মেহেরপুর গাংনীর ষোলটাকায় প্রকাশ্য নৃসংসতা : চলন্ত মোটরসাইকেলে হামলা : ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা : গুরুতর আহত ভাই
- আপলোড তারিখঃ
২৫-০৫-২০১৭
ইং
গাংনী অফিস: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে স্থানীয় মাজেদুল গং ইউপি সদস্য কামাল হোসেনকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। একই সাথে তার আরেক তাদের হামলায় গুরুতর আহত হয়। সে বর্তমানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ষোলটাকা গ্রামের জোয়ার্দ্দারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কামাল হোসেন ষোলটাকা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য ও ষোলটাকা গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তার জোয়ার্দ্দারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপি সদস্য কামাল হোসেনের বড় ভাই আব্দুল হান্নানের জামাতা একই গ্রামের খালেকের ছেলে মাজেদুল ইসলামের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গত বুধবার রাতে ভাইয়ের জামাতা মাজেদুল ও চাচা শশুর ইউপি সদস্য কামাল হোসেন ও কফেল উদ্দীনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রাতে স্থানীয় লোকজন তাদের উভয় পক্ষকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আপোষ-মিমাংসার কথা বলে শান্ত করে। লোকজনের সিদ্ধান্ত মেনে উভয় পক্ষ বাড়ি ফেরেন। কিন্তু সকাল হতেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামে জামাতা মাজেদুল ইসলাম ও তার দলবল। সকাল ১০টার দিকে লোকজন নিয়ে মাজেদুল গং হামলায় চালায় চাচা শ্বশুর কফেল উদ্দীনের বাড়িতে। হামলা চালিয়ে কফেল উদ্দীনকে গুরতর আহত করে। কামাল হোসেনের ভাই কফেল উদ্দীনকে মারধরের খবর পেয়ে কামাল হোসেন জোরপুকুর বাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথের মধ্যেই তাকে প্রতিপক্ষরা চলন্ত মোটরসাইকেল থাকা অবস্থায় দেশিও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এসময় সে মাঠিতে লুটিয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথার পিছনে আঘাত করে। তাকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ফেলে পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ স্বাধীন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গ্রামের কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেডিকেল অফিসার ডাঃ সজিব উদ্দীন স্বাধীন জানান, কামাল হোসেনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত কাফিরু জামান বলেন, মরদেহ পুলিশ হেফাজতে নিয়ে। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের হাতে লাশ তুলে দেওয়া হয়। হামলাকারীদের আটকে পুলিশের অভিযান চলছে। রাতে রির্পোট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
কমেন্ট বক্স