মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আবারও নির্বাচনী সহিংসতা : গুলিতে তিনজন নিহত

  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৯-২০২১ ইং
আবারও নির্বাচনী সহিংসতা : গুলিতে তিনজন নিহত
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রাণহানি, অনিয়ম ও ভোট বর্জনের মধ্যদিয়ে ১৬০টি ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত কেন্দ্র দখল, ভোটদানে বাধা, ব্যালটে সিল মারার সময় ৬ নির্বাচন কর্মকর্তা আটক সমীকরণ প্রতিবেদন: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রাণহানি, ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, অনিয়ম ও ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে। গতকাল ভোট চলাকালে কক্সবাজারের দুই উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাগেরহাটের মোংলায় এক বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তৃণমূল পর্যায়ের এ নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই নানা আশঙ্কা করা হচ্ছিল, অবশেষে তাই সত্যি হলো। অনেক স্থানেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরকারদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচিত হওয়ার পরও বিক্ষিপ্তভাবে সংঘর্ষের হার ছিল উল্লেখজনক। বিভিন্ন জেলায় ভোটকেন্দ্রে দখল অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ভোট বর্জনের ঘোষণাও ছিল ব্যাপক। নোয়াখালীর হাতিয়ায় অবৈধভাবে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে সিল মারার সময় ছয়জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে আটক করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ইসি সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৪৫ জন। চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী ছিলেন ৫০০ জন। এ দিকে ৯ পৌরসভার মধ্যে কুমিল্লার লাঙ্গলকোট, নোয়াখালীর কবিরহাট ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র পদে তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। দেশে প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল গত ১১ এপ্রিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় ১ এপ্রিল তা স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২১ জুন ২০৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়েছিল। তখন ১৬৭ ইউপির নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। তবে প্রার্থী মারা যাওয়ায় পাঁচটি, মামলাজনিত কারণে একটি এবং আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কারণে একটি ইউপিতে আপাতত ভোট হচ্ছে না। কক্সবাজার: জেলার মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরো অন্তত পাঁচজন। গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার দিকে ভোট চলাকালে এসব ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর দু’টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, বেলা ১১টার দিকে মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম দাখিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী শেখ কামাল ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (চশমা প্রতীক) মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থকদের মধ্যে ভোট জালিয়াতি নিয়ে বাগি¦তণ্ডা হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এ সময় আরো পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। সংঘর্ষের কারণে দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। এ দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা কেন্দ্রে সংঘর্ষে আবদুল হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি কাজ করে। এ ছাড়া টেকনাফ, পেকুয়া ও চকরিয়াতেও নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। পেকুয়ার টইটংয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে একজন আহত হয়েছে। এই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার পদপ্রার্থী আবদুল মালেক মাঝি আর প্রতিপক্ষ মঞ্জুর আলম সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লম্বারবিল এমদাদিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। ঘটেছে সড়ক অবরোধ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ান, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরফানুল হক চৌধুরী বেলা ১টার দিকে লম্বাবিল ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেন। তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও এজেন্টদের অভিযোগ শোনেন। তাৎক্ষণিক দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী। উল্লেখ্য, গতকাল পৌরসভার ২৮টি ও ইউনিয়নের ১৪০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। মংলায় সহিংসতায় বৃদ্ধা নিহত: বাগেরহাটের মংলায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ফাতেমা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। রোববার রাতে উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপাই গ্রামে বর্তমান ইউপি সদস্য ও প্রার্থী মতিয়ার রহমান মোড়ল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম এ সংঘর্ষে জড়ান। স্থানীয়রা জানান, রাত ৯টার দিকে মতিয়ার রহমান মোড়ল ও শফিকুল ইসলামের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন তারা। এ সময় বিরোধ ঠেকাতে এসে মতিয়ার রহমানের সম্পর্কে ফুপু ফাতেমা বেগম আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে মতিয়ার রহমান মোড়ল বলেন, শফিকুলসহ তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে একজন নিহত ও আমিসহ তিনজন আহত হই। তবে হামলার ফলে মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করে শফিকুল বলেন, মতিয়ার ভোটের আগে টাকা ছড়াচ্ছিল। তখন আমরা তাকে বাধা দেই। আর যিনি মারা গেছেন তিনি কোনো আঘাতে নয়, স্ট্রোক করে মারা গেছেন। হাতিয়ায় আ’লীগের ২ জনসহ ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থীর বর্জন অনিয়ম ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ এনে হাতিয়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা ভোট শুরু হতে না হতেই বর্জনের ঘোষণা দেন। ৯ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল, ১০ নম্বর জাহাজমারা ইউনিয়নের ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে প্রার্থী এ টি এম সিরাজ উদ্দিন, ৫ নম্বর চরঈশ্বর রায় ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল হালিম আজাদ (আনারস), ৮ নম্বর সোনাদিয়া ইউপির আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম (মোটরসাইকেল), ১১ নম্বর নিঝুম দ্বীপ ইউপির আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: মেহেরাজ উদ্দিন (মোটরসাইকেল) নির্বাচন বর্জন করেছেন। ভোট কেন্দ্রের আশপাশে অনিয়ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে বুড়িরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল ও জাহাজমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এ টি এম সিরাজউদ্দিন পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। ভোট বর্জনের কারণ হিসেবে তারা প্রতিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির ক্ষমতার অপব্যবহারকে দায়ী করেছেন। অন্য দিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্ট ছিল না। ব্যাপক জালভোটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কবিরহাট পৌরসভার কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ না থাকা, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর হুমকির অভিযোগে ভোটের আগের দিন দুই কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা হলেনÑ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (ডালিম) ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো: হানিফ (পাঞ্জাবি)। এদিকে নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে ফলাফল না মেনে প্রিজাইডিং অফিসারের টেবিল থেকে প্রিন্ট করা ফলাফলের শিটের পাতা ছিনতাই ঘটনায় সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে কবিরহাট সরকারি কলেজের ১ নম্বর ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কবিরহাট থানার ওসি টমাস বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। ব্যালটে সিল মারার সময় ৬ নির্বাচন কর্মকর্তা আটক: এ দিকে অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রতীকে সিল মারার সময় হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত চার সহকারী প্রিজাইডিং ও দুই পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়েছে। আটক চার সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হলেনÑ চরঈশ্বর ইউনিয়নের হাতিয়া মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত হরনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মাহবুবুর রহমান ও চৌমুহনী আরাফিয়া সিনিয়র আলিয়া মাদরাসার সহকারী মৌলভী মো: বেলায়েত হোসেন; জাহাজমারা ইউনিয়নের হাজী মোজাম্মেল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত হোসাইনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমেদ রাব্বি ও পশ্চিম সোনাদিয়া আবদুল মতিন পণ্ডিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ছিদ্দিক উল্লাহ। একই কেন্দ্র থেকে আটক দুই পোলিং এজেন্ট হলেনÑ দক্ষিণ নলচিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুন্নী বেগম ও মধ্য মাইজচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার। বেলা পৌনে ১টায় তাদের আটক করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: কামরুল হোসেন চৌধুরী ও হাফিজুল হক। সাতক্ষীরায় বর্জন, দখল, সংঘর্ষ, স্থথগিত ভোটারদের কেন্দ্র যেতে বাধা প্রদান, কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, ভোট কেটে নেয়া, প্রার্থী ও এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোটগ্রহণ স্থগিত এবং স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তালা ও কলারোয়া উপজেলার ২১টি ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। কলারোয়ার কয়লা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মোল্লা কেন্দ্র থেকে মারধর করে নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেয়া, প্রতিবাদ করায় তাকেও মারধর করা ও বুকে অস্ত্র ধরাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সকাল হতেই চারটি কেন্দ্র থেকে তার নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। কেন্দ্রের ব্যালট বক্স দখল করে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে নেয়া হয়েছে। একই অভিযোগে তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আফতাব আহমেদ বেলা ১টার দিকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। অপর দিকে অনিয়মের অভিযোগে কেড়াগাছি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কেড়াগাছি ভোটকেন্দ্রের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরে বন্ধ হয়ে যায়। রাতেই নৌক প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট কেটে বাক্সে ঢোকানোর অভিযোগে এই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। এদিকে কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের ঢুকতে বাধা দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুল ইসলাম। প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। অপর দিকে তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তকাঠী, দোহার, মক্তব ও জালালপুর কেন্দ্রে গোলযোগের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় একজন জানান, তালার জালালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর মক্তব কেন্দ্রের পাশে বোমা বিস্ফোরন করে কেন্দ্র দখলে নেয়ার চেষ্টা করে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা। এসময় তারা হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে র্যাব সদস্যরা উপস্থিত হয়ে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তালা থানার ওসি মেহেদি রাসেল জানান, জালালপুর ইউনিয়নের দোহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১১টার নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিদুল হক লিটুর কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। খুলনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টকে ঢুকতে না দেয়ার অভিযোগ খুলনার ৩৪টি ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়। বিএনপিসহ অন্যান্য দল অংশগ্রহণ না করলেও কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া, বিক্ষিপ্ত ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া, ককটেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দু’টি ইউনিয়নে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোটারের সংখ্যা ছিল কম। অনেক জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দাকোপের লাউডোব ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ যুবরাজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া, হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয় এবং তাদেরকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আনছার আলী ও আওয়ামী লীগ গাজী জাকির হোসেন পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। ২ জনের প্রাণহানি ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে : ইসি সচিব নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, কিছু এলাকায় সহিংসতা, অনিয়ম, গোলযোগ, বর্জন ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে ১৬০টি ইউপিতে ভোট হলেও মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় দুই জনের প্রাণহানি ছাড়া অন্যত্র নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ন কবীর খোন্দকার। গতকাল ভোট শেষে ইসির মিডিয়া কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, যেসব তথ্য পেয়েছি- আমরা মনে করি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কিছু প্রার্থী ও সমর্থক খুবই ইমোশনাল হয়ে যান। তাদের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুই গ্রুপের মধ্যে মহেশখালীতে সহিংসতা ঘটেছে ও কুতুবদিয়ায় দুষ্কৃতকারীরা ব্যালট ছিনতাই করতে গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশে ব্যবস্থা নিয়েছে। ইসি সচিব বলেন, এটা খুবই বেদনাদায়ক। নির্বাচনী সহিংসতায় মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় দু’জনের প্রাণহানি হয়েছে, আরো কয়েক জায়গায় প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অনেকে। এ ছাড়া আর সব জায়গায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। অনিয়মের কারণে পাঁচটি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ নির্বাচনে ভোট পড়ার হার নিয়ে প্রাথমিক পাওয়া তথ্যও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইভিএমে ইউপিতে অন্তত ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। পৌরসভায় ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। ব্যালটের মাধ্যমে যেসব জায়গায় ভোট পড়েছে তাতে ৬৫ শতাশের বেশি ভোট হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইউপিতে ঘরে ঘরে নির্বাচনী আমেজ থাকে। প্রার্থী যারা রয়েছেন তারা এত বেশি ইমোশনাল হয়ে যান, নিজেরাই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী