দীর্ঘদিন সংস্কার নেই, জনদুর্ভোগ চরমে!
- আপলোড তারিখঃ
২১-০৯-২০২১
ইং
আজকের স্পট : আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা-রুইথনপুর-আসমানখালী সড়ক
জমিদার অরবিন্দ ঠাকুরসহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের আসা-যাওয়ার রাস্তাটি আজ চলাচলের অনুপযোগী
এম এ মামুন:
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা অভিমুখের প্রধান সড়ক থেকে কুলপালা গ্রাম হয়ে মাত্র এক কিলোমিটার অতিক্রম করলেই এক সময়ের প্রমত্তা ঝাঝরির বিলের ধারে অবস্থিত আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রুইথনপুর গ্রাম। খাল-বিল ও পুকুর এবং কৃষিতে সমৃদ্ধ সমতল ভূমির এক অনন্য সৌন্দর্য্যরে সবুজে ঘেরা সৌহাদ্যপূর্ণ গ্রামটিতে এক সময় বসবাস করত জমিদার অরবিন্দ ঠাকুরের পরিবার। দেশভাগের কারণে তিনি সপরিবারে বিনিময় সূত্রে ভারতে চলে যান। কালের আবর্তে অনেক কিছুর পরিবর্তন পরিবর্ধন এবং আগের থেকে গ্রামের ও গ্রামবাসীদের উন্নয়ন হলেও শুধু উন্নয়ন হয়নি যোগাযোগ ব্যবস্থার। এ কারণে এই অঞ্চলের মানুষের চরম জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
চিৎলা ইউনিয়নের বৃহত্তর এই গ্রামের সাথে আশপাশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন এ প্রতিবেশী জেলা মেহেরপুর জেলার গ্রামগঞ্জের মানুষের চতুরমুখী যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের এক নির্ভরশীল এবং কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে রুইথনপুর বাজার। যেখানে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার মানুষ এই রুইথনপুর বাজারে আসেন নানা প্রয়োজনে। কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ এই রুইথনপুর বাজারের সাথে কুলপালা ভায়া রুইথনপুর বাজার, ভায়ায় হাপানিয়া আসমানখালি বাজার ও মেহেরপুর গাংনী থানা এবং রুইথনপুর বাজার ভায়া চিৎলার মোড় ও মেহেরপুর জেলার শিমুলতলা গ্রামের সাথে যোগাযোগের সড়ক ও কাঁচা রাস্তার দীর্ঘদিনেও কোনো সংস্কার হয়নি। তাই এসব অঞ্চলের সাথে যোগাযোগের উল্লেখিত সড়কের বর্তমান বেহাল দশা দেখার যেন কেউ নেই। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা এলে সড়কগুলি জলাশয়ে পরিণত হয়। এছাড়া রুইথনপুর বাজারে ও গ্রামে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামের বেশ কিছু মহল্লায় পানি জমে জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়।
রুইথনপুর গ্রামের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আব্দুল জলিল ও কালুব্বরী মাস্টার অনেকটা আক্ষেপ নিয়েই বললেন, ‘মুরুব্বিদের কাছে গল্প শোনা, একসময় এই রাস্তা দিয়ে জমিদার অরবিন্দ ঠাকুরের পরিবারসহ তাদের কাছে বিখ্যাত সব ব্যক্তিরা ঘোড়াই চেপে আসতেন। যার কারণে সেসময়ের কাচা রাস্তাটিও ঝকঝকে-চকচকে রাখা হতো। কিন্তু এখন সেই কাচা রাস্তাটি পাঁকা সড়ক হলেও সেটা আজ চলাচলের অনুপযোগী। আরও দুঃখের বিষয় দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও এই সড়কটি সংস্কারে কারো কোনো উদ্যোগ নেই।
সিএইচআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক ও এই গ্রামের জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেক জানালেন, রুইথনপুর একটি উন্নয়নশীল ও সম্ভাবনাময় এলাকা হলেও জনপ্রতিনিধিদের কাছে এর গুরুত্ব খুবই কম। তিনি আরও বলেন, এই গ্রামে রয়েছে প্রায় শতবর্ষী ১২ শ শিক্ষার্থীর ঐতিহ্যবাহী চিৎলা রুইথনপুর সরকারি পাথমিক বিদ্যালয় ও সিএইচ আর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি ভকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিউিট, একটি এজেন্ট ব্যাংক এবং একাধিক মাইজভান্ডারী তরিকার পীর সাহেবদের মাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে এলাকার ও বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা ও মাজার শরীফে ভক্ত অনুসারী যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে নিয়মিত বাজারের পাশাপাাশি সপ্তাহে দুইদিন সাপ্তাহিক হাট থাকায় বহু মানুষের সমাগম হয় রুইথনপুর বাজারে। কিন্তু যোগাযোগের প্রধান সড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে মানুষ দুর্ভোগের হাত থেকে রেহাই পায় না।
সমতল এই গ্রামে ছোট বড় প্রায় অর্ধসহস্রাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যেমন ধানবাট ও ভুষিমালের আড়ৎ এবং মুদিসহ নানাবিধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি, এলাকার কৃষি ফসল মাঠ থেকে উত্তোলন এবং তা বাজারজাতের সুবিধার্তে এবং জনদুর্ভোগ নিরসন জরুরি ভিত্তিত্বে এলাকার সড়কের উন্নয়ন করা হোক। এলাকাবাসী যে সব সড়কের সংস্কার ও কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের দাবি করছেন, তাহলো রুইথনপুর টু মেহেরপুর জেলার শিমুলতলা গ্রামের ৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ। এই ৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ করা হলে রুইথনপুর বাজারের সাথে মেহেরপুর সদর উপজেলার শিমুলতলা দরবেশপুর, শিংহাটি, কসবা, আড়পাড়াসহ একাধিক গ্রামের মানুষের যেমন রুইথনপুর বাজারে আসা-যাওয়া সুবিধা হবে, তেমনি এই এলাকার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন যেমন চিৎলা, খাদিমপুর, গাংনী, জেহালা ইউনিয়নের মানুষ যেকোনো প্রয়োজনে সহজে মেহেরপুর জেলায় যেতে পারবেন।
একইভাবে কুলপালা টু রুইথনপুর বাজার ভায়া হাপানিয়া পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার ও রুইথনপুর টু চিৎলার মোড় ২ কিলোমিটার পাকা সড়কের সংস্কার করা হলে এই এলাকার মানুষ যেমন দুর্ভোগের হাত থেকে রেহাই পাবে, সেইসাথে রুইথনপুর বাজারের ড্রেনেজের ব্যবস্থা করা হলে জনগণ জলাবদ্ধতা থেকেউ মুক্তি পাবে এবং সড়কের উন্নয়ন হলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ কমবে অপর দিকে, এলাকার উন্নয়নের আরও এক নতুন দ্বার উন্মোচন হবে সচেতন মহল মনে করেন।
উল্লেখিত বিষয়ে চিৎলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বিপ্লব জানান, রুইথনপুরের সড়কের সংস্কার ও উন্নয়নের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আমিও যোগাযোগ করছি। আশা করি, আগামীতে উন্নয়নকাজ শুরু হবে। এছাড়া রুইথনপুর-শিমুলতলা সড়কের উন্নয়নের জন্য তিন লাখ বাজেট হয়েছে। যার কাজ দ্রুত শুরু হবে খুব শিঘ্রই। সম্মানিত পাঠক ও এলাকাবাসী আপনার চারপাশের যেকোনো সমস্যার কথা জানান। আমরা আপনার দেওয়া তথ্য প্রকাশযোগ্য হলে সমীকরণের ‘আমাদের সমস্যা’ শিরোনাম কলামে প্রকাশ করা হবে। সমস্যা জানাতে যোগাযোগ করুন: ০১৭৬১-৭৪৬১৭৫, ০১৭১১-৯০৯১৯৭।
কমেন্ট বক্স