকন। এর পাশেই শেকড়াতলার মোড় থেকে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের শুরু। ছোট্ট একটি পৌর শহরের যেদিকেই পা ফেলেন না কেন সবখানেই আপনার দৃষ্টি পড়বে কোথাই কী সমস্যা আছে। কী করলে সহজেই সমাধান হবে। কিন্তু সম্মানিত পাঠক আপনার দৃষ্টি পড়লেও পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের দৃষ্টিতে পৌরবাসীর দুর্ভোগের চিত্র পড়ে না এমন অভিযোগ ভুরিভুরি। অবহেলিত পৌরবাসীকে এক প্রকার বাধ্য হয়েইে ভাঙাচোরা ও ডোবা নালা কাঁদাজলে এবং ময়লা-আবর্জনার স্তূপের দুর্গন্ধ সহ্য করে বসবাস করতে হচ্ছে। অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা এখন সমস্যার জালে বন্দি।’ পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের মতো পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক সুবিধা এতোটায় নিম্নমানের যে, বলা বাহুল্য চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসী প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিক। বর্তমান অবস্থার দৃষ্টিতে এর থেকে জেলার যেকোনো ইউনিয়নের মানুষ ভালো আছে। তারা আর যাই হোক ময়লার দুর্গন্ধে বসবাস করে না। গতকাল পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে গেলে ওয়ার্ডবাসী তাঁদের উল্লেখিত সমস্যার কথা জানান এবং তারা বর্তমান মেয়র ও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে নানা প্রকার অবহেলা-উদাসীনতার কথা তুলে ধরেন। এই ওয়ার্ডের মহল্লাগুলো রাত নামার সাথে সাথে ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়ে যায়। অনেকে বলেন, সড়কে এক আধটা বিদ্যুতের খুটিতে বাল্ব থাকলেও মহল্লার একটি গলিতেও বিদ্যুতের খুঁটিতে বাল্ব জ্বলে না। ফলে সন্ধ্যার পর পুরো ওয়ার্ডবাসী অন্ধকারে ডুবে যায়। তখন মনে হয় এলাকাটা একটি ভুতুড়ে এলাকা। এই পরিবেশে যখন কেউ বাইরে থেকে ঘরে ফেরে বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে চায় তখন পড়তে হয় ভাঙাচোরা ও কাঁদাজলের সড়কের দুর্ভোগে। পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে বাগানপাড়া, ইসলামপাড়া, পশুহাটপাড়া ও রেলপাড়া। এসব এলাকা ঘুরে দেখার সময় কথা হয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলাউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি এবার নির্বাচনে প্রথম বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তাঁর ওয়ার্ডবাসীর থেকেও বেশি অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান মেয়র আমাদের কথায় পাত্তায় দেয় না। আমরা যে জনগণের ভোটে নির্বাচিত, সেটা তিনি বুঝতেই চায় না। ওয়ার্ডের জনসাধারণের সমস্যার কথা বললেই বলেন, ধৈর্য্য ধরেন হবে।’ এই কাউন্সিলর আরও বলেন, ‘কত দিন ধৈর্য্য ধরা যায়। মানুষের কাছে ভোট চেয়েছিলাম এলাকার সমস্যার সমাধানের জন্য, এখন আর ওয়ার্ডে যেতে পারি না। আমার চারদিকে শুধু সমস্যা আর সমস্যা। আমার ওয়ার্ডের উম্বাত মোড়ের বামের সড়কটিতে দীর্ঘ ৫০ বছরেও একটি ইট পড়েনি ও ড্রেন হয়নি। এছাড়া একটি মহল্লা নেই, যেখানে সমস্যা নেই। নেই সড়কের সংস্কার, নেই ড্রেনের সংস্কার। ড্রেনগুলি ময়লায় জাম হয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে ড্রেনের পানি বাড়ির মধ্যে সড়কে জমে কাঁদা হচ্ছে। সড়কগুলো ভেঙেচুরে শেষ। চলাচলে একেবারেই অনুপযোগী। মানুষ প্রতিনিয়ত আমাদের বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ দিচ্ছে এবং অভিশাপ দিচ্ছে। আমরা কী মুখ নিয়ে এসব কথার প্রতিবাদ বা জবাব দেব? সামন্য একটি বাল্ব তাও পোলে জ্বালাতে পারছিনে এর থেকে দুঃখ কী আছে? নেই ডাস্টবিনের ব্যবস্থা, যে কটা আছে, তা ময়লার স্তূপে ভরে গেছে। এসব ডাস্টবিনের ময়লার পচা দুর্গন্ধে মানুষ চলাচল করতে পারছে না। ময়লাগুলো অপসারণ করার ভ্যান বা গাড়ি চেয়েও পাওয়া যায় না। মেয়র সাহেব আমাদের কথা না শুনাই চরম বিপদে আছি।’ কোথাও সংস্কার হচ্ছে, এমন দৃশ্য বিরল। তারপরেও পৌরবাসী আশায় আছেন যে জনপ্রতিনিধিদের যখন মনে পড়বে, হয়তো তাঁরা পৌরবাসীর সমস্যার কথা চিন্তা করে সংস্কারের কাজে হাত দেবেন। পৌরসভার এসব সমস্যার বিষয়ে পৌর পিতা জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন বলেন, ‘আমরা কেবল দায়িত্ব পেলাম, বাজেট পেলে পৌরসভার উন্নয়ন হবে।’ তবে পৌর পিতা যাই বলুক না কেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর জোর দাবি, জনদুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা করতে এলাকার উন্নয়ন করা হোক।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী