মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা দায়ের : গ্রেপ্তার তিন

  • আপলোড তারিখঃ ১৮-০৮-২০২১ ইং
কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা দায়ের : গ্রেপ্তার তিন
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে অবজারভেশনে সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিম নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিম। তাঁর জখমের স্থানে দেওয়া হয়েছে দুইশতাধিক সেলায়। এই সেলায়ের স্থানে ইনফেকশনের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাঁর শরীরের বেন্ডেজ খোলা হবে, এর পূর্বে ডালিম শতভাগ শঙ্কামুক্ত কিনা না নিয়ে অনিশ্চিত চিকিৎসকেরা। এদিকে, চিকিৎসাধীন ডালিমের সুরক্ষায় ও যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাঁর কেবিনের সামনে সামনে ২৪ ঘণ্টা দুজন পুলিশ সদস্যকে নিযুক্ত করেছে জেলা পুলিশ। এদিকে, ডালিমকে কুপিয়ে জখম ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর বড় ভাই আরিফ বাদী হয়ে অভিযুক্ত তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার দিন রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মামলার প্রধান আসামি ও মামলার পরে দুপুরেই অভিযান চালিয়ে শহরের নূরনগর কলোনীপাড়া থেকে মামলার অপর দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে উদ্ধার হয়নি হত্যা চেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্র। আটককৃতরা হলেন- মামলার প্রধান আসামি চুয়াডাঙ্গা শহরের ইমারজেন্সি সড়কের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক স্কুল ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রলীগের প্রস্তাবিত কমিটির অন্যতম সদস্য রাজু আহমেদ (২৪), চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের ফেরিঘাট সড়কের আব্দুল সাত্তারের ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী জান্নাত হোসেন (২৩) ও একই এলাকার নজরুল লতিফের ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী আল মমিন (২২)। মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে। জানা যায়, গত সোমবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিমকে দু’দফা কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করে রাজুর আহমেদসহ তার নেতৃত্বে জান্নাত হোসেন ও আল মমিন অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন। ঘটনার দিন রাতেই ঘটনাস্থল থেকে হত্যাচেষ্টাকারী প্রধান আসামি রাজু আহমেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে, সাংবাদিক ডালিমের সহকর্মীরা খবর পেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন রোগীর স্বজদের সহযোগিতায় ডালিমকে জরুরি বিভাগে নেয়। সাংবাদিক ডালিমের জখম গুরুতর হওয়ায় ও জখমের স্থান থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাঁর শরীরে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে অবজারভেশনে রাখা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক ডালিম হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ৬ নম্বর কেবিনে সার্জারি কনসালটেন্ট এহসানুল হক তন্ময়ের তত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল। এবং সাংবাদিক ডালিমের ওপর আবারও কোনো হামলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ৬ নম্বর কেবিনের সামনে দুজন পুলিশ সদস্য দুই শিফ্টে ২৪ ঘণ্টা নিয়জিত ছিল। সাংবাদিক ডালিমের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে সদর হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময় বলেন, ‘গুরুতর জখম সাংবাদিক ডালিমকে জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। ডালিমের জখম স্থানে দুই শতাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে, ক্ষতস্থানের সেলাইগুলোতে ইনফেকশন হলে তা রোগীর জন্য মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ডালিমের ক্ষতস্থানের সেলাইগুলোতে ইনফেকশন হবে কীনা তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। আগামী বৃহস্পতিবার তাঁর শরীর থেকে ব্যান্ডেজ খুলে ড্রেসিং করা হবে। ব্যান্ডেজ খোলার দিনও এক ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। ডালিমের পরিবারের সদস্যদেরকে আরও এক ব্যাগ রক্ত প্রস্তুত রাখার জন্য বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তাঁর শরীরের প্রতিটা জখম অত্যান্ত গুরুতর, অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রেফার্ডও করা হতে পারে।’ চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, ‘ঘটনায় দিন রাতেই ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়। আজ (গতকাল) মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে সাংবাদিক ডালিমের বড় ভাই বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। মামলার এক ঘণ্টার মধ্যেই মামলার এজহারভুক্ত অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ এছাড়াও ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান তাঁর নিজ ফেসবুক পেজে সাংবাদিক ডালিমের একটি ফাইল ছবি, একটি চিকিৎসাধীন অবস্থার ছবি ও আটক তিনজনের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘১৬ই আগস্ট চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাধীন আব্দুল্লাহ্ সিটির সামনে রাত পৌনে আটটার সময় দৈনিক সময়ের সমীকরণ এর স্টাফ রিপোর্টার সোহেল রানা ডালিম এর সাথে ছাত্রনেতা রাজুর মোটর সাইকেলের পিছনে ধাক্কা লাগা নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে প্রথমত ডালিম কে ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে জখম করা হয়। এসময় দ্রুত রক্তাক্ত জখম অবস্থায় সাংবাদিক ডালিম চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যায়। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপস্থিতিতেই রাত সোয়া আটটার দিকে দ্বিতীয়বারের মত চিকিৎসারত সাংবাদিক ডালিমের উপর উক্ত রাজুর নেতৃত্বে কতিপয় দুর্বৃত্ত অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও ন্যাক্কারজনকভাবে সশস্ত্র হামলা করে। মামলার এক ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় তিন আসামী রাজু, মোমেন, জান্নাতসহ তিন জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং স্পর্শকাতর। সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে মামলাটির তদন্ত চলছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী