মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

স্কুল-কলেজ খুলছে কাল

  • আপলোড তারিখঃ ১১-০৯-২০২১ ইং
স্কুল-কলেজ খুলছে কাল
সমীকরণ প্রতিবেদন: ঢং ঢং ঢং। রাত পোহালেই বেজে উঠবে স্কুল-কলেজের ঘণ্টা। শেষ হচ্ছে অপেক্ষা। নানা অজুহাতে প্রতিদিন দেরি করে আসা শিক্ষার্থীও হয়তো এদিন ক্লাসে আসবে সময়মতো। নানা আলোচনা-সমালোচনা, পরিকল্পনা শেষে আগামীকাল খুলছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুয়ার। প্রায় ১৮ মাস বন্ধের পর শিক্ষার্থীরা মিলিত হবে প্রাণের উচ্ছ্বাসে। ধুলোপড়া খাতা-কলমে লাগবে মলিন হাতের ছোঁয়া। প্রস্তুত স্কুল ব্যাগ, স্বাগত জানাতে প্রস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষকরা সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের আদরমাখা শাসনের জন্যও নিয়েছেন মানসিক প্রস্তুতি। এবার অপেক্ষা রাত পোহানোর। ৫৪৩ দিন বন্ধের পর খুলতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চিরচেনা সেই দৃশ্য দেখার জন্য উন্মুখ সবাই। এর আগে তিনবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা বলা হলেও চতুর্থবারে ঘোষণা করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাসহ তারিখ। শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা আছেন সমস্যায়। ছোট হয়ে গিয়েছে স্কুলের পোশাকটা। শরীরে যে খাপ খাচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণার পর ভিড় বেড়েছে টেইলার্সের দোকানে। চওড়া হাসি ফুটেছে স্ট্রেশনারি দোকানগুলোতেও। দীর্ঘ আয়ের যুদ্ধের পর নতুন সাজে প্রস্তুত স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্রাম্যমাণ দোকানদাররা। স্কুল ভ্যানগুলোতে উঁকি দিচ্ছে নতুন উজ্জ্বল রং। দীর্ঘ এই বন্ধের পর শহুরে শিক্ষার্থীদের সামলাতে হবে ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি। আর প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানোটা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যন্ত এলাকাভেদে ঝরে পড়তে পারে ২০ থেকে ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, এখন যেহেতু স্কুল বন্ধ। তাই আমি বলবো শতভাগ শিক্ষার্থীই ঝরে পড়েছে। আর স্কুল খোলার পর যেসব শিক্ষার্থী ফিরবে না, তাদের আমরা ফেরাবো। হাসি নেই বন্যাকবলিত জেলাগুলোতেও। লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়া এলাকার শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার পাল্লাটা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। বন্যার সঙ্গে লড়াই করছে তারা। কিন্তু লড়াইয়ের মাঝেও নিশ্চয়ই স্বপ্ন আঁকছে স্কুলে ফেরার। এই শিক্ষার্থীদের আপাতত ফেরা হচ্ছে না বেঞ্চটায়। দীর্ঘ বন্ধে শিক্ষা ছিল টক অব কান্ট্রি। দেশের চার কোটি শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিভাবক, শিক্ষক সবাই অপেক্ষায় ছিলেন শিক্ষার সর্বশেষ তথ্য জানতে। গেল বছরের ১৭ই মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর ২৩ দফা বাড়ানো হয়েছে ছুটি। প্রাণঘাতী করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় আঘাতের মাঝে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পরীক্ষা। প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্লাস করেছেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে হয়েছে আন্দোলন। পরীক্ষার দাবিতে রাজধানী অচল করে দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা। ২০২০ সালের এসএসসি-এইচএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থীদের অটোপাস ও সর্বাধিক সংখ্যক জিপিএ-৫ দেয়া নিয়ে হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। দেশে করোনার সংক্রমণ কমছে। কিন্তু হারিয়ে যায়নি তা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দিয়েছেন সতর্কবার্তা। তার বার্তায় স্পষ্ট করোনার সংক্রমণ বাড়লে ফের সাটিয়ে দেয়া হবে তালা। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর স্বনামধন্য তিতুমীর সরকারি কলেজে পরীক্ষা পরিদর্শন শেষে বলেন, করোনা সংক্রমণ বাড়লে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করবে, আমরাও সেই ধরনের পরামর্শ দেবো। শিক্ষামন্ত্রীও গত রোববার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে একই ইঙ্গিত দিয়েছেন। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে শিক্ষার তিন সচিবসহ ছয়জনকে উদ্দেশ্য করে নোটিশ প্রেরণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার। শিক্ষার্থীরা ফিরবে আপনালয়ে। নেই প্রস্তুতিরও ঘাটতি। গত বৃহস্পতিবার ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন করার শেষ দিন। এদিন রাজধানীর শুক্রাবাদ, কলাবাগান ও ধানমণ্ডির আটটি স্কুল ঘুরে পরিচ্ছন্নতার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। তবে বিল্ডিংয়ের বাইরে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নেই পরিচ্ছন্নতার ছাপ। ডেঙ্গুর এই সময়ে যা শিক্ষার্থীদের জন্য হতে পারে ভয় ও শঙ্কার। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার পরই আনা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। একাধিকবার এই বার্তা দেয়া হয়েছে সরকার থেকে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়নরত সাড়ে ৩৮ লাখের মাঝে টিকার নিবন্ধন করেছেন ১৪ লাখ শিক্ষার্থী। যাদের মাঝে টিকা পেয়েছেন তিন লাখ ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকাদানের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বরাবরই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের এক লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে টিকা পেয়েছেন এক লাখ ১২ হাজার। আর ১৮ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে টিকা। এই ঘোষণা দেয়া হলে সুপরিকল্পিত কোনো নির্দেশনা এখন অবধি নেয়া হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে একাধিকবার তাগাদা দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময় বাংলাদেশে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ও করোনা নিয়ন্ত্রণে পরামর্শক কমিটির সায় মেলাতেই খোলা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তালা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এই সময়টায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল আত্মহত্যা প্রবণতা। ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ১৫১ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা এঁকে দিয়েছে বড় একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন। শুরুতে বোর্ড পরীক্ষায় বসতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাসে যাবে। দু’দিন যাবে পরবর্তী বছরে বসতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা। আর অন্যান্য ক্লাসের শিক্ষার্থীরা বেঞ্চে বসবে একদিন করে। স্কুল-কলেজে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেয়া হয়েছে জোর। মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীদের মানসিক যত্নেও নেয়া হয়েছে আলাদা পরিকল্পনা। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, আয়মুখী কাজে জড়িত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ফেরাবে কে? বাল্যবিবাহের শিকার আলতারাঙা হাতটায় কি আর উঠবে কলম?


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী