চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরে করোনা ও উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু
- আপলোড তারিখঃ
১৫-০৮-২০২১
ইং
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭৮ জনের প্রাণহানি, শনাক্ত ৬ হাজার ৮৮৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত আরও ১৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে মোট ২৩ হাজার ৯৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৬ হাজার ৮৮৫ জন। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত কারও মৃত্যু না হলেও সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে ও হোম কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ২৬ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিকে, গতকাল মেহেরপুরে নতুন করে আরও ২১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত ও উপসগে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীর অবস্থায় একজন ও হোম আইসোলেশনে অপর একজনের মৃত্য হয়। গতকাল জেলায় নতুন করে ২৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৮৮ জনে।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার ১৭৯টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ২৬টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ১৫৩টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ৬৬.৯৯ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সদর উপজেরার ১১জন, আলমডাঙ্গার ৪ জন, দামুড়হুদার ৮ জন ও জীবননগরের ৩ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে আরও ৮৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৫ হাজার ১৭৭জন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্য হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় ইয়োলো জোন থেকে এইচডিইউ ইউনিটে নেওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর নিহতদের শরীরে থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ শেষে করোনা প্রটোকলে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৮০ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ২০ জনের। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়েছেন বাকী ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২৪ হাজার ৮৬২টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২৪ হাজার ৮৮১টি, পজিটিভ ৬ হাজার ৪৮৮ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ১১১ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৫১ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৬০ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২০০ জনের। এর মধ্যে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৮০ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ২১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে তিনজের। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত দুজন ও উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে মৃত্যু হয়েছে একজনের। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্ত ২১ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৫ জন, গাংনীতে ১২ জন ও মুজিবনগরের ৪ জন রয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ ল্যাবে পরীক্ষিত আরও ১২১টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ২১টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৭.৩৫ শতাংশ। নতুন আাক্রান্ত ২১ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৯২ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৮৮ জন, গাংনী উপজেলায় ২২১ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৮৩ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৬৭ জনের। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলার ৭৬ জন, গাংনী উপজেলার ৫৩ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩৮ জন রয়েছে।
সারাদেশ:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৩ হাজার ৯৮৮ জনে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ৮৮৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৪ লাখ ১২ হাজার ২১৮ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ৮১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও আগের নমুনাসহ এদিন পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৩৩০টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৬.৮৬ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৮০৫ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৮১ হাজার ৩২৭ জন।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ১৭৮ জনের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩২ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৬০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে চারজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন ও এক বছরের নিচে একজন রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১০৯ জন ও মহিলা ৬৯ জন। যাদের মধ্যে বাসায় চারজন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪ জন, খুলনা বিভাগে ২৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৭ জন, সিলেট বিভাগে ১১ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
কমেন্ট বক্স