মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের এক্স-রে মেশিন পাঁচ বছর যাবৎ অকেজো : নিজস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ক্লিনিকের টেকনোলজিস্ট ও কমিশন চুক্তিতে অন্যত্র রোগি পাঠানোর অভিযোগ আয়া’র বিরুদ্ধে

  • আপলোড তারিখঃ ২৭-০৫-২০১৭ ইং
চুয়াডাঙ্গা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের এক্স-রে মেশিন পাঁচ বছর যাবৎ অকেজো : নিজস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ক্লিনিকের টেকনোলজিস্ট ও কমিশন চুক্তিতে অন্যত্র রোগি পাঠানোর অভিযোগ আয়া’র বিরুদ্ধে
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে চুয়াডাঙ্গা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের এক্স-রে মেশিনটি। ক্লিনিকের পুরনো মেশিনটি ২০০৯ সালে অব্যবহার্য বলে ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে নতুন মেশিন স্থাপন করা হলেও পরবর্তি বছরের নভেম্বরে তা আবার অকেজো হয়ে যায়। সেই থেকে আজ অবধি এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করে সচল করা সম্ভব হয়নি। তবে, চুয়াডাঙ্গা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক সূত্র জানিয়েছে, এক্স-রে মেশিনটি সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার মৌখিক এবং লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এদিকে ক্লিনিকের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) পদে কর্মরত ব্যাক্তি স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অংশীদার। তিনি ওই ক্লিনিকের সকল রোগীকে নিজস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করাতে পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, কমিশন চুক্তিতে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করানোর জন্য রোগি পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে ক্লিনিকে কর্মরত এক আয়ার বিরুদ্ধেও। তবে, সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি)। চুয়াডাঙ্গা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের দক্ষিণ প্রান্তে ১৯৭৫ সালে স্থাপন করা হয় বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের। মোটামুটি লোকবল ও সরঞ্জাম নিয়ে শুরু হয় সেবা দান কার্যক্রম। বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে মূলত কফ পরিক্ষার জন্য প্যাথলজি এবং চেস্ট পরিক্ষার জন্য এক্স-রে মেশিন প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ক্লিনিকটি সেবাদান করে আসলেও ২০০৯ সালে ভেঙে পড়ে সেবা কার্যক্রম। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বদলিসূত্রে এই ক্লিনিকের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) পদে যোগদান করেন রফিকুল আলম। এরপরেই বিকল হয়ে পড়ে এক্স-রে মেশিনটি। ওই বছরেই মেশিনটি অব্যবহার্য বলে ঘোষণা করা হয়। ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে রফিকুল আলম পেষনে যোগদান করেন সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায়। এদিকে, চুয়াডাঙ্গা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে একটি নতুন এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়। এর ঠিক তিনমাস পর জুলাই মাসে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা থেকে আবারও চুয়াডাঙ্গা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে আসেন রফিকুল আলম। তারপর থেকে বছর খানেক ভালোভাবেই চলছিলো নতুন এক্স-রে মেশিনটি। ২০১১ সালের নভেম্বরে উন্নতমানের নতুন ওই মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে। আজ অবধি এখনও তা মেরামত করা হয়নি। ক্লিনিক সূত্রে আরও জানা গেছে, বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে আসা সকল রোগিদের মূলত চেস্ট এক্স-রে দেয়া হয়। সরকারি হিসেব অনুযায়ি ছোট প্লেটের এক্স-রে মূল্য ৫৫টাকা এবং বড় প্লেটের এক্স-রে মূল্য ৭০টাকা। কিন্তু ক্লিনিকের মেশিনটি বিকল হওয়ায় বাইরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত মূল্যে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টার সমিতির নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ি ডিজিটাল এক্স-রে মূল্য ৩৮০ টাকা। দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের এক্স-রে মেশিন অকেজো থাকায় অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে রোগিদের। তবে, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলেছে, আগত রোগিদের এক্স-রে করতে পার্শ্ববর্তি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যেতে বলা হয়। গতকাল সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে গিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) রফিকুল আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তার এক্স-রে বিভাগের কোন তথ্য দিতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দেন তিনি। পরে ক্লিনিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের পর একপর্যায়ে তথ্য দিতে বাধ্য হন তিনি। এসময় এক্স-রে মেশিনের ছবি নেয়ার কথা জানালে নানা অজুহাত দেখান রফিকুল আলম। এক্স-রে কক্ষের চাবি নেই বলে জানিয়ে দেন তিনি। পরে প্রায় আধাঘন্টা অপেক্ষা করার পর বাসা থেকে চাবি এনে কক্ষ খুলে দেন রফিকুল আলম। এদিকে, একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে এক্স-রে মেশিন বিকল থাকায় রোগিরা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে করাতে বাধ্য হচ্ছে। রোগিরা বাড়তি টাকা গুনে এক্স-রে করালে তার সুবিধা ভোগ করেন ক্লিনিকের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারি। চুয়াডাঙ্গা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) পদে কর্মরত রফিকুল আলম সদর হাসপাতাল রোডের আকিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অংশীদার। রোগিরা এক্স-রে করানোর জন্য তার কাছে গেলে আকিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার জন্য রোগিদের বলেন রফিকুল আলম। এছাড়া, ক্লিনিকে আয়া পদে কর্মরত রিনা খাতুনও এক্স-রে রোগি পাঠিয়ে দেন বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। রোগি প্রতি কমিশন চুক্তিতে তিনি রোগি পাঠানোর কাজ করেন। এদিকে, বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) রফিকুল আলম জানান, আমি আকিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অংশীদার। তবে কোন রোগিকে এক্স-রে করানোর জন্য আমার প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে যেতে বলি না। ক্লিনিকে মেশিন বিকল থাকায় সদর হাসপাতাল থেকে এক্স-রে করতে বলা হয়। এ বিষয়ে অফিস সহকারি হাফিজুর রহমান জানান, এক্স-রে মেশিন মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ চলতি মাসে আবারও জানানোর পর দ্রুত তা মেরামত করা হবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে, রোগি অন্যত্র পাঠানোর বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী