কমে আসছে করোনা সংক্রমণ, সক্রিয় হচ্ছে রাজনৈতিক কার্যক্রম
- আপলোড তারিখঃ
২৮-০৮-২০২১
ইং
তৃণমূল গোছাতে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
সাংগঠনিক তৎপরতায় তৃণমূলে গতি ফিরিয়ে এনে আগামী বছর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। সেই লক্ষ্যেই আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সাংগঠনিক কাজে পুরোদমে নামার নির্দেশনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৯ সালের ২০-২১ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলনের পর ৩৭-৩৮টি জেলার সম্মেলন হয়েছে। বাকি আছে প্রায় ৪০টি সাংগঠনিক জেলা। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় ওইসব জেলায় একচ্ছত্র ক্ষমতায় বাড়ছে কোন্দল এবং ধীরগতি হয়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। তাদের মতে, আগামী জাতীয় সম্মেলনের আগে বিরাজমান সব কোন্দলের অবসান ঘটিয়ে দলে গতি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়েই আওয়ামী লীগ আঁটঘাট বেঁধে নামছে।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত অনেক ব্যস্ততা রয়েছে তাদের। এর মধ্যে আছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় সংসদ উপনির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সুন্দর পরিকল্পনা দরকার। সারাদেশে শক্তিশালী টিম দরকার। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খুলবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হতে পারে। নানা ইস্যু তৈরি করে শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়া হতে পারে। ফলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের কমিটিতে পরীক্ষিতদের আনতে হবে। সম্মেলন না হলে এতগুলো কাজ সুন্দরভাবে করা সম্ভব হবে না।
সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, সম্মেলন করা নিয়ে বেশি জটিলতা বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে। বরিশাল বিভাগের বেশিরভাগ কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগে হাত দিলেই কোন্দলের জের ধরে ঘটে হতাহতের ঘটনা। তাই এ দুই বিভাগের সমস্যা চিহ্নিত করেই কমিটি দেওয়া হবে জানা গেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত যেন উপেক্ষিত না হয় সে জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি তত্তবধানে দুই বিভাগের কমিটি করা হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, আমরা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেব। অগ্রিম কিছু বলা আমাদের জন্য মুশকিল। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম গতকাল শুক্রবার বলেন, সাংগঠনিক কাজের সুবিধার্থে আমরা একটা সময় ধরে নিয়ে কাজ করি। তবে ওই সময়ের মধ্যেই করতে হবে বিষয়টা এমন নয়। বিষয়টা এভাবে বলা যায়, যত দ্রুত সম্ভব আমরা কমিটির কাজ করব। সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, সম্মেলনের কাজ আমরা অনেক আগেই শুরু করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে গণজমায়েত থেকে একটু দূরে ছিলাম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে ক্রমান্বয়ে আমরা কমিটির কাজে হাত দেব।
জানা গেছে, শুধু আওয়ামী লীগেই নয়, দলের ভ্রাতৃপ্রতীম ও সহযোগী সংগঠনেও এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশ মোতাবেক সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে। সদস্য সংখ্যা বাড়াতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১০১ সদস্যের কমিটি গঠনেরই নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন বলেন, শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ এগিয়ে এনেছি। শোকাবহ আগস্টের কার্যক্রম শেষ হলে কমিটির কাজে আরও গতি আসবে। আশা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কমিটি দিতে পারব। দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তারেক সাঈদ বলেন, আমরা কাজ করছি। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়ে যাবে বলে আশা রাখি। মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজও শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে। ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন হয়। ওইদিনই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের চার শীর্ষ নেতার নাম ঘোষণা করা হয়। এর পর প্রায় দুই বছরেও মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।
কমেন্ট বক্স