আগামী জুনে শেষ করোনা মহামারি!
- আপলোড তারিখঃ
২৪-০৯-২০২১
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
প্রাণঘাতী করোনা মহামারি আগামী জুনের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। এটি শেষ হতে পারে সাধারণ সর্দি-কাশি ও জ্বরের জন্য দায়ী ফ্লু ভাইরাসের মতো করে। আগামী জুনের মধ্যে সবাইকে দেয়ার মতো টিকা সরবরাহ করতে কোম্পানিগুলো চেষ্টা করে যাচ্ছে। যারা টিকা নেয়নি তাদের সবাইকে নিতে বলা হয়েছে। টিকা না নিলেও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিপজ্জনক বৈশিষ্ট্যের কারণে টিকা নেয়নি এমন ব্যক্তিরা আক্রান্ত হবে, কারো কারো দেহে করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে। তবে কাউকে কাউকে হাসপাতালে যেতে হতে পারে এবং এর মধ্যে হাসপাতালেই কারো জীবন অবসান হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন মডার্না ইনকরপোরেশনের প্রধান নির্বাহী স্টেফেন বানসেল।
স্টেফেন বানসেল জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন করোনাভাইরাসের মহামারী আগামী এক বছরের মধ্যেই। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জার্মান-সুইস ভাষাভিত্তিক নিউজ পেপার নিউ জুয়েরকার জেইতুংকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, কারণ বৈশ্বিক চাহিদা মেটানোর মতো প্রয়োজনীয় করোনার টিকা এর মধ্যেই সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, গত ছয় মাসে টিকা কোম্পানিগুলোর উৎপাদন যদি দেখেন, তা হলে বুঝতে পারবেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যেই পৃথিবীর সবাইকে টিকা দেয়ার মতো যথেষ্ট পরিমাণ টিকা সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এর মধ্যেই প্রয়োজনের সব বুস্টার ডোজও (টিকার দুই ডোজের পর অতিরিক্ত এক ডোজ) পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য, এ খবরের ইংরেজি ভাষান্তর করে প্রচার করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
মডার্নার প্রধান নির্বাহী আরো বলেন, এরই মধ্যে শিশুদের দেয়ার জন্য টিকাও চলে আসবে। তিনি বলেন, এর মধ্যে যারা টিকা গ্রহণ করবে না তাদের শরীরেরও প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে; কারণ করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এতই সংক্রামক যে, যারা টিকা নেবে না তাদের সংক্রমিত করবেই। এভাবে আমরা ফ্লু ভাইরাসের মতো বর্তমান করোনা পরিস্থিতিকে শেষ করতে পারব। এর মধ্যে যদি আপনি টিকা নিয়ে থাকেন তা হলে আগামী শীতটা আপনার জন্য শুভ হবে। যদি আপনি টিকা না নেন তা হলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছেই, হয়তো হাসপাতালই আপনার জীবন অবসান হতে পারে।
আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসবে আপনি কি এটিই বোঝাতে চাচ্ছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে মর্ডানার প্রধান নির্বাহী বলেন, আমার মনে হয় সারা বছরই আজকের দিনের মতো হতে পারে। বানসেল বলেন, তিনি আশা করছেন পৃথিবীর সব দেশের সরকার যারা এরই মধ্যে দুই ডোজ টিকা তাদের জনগণকে দিয়েছেন তাদের জন্য বুস্টার ডোজের অনুমোদন দেবেন। কারণ গত শরতে যারা টিকা নিয়েছেন তারা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সন্দেহাতীতভাবেই তাদের নতুন একটি টিকার ডোজ লাগবেই। তিনি বলেন, মডার্নার বুস্টার ডোজ হলো প্রথম টিকার অর্ধেক ডোজ।
বানসেল বলেন, টিকার সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। অর্ধেক ডোজের জন্য আগের নির্ধারণ করা ২০০ কোটির পরিবর্তে সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য ৩০০ কোটি ডোজ লাগবে। উল্লেখ্য, চলতি বছর প্রথম যখন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা আবিষ্কার হয়, তখন টিকায় যে ধরনের উপাদান ছিল এ বছর বুস্টার ডোজের মধ্যেই একই ধরনের উপাদান থাকবে। কারণ মডার্না সময় অভাবে বুস্টার ডোজের প্রাথমিকভাবে তৈরি টিকার কোনো পরিবর্তন করতে পারেনি। স্টেফেন বেনসেল বলেন, আমরা এখন করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জন্য টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করছি। ২০২২ সালের জন্য আমরা বুস্টার ডোজের জন্য ভিত্তি তৈরি করছি। আমরা ডেল্টা প্লাস বিটার জন্যও চেষ্টা করছি। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন করোনাভাইরাসে পরের রূপান্তরটি ডেল্টা প্লাস বিটায় (দক্ষিণ আফ্রিকায় রূপান্তরিত করোনাভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টের নাম বিটা ভ্যারিয়েন্ট) হবে। মডার্না নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা তৈরিতে বর্তমান উৎপাদন ব্যবস্থা এবং এর মূল্য একই রকম থাকবে।
এ দিকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আবিষ্কারক প্রফেসর সারা ডেইম গিলবার্ট জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস আর খুব বেশি বিপজ্জনক মাত্রায় রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অবশেষে এটা ঠাণ্ডা-কাশির (কমন কোল্ড) ভাইরাস ফ্লু’র মতো হয়ে যাবে। রয়াল সোসাইটির মেডিসিন-বিষয়ক এক সেমিনারে সারা গিলবার্ট বলেন, বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রবহমানতার কারণে ভাইরাসের কম বিপজ্জনক রূপান্তর ঘটে। তিনি বলেন, এটা ভাবার কারণ নেই যে, সার্সকোভ-২ ভাইরাসের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক ভাইরাস আসবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভবিষ্যতের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কাজ করার জন্য অর্থপ্রাপ্তির সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। আবার ইংলান্ডের চিফ মেডিক্যাল অফিসার, এপিডেমিওলজিস্ট প্রফেসর ক্রিস হুইটি সতর্ক করে দেন যে, ভবিষ্যতে কোনো-না-কোনোভাবে প্রায় সব টিকাহীন শিশুরাই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হবে। শিশুদের অর্ধেকই ইতোমধ্যে করোনায় সংক্রমিত হয়ে গেছে।
কমেন্ট বক্স