চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত দুজন ভর্তি
- আপলোড তারিখঃ
১৪-০৮-২০২১
ইং
মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু সংক্রমণ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। সারা দেশের মধ্যে এই সংক্রমণ ঢাকা বিভাগে সর্বাপেক্ষা। তবে কর্মসূত্রে যারা বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় থাকেন, তাঁদের মধ্যে কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিতে চলে যান নিজ জেলায়। চলতি মাসে এ বছরে প্রথম দুজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। দুজনেই ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় ডেঙ্গু জরে আক্রান্ত হন।
তাঁদের মধ্যে রুহুল আমিন (২২) নামের এক যুবক চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে টানা পাঁচ দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় তাঁকে সদর হাপসাতাল থেকে সুস্থ্যতার সনদ দিয়ে ছুটি দেওয়া হয়। রুহুল আমিন দামুড়হুদা উপজেলার সদর ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
জানা যায়, রুহুল আমিন ঢাকা মহাখালীর জননী কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করেন। গত জুলাই মাসের ২৮ তারিখ জ্বরে আক্রান্ত হন রুহুল আমিন। এসময় মহাখালীর নিজ ভাড়া বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন তিনি। টানা ১০ দিন চিকিৎসা নিয়েও জ্বর না কমায় মনে সন্দেহ হলে চলতি মাসের ৬ তারিখ মহাখালীর মেট্রোপলিটন মেডিকেল সেন্টারে তিনি ডেঙ্গু পরীক্ষা করান। পরীক্ষার ফলাফলে তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন নিশ্চিত হয়ে ওই দিনই নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গায় ফিরে এসে ৭ আগস্ট দুপুরে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সদর হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন বিভাগে টানা ৫ দিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠলে গতকাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে সুস্থতার সনদ দিয়ে ছাড়পত্র দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল আমিন বলেন, ‘ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় জ্বরে আক্রান্ত হয়। এমনিতেই করোনা নিয়ে ভয়ে ছিলাম। ১০ দিনেও জ্বর না কমায় পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে ডেঙ্গু পরীক্ষা করায়। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় আমি ডেঙ্গু আক্রান্ত। ঢাকায় আমার সেবা করার কেউ নেই, হাসপাতালে বিছানা পাব কি না, তাও জানি না। যে কারণে আমার নিজ পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এখানে (চুয়াডাঙ্গায়) চলে আসি। এখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছি। চিকিৎসক আজ আমাকে ছুটি দিয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম বলেন, ‘এ মাসে সদর হাসপাতালে দুজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুজনেই ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে এসেছেন। এর মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠায় একজনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। অন্য একজন মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ আছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলে ওয়ার্ডের মধ্যেই ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ডেঙ্গু জোন করা হতে পারে।
কমেন্ট বক্স