সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নেই তিল ঠাই

  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৯-২০২১ ইং
সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নেই তিল ঠাই
চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ, ভর্তি ১২৬ শিশু চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম অবস্থা নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে ঠাণ্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বারান্দাতেও নেই তিল ঠাই। গতকাল শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ১২৬ জন শিশু। এর মধ্যে একশ’র বেশি শিশু শুধুমাত্র ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা মাত্র ১৪টি। অতিরিক্ত ১০টি শয্যা যোগ করে বর্তমানে শয্যা সংখ্যা ২৪টি। প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেড না থাকায় ওয়ার্ডের ফ্লোরে, বারান্দায়, সিঁড়ির নিকট বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা। শিশুর রোগীর সংখ্যা ১২৫ পার হলেও তাদের সেবায় দায়িত্বে ছিলেন মাত্র একজন নার্স। সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার শিশু ওয়ার্ডে রাত ১১টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৩২ জন শিশু রোগী। এর মধ্যে ২৫ জন শিশুই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। শিশু ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা মাত্র ২৪টি। আর এই বেড সংখ্যার বিপরীতে গতকাল ভর্তি ছিল ১২৬ জন শিশু। এর মধ্যে ১০৬ জন শিশুই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সরেজমিনে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ‘হাসপাতালের পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত শিশু ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেড না থাকায় রোগী গাদাগাদি করে ওয়ার্ডের মেঝেতে, বারান্দায় ও সিঁড়ির নিকট চিকিৎসা নিচ্ছে। ওয়ার্ডের মধ্যে ছিল না হাটাচলা বা নতুন একটি শিশুকে রাখার তিল ঠাই। নতুন রোগী ভর্তি হলে তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বারান্দারও বাইরে।’ `` দুই বছর বয়সী শিশু রোগী সাফাতের মা জান্নাতুল রত্না বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে সাফাতের ঠাণ্ডা কমছে না। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ালেও ঠাণ্ডা না কমায় বুধবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ওয়ার্ডের মধ্যে রোগীর চাপ অনেক বেশি, বারান্দাতেও ঠায় না পেয়ে সিঁড়ির সামনে বিছানা পেতে ছেলেকে নিয়ে আছি।’ হাসপাতালের কনিষ্ঠ শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে, এছাড়াও প্রতিদিনই বৃষ্টি হওয়ায় শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই শিশু ওয়ার্ডে ২৫ জনের অধিক শিশু ভর্তি হচ্ছে। ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিরাময় হতে সময় লাগায় শিশুদের ৭ দিনেরও বেশি ভর্তি থাকতে হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকায় রোগীর চিকিৎসা দিতে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, ‘প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন শিশু নতুন করে ভর্তি হচ্ছে। ঠাণ্ডাজনিত শিশু রোগীর সেরে উঠতে বেশি সময় লাগায় ওয়ার্ডে চাপ বাড়ছে। প্রতি শয্যার বিপরিতে ৪-৫ জন করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এত রোগী একার পক্ষে সামলাতে হিমশিম খেতে হলেও আমরা যথাসাধ্য চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি।’ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তন ও কয়েকদিনের টানা বর্ষণের কারণে শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের ডাক্তার ও নার্স রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। বেড কম থাকায় তাদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। তবে আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী