মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আতঙ্ক কাটেনি, কী হবে আফগানিস্তানে

  • আপলোড তারিখঃ ১৮-০৮-২০২১ ইং
আতঙ্ক কাটেনি, কী হবে আফগানিস্তানে
দেশ ছাড়তে পাকিস্তান সীমান্তে ভিড়, আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা, জাতিসংঘের বৈঠক সমীকরণ প্রতিবেদন: তালেবানের কাবুল দখলের পর বিশ্বজুড়ে চলছে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা। কেমন হবে তাদের সরকার, কেমন হবে তালেবানের আচরণ, এবারের তালেবান কি আগের মতোই হবে নাকি নতুন চেহারায় আসবে, সাধারণ আফগানদের কী হবে, দেশ ছাড়তে আগ্রহীদের ভবিষ্যৎ কী, নারীদের ক্ষেত্রে কী হবে, আফগানিস্তান কি আবার বিশ্বের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে উঠবে- এসব নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলছে বিশ্বজুড়ে। পাশাপাশি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলছে এত দিন ধরে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো তাহলে আফগানিস্তানের কী করল। প্রশ্ন থাকলেও সঠিক উত্তর নেই কারও কাছে। সবার অপেক্ষা তালেবানের নতুন সরকার গঠনের গতিপ্রকৃতির দিকে। ধারণা করা হচ্ছে, তালেবানের কিছু শীর্ষ নেতা শিগগির কাবুলে একটি সংবাদ সম্মেলন করে নতুন সরকার এবং দেশটির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা জানাবেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্যানুসারে কাবুল দখলের পর আফগানিস্তানের জনজীবন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে তালেবান। তবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। দেশ ছাড়তে মরিয়া সাধারণ আফগানরা পথ খুঁজছেন বের হওয়ার। অনেকে ভিড় করেছেন পাকিস্তান সীমান্তে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা তাদের হয়ে কাজ করা আফগানদের সেখান থেকে বের করার জন্য চেষ্টার কথা বললেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আফগানিস্তানে সরকার গঠনের আলোচনা। তালেবানের পক্ষ থেকে নতুন সরকারে নারীদের অংশগ্রহণ রাখার কথা বলা হয়েছে। তালেবানের কাবুল দখলের দিন চরম বিশৃঙ্খলার কারণে বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়ে যাওয়ার এক দিন পর কূটনীতিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে আবার কাবুল বিমানবন্দর চালু হয়েছে। সোমবার একাধিক ছবিতে দেখা যায় হাজার হাজার আফগান শহর থেকে পালাতে বিমানে ওঠার জন্য মরিয়া হয়ে রানওয়েতে দৌড়াচ্ছেন। সেখানে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এটা পরিষ্কার নয় যে তারা গুলিতে নাকি পদদলিত হয়ে মারা গেছেন। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। পশ্চিমা একজন নিরাপত্তারক্ষী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আগের দিন যারা এখানে ছিলেন তার অনেকে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যে বিমানবন্দরের দিক থেকে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো থেকে জানা যায়, তালেবান আফগানিস্তানে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা শুরু করেছে। সব সরকারি কর্মচারীকে কাজে ফিরতে বলেছে এবং তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়াবে ধরা পড়লে তাদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান। কাবুলে একটি টিভি অনুষ্ঠানে দেখা গেছে একজন নারী উপস্থাপক একজন তালেবান নেতার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। তালেবান ২০ বছর আগে যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এটা অকল্পনীয় ছিল। প্রথম সারির টিভি চ্যানেল তোলো নিউজ তাদের এক নারী সংবাদদাতার ছবি টুইট করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে রিপোর্টিং করছেন। তবে কাফেতে, দোকানে বা গাড়িতে এখন আর কোনো গান বাজতে শোনা যাচ্ছে না। বড় বড় পোস্টারে বা বিজ্ঞাপনে যেসব নারীর মুখ আছে সেগুলো রং দিয়ে মুছে দেওয়া হচ্ছে। তালেবান যোদ্ধারা লুটপাটে জড়িত রয়েছেন এ রকম খবরের পর তালেবানের উপনেতা মোলাভি ইয়াকুব এক অডিওবার্তা জারি করেছেন। তাতে তালেবান যোদ্ধাদের কারোর বাড়িতে প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাবুলের জীবনযাত্রা এখন কেমন: কাবুল থেকে বিবিসির প্রতিবেদক বলেছেন, ‘শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা, খুব একটা গাড়ি চলতে দেখা যাচ্ছে না। মানুষজন ভীত এবং যে কোনো সময় কিছু একটা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তাই সবাই ঘরের ভিতরেই থাকছেন। খোলা কয়েকটি মুদি দোকান থেকে মালামাল কিনতে পারছেন মানুষজন, কিন্তু বড় মার্কেট ও শপিং মলগুলো বন্ধ রয়েছে। কয়েকদিন ধরেই ডলারের বিনিময়মূল্য অনেক বেড়েছে। ফলে আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় আফগানিস্তানে সম্প্রতি সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। বাইরে যাওয়া এবং মানুষজনের সঙ্গে কথা বলার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এমনকি ভিডিও করাও যাচ্ছে। আমি গতকাল ভেবেছিলাম আমাকে হয়তো ভিডিও করতে বা মানুষজনের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হবে না। কিন্তু আমাকে কোথাও বাধা দেওয়া হয়নি অথবা জিজ্ঞেস করা হয়নি আমি কে বা কেন আমি এটা করছি। শহরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে তালেবান, এমনকি যান চলাচল ব্যবস্থারও। তাদের সব জায়গায় দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি মোড়ে তারা দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারা যে শহরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সেটা তারা নিশ্চিত করছে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। জিজ্ঞেস করেছি কেন তারা এখানে এবং এখন তারা কী কাজ করছে? তারা বলেছে তারা শহরের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। তারা যানবাহন তল্লাশি করছে, বিশেষ করে তাদের তালেবান সহকর্মীদের। আমি জানতে চেয়েছি তার কারণ কী? তারা বলেছে এসব গাড়ি এর আগে সরকারি কর্মকর্তারা ব্যবহার করতেন এবং সেখানে মালামাল লুটকারীরা থাকতে পারে, যারা তালেবানের নাম খারাপ করছে। তবে পরবর্তীতে কী হতে চলেছে তা কেউ জানে না।’ আলোচনার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের: বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আফগানিস্তানে ঐক্যবদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিনিধিত্বমূলক এবং নারীদের সমান ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আলোচনার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সোমবার বৈঠক করে আফগানিস্তানে অবিলম্বে সকল প্রকার সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ১৫ সদস্যের এ পরিষদ। আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা: কাবুল বিমানবন্দরের দৃশ্য সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ উড়োজাহাজে দেশত্যাগের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এ দৃশ্য নিয়ে আমেরিকার সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা চলে। ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান পার্টির নেতারা একজোট হয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশৃঙ্খলার জন্য তারা বাইডেনকে দোষারোপ করছেন। মার্কিন সেনা উপস্থিতিতে তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার বিষয়টি আমেরিকানদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি বাইডেনের পদত্যাগ দাবি করেছেন। গভীর বেদনার কথা জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। আফগান যুদ্ধে যেসব আফগান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছেন তাদের দ্রুত উদ্ধার করার আহ্বান জানিয়েছেন বুশ। তোপের মুখে থাকা প্রেসিডেন্ট বাইডেন জাতির উদ্দেশে ভাষণে উত্তর দিয়েছেন অনেক সমালোচনার। ভাষণে বাইডেন পরিস্থিতির জন্য কিছু দায় নিজের ওপর নিয়েছেন এবং কিছু দায় দিয়েছেন তার পূর্বসূরিদের ওপর। প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করে সমঝোতা করে গেছেন। সে অনুযায়ীই সব হয়েছে। তবে এমন দ্রুততার সঙ্গে পুরো আফগান পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠবে বলে তাঁর ধারণা ছিল না। তবে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত বাইডেন নিয়েছেন তা সঠিক বলে দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি। বাইডেন বলেন, ২০ বছরের আফগান যুদ্ধে বেশ মূল্য দিয়ে অনেক শিক্ষা হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের জন্য কোনো সময়ই ভালো ছিল না। সেনা প্রত্যাহারের কারণে যে কোনো ধরনের আকস্মিকতা মোকাবিলার জন্য তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা করে রাখা হয়েছিল। আরও কিছুদিন আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির কোনো ব্যতিক্রম ঘটত না। কাবুলে থাকল তিনটি দূতাবাস: সর্বশেষ দেশ হিসেবে আফগানিস্তান ছেড়ে এসেছে ভারত। বিশেষ বিমানে কাবুল দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রদূত ও অন্য কর্মীদের সরিয়ে এনেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিদেশি দূতাবাসগুলো চলে যাওয়ার ফলে কাবুলে অবশেষে তিনটি দেশের দূতাবাস থাকছে। এগুলো হলো রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তান। ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে তারা দেশটিতে ছোট একটি কূটনৈতিক মিশন রাখবে, যদিও তারাও দূতাবাস খালি করে ফেলছে। ইরানও জানিয়েছে তাদের দূতাবাস থাকবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী