‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তিই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ’
- আপলোড তারিখঃ
০২-০৯-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন
সমীকরণ প্রতিবেদন:
দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। সংসদ এলাকার আশেপাশে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় স্বল্পসংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে জিয়ার মাজারে যান দলের শীর্ষ নেতারা। তারা এ সময় কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদ জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কবরে জিয়াউর রহমানের লাশ আছে কি না, এমন বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলোর উত্তর দেয়াটা আমাদের পক্ষে কঠিন, ছোট মনে করি। নিকৃষ্ট, রুচিতে বাধে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তিই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। আজকে জনগণ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। নির্বাচন হয় না, নির্বাচন কমিশন একটা সম্পূর্ণ আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পুরো প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছে। সার্বিক অর্থে একটি ছদ্মবেশী একদলীয় স্বৈরাচারী ব্যবস্থা এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিহ হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাহামুদ হাসান খান বাবু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই বলেই আজ দেশে আইনের শাসন নেই, ন্যায়বিচার নেই, সুশাসন নেই। গণতন্ত্র নেই বলেই দেশে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে। মানুষের ওপর প্রেসার পড়ছে, একদলীয় শাসন ব্যবস্থার মতো অলিখিত বাকশাল তারা চালানোর চেষ্টা করছে। যার জন্য মানুষ আজ অতিষ্ঠ। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, যখন আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি, তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, তিনি এখন ঘরবন্দি রয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে অবস্থান করছেন। এটার মানে কী? মানে হলো, দেশে একটা অসম লড়াই চলছে। দেশে একটা বৈষম্য চলছে। দেশে নিশিরাতের ভোট চলছে। দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশের মানুষ অধিকারহীনতায় রয়েছে। মানুষের মধ্যে আস্থা নেই। মানুষ সঙ্কটে রয়েছে। এরকম পরিস্থিতির মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা নির্বাচন হয়, মানুষ ভোট দিতে পারছে না। গ্রামেও তারা নৌকা মার্কা নিয়ে গেছে, যাতে করে তাদের লোকগুলোকে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত করা যায়। আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হচ্ছে না। বর্তমানে দ্রুত ধনীর সংখ্যায় বাংলাদেশ এক নম্বর। আজ আমরা যাদের উন্নয়নের জন্য, কল্যাণের জন্য কথা বলে থাকি, তাদের উন্নয়ন নেই। কিন্তু অনেক ধনী আজ গ্রো করেছে, যারা বাংলাদেশের এক নম্বর ব্যক্তি। তাদের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি। একমাত্র গণতন্ত্রের মাধ্যমে এ দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দীক আবুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য শরীফুজ্জামান শরীফ।
এসময় তিনি বলেন, ‘বিএনপি ৪৩ বছর সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে। এ লড়াই সংগ্রামের মধ্যদিয়েই বিএনপি আজকে (গতকাল) ৪৪ বছরে পা দিয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম যুদ্ধের মধ্যদিয়ে এ জাতি যে অধিকারগুলো অর্জন করেছিল, সে অধিকারগুলো তারা হারিয়ে ফেলেছে। আজকে জনগণ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে নির্বাচন হয় না। নির্বাচন কমিশন একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পুরো প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছে। সার্বিক অর্থে ছদ্মবেশী একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা এবং আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। আজকে বিএনপির লাখ লাখ নেতা-কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা। পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীদের গুম করা হয়েছে। সহস্রাধিক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এতকিছুর পরও বিএনপি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।’
আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল জব্বার, জাহানারা পারভিন, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান জোয়ার্দ্দার, আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বিপ্লব, আলমডাঙ্গা উপজেলার সাবেক সভাপতি ও জেহালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রোকন, আলুকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি ইবাদত হোসেন, খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি শেরেগুল ইসলাম, গাংনী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হামিদুল হক, ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি টিপু সুলতান, কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি সফিকুল ইসলাম, কালিদাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি আইনাল, জামজামি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি রফিক উদ্দীন, খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেন, বেলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি ঝণ্টু মালিতা, নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি হারুনার রশিত হারুন, আলুকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, পদ্মবিলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজিবার রহমান, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মহিউদ্দীন খাজা, শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক টিটোন মেম্বার, মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মাহাবুল হোসেন, আলমডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান ওল্টু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ইন্তাজ আলী, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, চুয়াডঙ্গা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান মুক্তা, জেলা যুবদলের সাংগঠণিক সম্পাদক জাইদ মো. রাজিব খান, জেলা যুবদলের সদস্য খাইরুল ইসলাম, জেলা সৎসজীবী দলের সদস্য সচিব কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিম, জেলা জাতীয়তাবাদী নাগরিক সমাজের সভাপতি মনিরুজ্জামান লিপ্টন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর সেফালী বেগম, ইমরান মহলদার রিণ্টু, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মতিউর রহমান মিশর, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ আহাম্মেদ শিপ্লব, চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহাম্মেদ রানা, সদস্য সচিব মাজেদুল আলম মেহেদী, আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভ, আলমডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিক হাসান রিঙ্কু ও আলমডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল হক তন্ময়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- চুয়াডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মুন্সী মো. আলাউদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি খাইরুল ইসলাম, পৌর তিন নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি কুদ্দুস মহলদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোনয়ার হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসানুর রহমান মিলন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠণিক সম্পাদক বজলুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠণিক সম্পাদক শিমুল, ২ নম্বর ওয়ার্ড সাবেক সহ সভাপতি শাকের আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সাবেক দপ্তর সম্পাদক আজম আলী, শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস পচা। যুবদল নেতা- মমিনুর রহমান, ইকরামুল হক, মোকলেচুর রহমান মুকুল, ওপু মালিক, রফিকুল ইসলাম, কনক। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা- এস এম হাসান, মাবুদ সরকার, রুবেল হোসেন, তুহিন হোসেন, সানোয়ার মেম্বর, আবুল কালাম আজাদ, আবু হেনা রনি, জাকির হোসেন, শান্ত, আবু সালে, এরশাদ, মস্তফা, আব্দুস সালাম, লাল্টু, মহসিন হোসেন। ছাত্রদল নেতা- সাইমুজ্জামান মিশা, মাহাবুবুর রহমান, অ্যাড. কাইসার আহাম্মেদ, শান্ত. শাহারুখ, স্বাধন, সম্রাট, সান, শাকিল, জিতু, আমির, লিখন, শাহাবুদ্দিন আহাম্মেদ বুদ্দিন, সৌরভ, আল ইমরান রাসেল, আবিদ, সম্পদ, রাসিব, মাসুদ রানা। আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন্ থেকে তেলওয়াত করেন মো. নূরগণি ছামদানী।
দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিল্পপতি মাহামুদ হাসান বাবু খানের নির্দেশে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান মালিথা, চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আনিসুজ্জামান আনিস, দামুড়হুদা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সদস্যসচিব মাহফুজুর রহমান মিল্টন, নতিপোতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, সদস্য আমিনুল ইসলাম রশিদ, বিএনপি নেতা মজিবার রহমান, জামসেদ আলী (মেম্বার), আতিয়ার রহমান চুন্নু, দুলু মণ্ডল, যুবদল নেতা ইজাজুল হক, কলম, আশরাফুল হক, ইমতিয়াজ হোসেন, মমিন, সুমন, জান মুহাম্মদ, আব্দুস ছালাম মালিথা, সুজন, হাসান, শামীম, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন, মুকুল, সদস্য আলফাজ, লাদেন প্রমুখ।
মেহেরপুর:
মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুণ বলেছেন, রাষ্ট্র যখন দুর্নীতিতে সাইন আপ হয়ে যায়, রাষ্ট্র তখন তার নৈতিকতা ধ্বংস করে ফেলে, মূল্যবোধকে ধ্বংস করে ফেলে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে কাঁকড়া এক সময় নিজেকে খেয়ে ফেলে। ঠিক তেমন রাষ্ট্র যখন উলঙ্গ হয়ে যায়, রাষ্ট্র যখন নৈতিকতা বিবর্জিত হয়ে যায়, রাষ্ট্র যখন মূল্যবোধকে তোয়াক্কা না করে জনগণের সম্মান অধিকারকে হরণ করে। তখন রাষ্ট্র রাষ্ট্রকে খেয়ে ফেলবে, আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগকে খেয়ে ফেলবে, নেতা-কর্মীকে খেয়ে ফেলবে, কর্মী-নেতাকে খেয়ে ফেলবে এটি হল ইতিহাস।
মাসুদ অরুণ আরও বলেন, সময় থাকতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন। আমি আওয়ামী লীগকে বলি দল-মত নির্বিশেষে অনতিবিলম্বে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশের মানুষের যে গণতান্ত্রিক দাবি, সেই দাবি মেনে নেওয়া হোক। মাসুদ অরুন গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।
গতকাল বুধবার সকালে মেহেরপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, মেহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, মেহেরপুর জেলা তাঁতী দলের সভাপতি আরজুল্লাহ বাবলু মাস্টার প্রমুখ।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকালে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। শহরের অগ্নিবীনা সড়কের বিএনপির কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা বিএনপি নেতা শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মসিউর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, ড্যাব কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা: ইব্রাহিম রহমান বাবু, জেলা যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব রণক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৌমেনুজ্জামান সৌমেন ও কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
সভায় প্রধান অতিথি মসিউর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার জোর করে ক্ষমতায় এসে দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছে। হাসিনার স্বৈরতন্ত্র বিশ্ব বেহায়া এরশাদের চেয়ে ভয়ঙ্কর উল্লেখ করে মসিউর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। ভারতে পালিয়ে তাঁরা ইন্ডিয়া সরকারের রিলিফ খেয়েছে আর ফুর্তি করে বেড়িয়েছে। সে দিন জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার তুর্য্যুধ্বনী দেশবাসীকে ঝুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস যুগিয়েছিল। শেখ মুজিবের নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগকে পুর্নজনম দিয়েছিলেন। এখন তাদের মুখে বড় বড় কথা মানায় না।
মসিউর রহমান তাঁর সময়কার ঝিনাইদহের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ এমন একটা দল যারা হওয়া ভাতেও বেগুন দিতে জানে না। তিনি বলেন, ‘যারা আমরা গড়া প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে পারে না তারা কি করতে পারে তা জেলাবাসীর জানা আছে।
এদিকে, শহরের এইচএসএস সড়কে দলটির জেলা কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক অ্যাড. এস এম মশিয়ুর রহমান।
বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাড. এম এ মজিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান, জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. কামাল আজাদ পান্নু, সদস্যসচিব আলমগীর হোসেন প্রমুখ। আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শেষে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।
কমেন্ট বক্স