চুয়াডাঙ্গায় আইসিইউ কার্যক্রমের অদ্যোপান্ত
- আপলোড তারিখঃ
৩০-০৭-২০২১
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অবশেষে চুয়াডাঙ্গাবাসী পাচ্ছে আইসিইউ। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর দীর্ঘ দৌঁড়ঝাপের পর সাজেদা ফাউন্ডেশন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে ৪৪ জনের জনবল নিয়ে ৬ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছে। ২০২০ সালের মার্চে চুয়াডাঙ্গায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসী বিভিন্নভাবে আইসিইউ স্থাপনের দাবি জানায়। সবশেষে আগামীকাল শনিবার থেকে আইসিইউ সেবা পাবে চুয়াডাঙ্গাবাসী। তবে চুয়াডাঙ্গায় আইসিইউ পেতে কিন্তু কম দৌঁড়ঝাপ হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা করা লেগেছে আর চালাচালি করতে হয়েছে বেশ কয়েকটি চিঠি।
জানা গেছে, ২০২০ সালের মার্চে চুয়াডাঙ্গায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসী বিভিন্নভাবে আইসিইউ স্থাপনের দাবি জানায়। সে সময় চুয়াডাঙ্গা অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠন, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, লোকমোর্চাসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কাছে আইসিইউ-এর দাবি জানায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে এ দাবি বারবার তোলা হয়। জেলা পর্যায়ে করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির সভায় সাংবাদিকসহ এ কমিটির সদস্যরা এইবিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। করোনা প্রতিরোধে চুয়াডাঙ্গার দায়িত্বে থাকা খাদ্যসচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরাও আইসিইউ-এর বিষয়ে বলেন। দাবিটি দীর্ঘদিনের হলেও নানা জটিলতায় সরকারিভাবে চুয়াডাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি জেলাতে এখনো আইসিইউ স্থাপন হয়নি।
এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাভাইরাসের শুরু থেকেই জেলায় আইসিইউ স্থাপনের দাবিটি ওঠে। প্রথম থেকেই প্রশাসন থেকে চিঠি ও মৌখিকভাবে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য মন্ত্রাণলয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের ডিও লেটারও দেন। সেই ডিও লেটার সাথে দিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারও বেশ কয়েকবার চিঠি দেন মন্ত্রণালয়কে।
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় আইসিইউ’র প্রয়োজন বেশি। সরকার সব জেলাতেই আইসিইউ করার ঘোষণা দিয়েছে। সরকারি কাজে বিভিন্ন প্রক্রিয়া থাকায় সে কাজে একটু সময় লেগে যায়। তবে মন্ত্রণালয়ে বারবার জানানোর কারণে মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানায়।
অপর দিকে, বড় বড় কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা তাদের লাভের একটা অংশ মানবিক কাজে ব্যবহার করে। সাজেদা ফাউন্ডেশন সারা দেশেই বেশ ভালো মানবিক কাজ করে থাকে। তাদেরকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার বিষয়টি জানানোর পর সাজেদা ফাউন্ডেশনের তিনজন প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের সাথে যোগাযোগ করার পর তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল সিভিল সার্জনের সাথে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরে তাঁরা সরকারের অনুমতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে দুই মাসের চুক্তি করে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৬ বেডের আইসিইউ স্থাপনের কাজ শুরু করেছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, চুয়াডাঙ্গাবাসী এই সংকটকালীন সময়ে আইসিইউ পাচ্ছে, সেটি বড় কথা। করোনাকালে চুয়াডাঙ্গাবাসী আইসিইউ পেলে ভালো সেবা পাবে। সরকারিভাবে প্রত্যেকটি জেলাতেই আইসিইউ হবে। সেটিও দ্রুতই শুরু হবে।
জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার সাজেদা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, সাজেদা ফাউন্ডেশন মানবিক কাজ করে থাকে। তাদের সাথে কথা হয়েছে, যে দুই মাসের চুক্তি করা হয়েছে, তার মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় করোনা সংক্রমণ কমে আসলে খুবই ভালো। যদি না কমে, তাহলে তারা হয়ত আরও কিছুদিন চুক্তি বাড়াতে পারে।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. মারুফ হাসান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রথম থেকেই নারায়ণগঞ্জে সাজেদা ফাউন্ডেশন চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। করোনার রোগী নিয়ে তাদের সাথে আমার বেশ পরিচয় ছিল। যশোরে তাদের আইসিইউ সেবা দেওয়ার কথা জেনে, আমি সাজেদা ফাউন্ডেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তরিকুলের সাথে আমি যোগাযোগ করি। তিনি যশোর থেকে প্রতিনিধি পাঠান এবং তাঁরা হাসপাতাল পরিদর্শন করে যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে চুক্তি করে সাজেদা ফাউন্ডেশন চুয়াডাঙ্গায় আইসিইউ সেবা দিবে।’
এবিষয়ে সাজেদা ফাউন্ডেশনের করোনা ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাফিজ উল্লাহ সানি বলেন, সাজেদা ফাউন্ডেশন করোনা মহামারি মোকাবিলায় প্রথম থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও কার্যক্রম হাতে নেয় সাজেদা ফাউন্ডেশন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের চতুর্থ তলায় আইসিইউ স্থাপন কাজ শুরু করা হয়েছে। শনিবার থেকেই আমরা এখানে আইসিইউ সাপোর্ট দিতে সক্ষম হবো। তবে যেহেতু আমাদের চিকিৎসকসহ ৪৪ জন এখানে চলে এসেছেন। তাঁরা সকলেই শনিবার পর্যন্ত করোনা ইউনিটে কাজ করবে। আইসিইউ চালু হবার পর তাঁরা সেখানে যোগ দেবেন। সাজেদা ফাউন্ডেশন আইসিইউ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সামগ্রী, জনবল ও আইসিইউ পরিচালনার ক্ষেত্রে সকল আর্থিক সহায়তাও বহন করবে।
তিনি আরও জানান, আপাতত তারা দুই মাসের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করেছেন। দুই মাস পরেও যদি চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না আসে, তবে এ চুক্তির মেয়াদ বাড়তে পারে।
এদিকে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চুয়াডাঙ্গায় আইসিইউ স্থাপন হওয়ায় জেলার সুধী মহলের মানুষেরা সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। সংকটকালীন সময়ে প্রিয়জন হারানোর কঠিন মুহূর্তে কিছুটা স্বস্তির খবরই বটে, আইসিইউ সেবা। তবে অনেকেই দাবি জানিয়েছেন, সাজেদা ফাউন্ডেশনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থায়ীভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করতে হবে।
কমেন্ট বক্স