চুয়াডাঙ্গার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
- আপলোড তারিখঃ
০৯-০৯-২০২১
ইং
খুলছে স্কুল-কলেজ, উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের বরণের আহ্বান ডিসি নজরুল ইসলামের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনা পরিস্থিতিতে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ১২ই সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে তা পাঠদানের উপযোগী করার জন্য কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে সরকার। সরকারের নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। যাতে সঠিক সময়েই সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেন তারা। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার ওই দিন উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন।
সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নিশ্চিত করে পাঠদানের উপযোগী শ্রেণিকক্ষ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য স্কুলে নতুন করে হাত ধোয়ার বেসিন, প্রতিদিন তাপমাত্রা মাপার জন্য ডিজিটাল জ্বর মাপার যন্ত্র, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক দিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠ ও চারপাশে যে ময়লা-আবর্জনা তৈরি হয়েছিল, তা পরিস্কার করা হয়েছে। রংতুলি দিয়ে শ্রেণিকক্ষগুলো সাজিয়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যালয়ের মাঠে স্থাপিত খেলাধুলার সামগ্রীগুলো ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী অনিন্দ্য, কাজী জীম, ফারজানা ইতি তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে জানায়, দীর্ঘ দিন পর স্কুল খোলায় তারা খুবই উ`চ্ছ্বসিত ও আনন্দিত। বন্ধ থাকাকালীন সময়ে তারা অনলাইনে ক্লাস করলেও শ্রেণিকক্ষে এসে ক্লাস করার মজাটাই আলাদা। স্কুলে এসে তারা অনেক আনন্দ করতে পারবে।
চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় খুলছে। সরকার নির্দেশিত সকল নির্দেশনা মেনে আমরা পাঠদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয় প্রস্তুত করে রেখেছি। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।’ অভিন্ন ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুলের অধ্যক্ষ, এম এ বারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষরা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানকে। ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গার প্রায় শতভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, সকল বিদ্যালয়গুলোকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে পরিপূর্ণ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি নজরদারিতে রাখছেন। আশা করছি, সময় মতো আমরা বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু করতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘১২ই সেপ্টেম্বর যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়, সেজন্য সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষা অফিসারদেরকে বলা হয়েছে। ওইদিন সকালে চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুলে ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে আমি নিজেই থাকব। এছাড়াও, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণমান্য ব্যক্তিবর্গ রেখে শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর পরিবেশে বরণ করে নিতে বলা হয়েছে।’
কমেন্ট বক্স