মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

করোনায় আবারও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

  • আপলোড তারিখঃ ২৮-০৭-২০২১ ইং
করোনায় আবারও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড
চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে করোনা ও উপসর্গে ১২ জনের প্রাণহানি সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৫৮ ও শনাক্ত ১৪ হাজার ৯২৫ নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ডের একদিন পরে করোনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সারাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছে আরও ১৪ হাজার ৯২৫ জনের শরীরে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫৪ জনের শরীরে। গতকাল মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ জন। চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত দুজন ও উপসর্গ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সদর হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটের রেড জোনে ও ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই পাঁচজনের। অন্য নিতজনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গে নিজ বাড়িদে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৫৪ জনের শরীরে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯০৯ জনে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালের রেড জোন আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে দুজনের। এছাড়াও গতকাল সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত ২১৫টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৫৪টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ১৬১টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ২৫.১১ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ৫৪জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২০জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৫ জন ও জীবননগর উপজেলার ১৫ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে আরও ১১৮ জন সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৮৩০ জন। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২১২টি নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত দুজন ও উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর নিহত নিহতদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। উক্তা নমুনাগুলি কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার জন্য পেরণ করা হবে। গতকালই করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে জেলায় আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৫৬ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৭ জনের। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২১ হাজার ৬৮২টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২১ হাজার ৫৪০টি, পজিটিভ ৫ হাজার ৯০৯ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৯২২ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৮০৪ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ১১৮ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭৩ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৫৬ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। মেহেরপুর: মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রাত নয়টায় মেহেরপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জিন এক্সপার্ট ল্যাবে পরীক্ষিত ১৯৩টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে এর মধ্যে ৪৬টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্ত ৪৬ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২৪ জন, গাংনী উপজেলার ১২ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ১০ জন রয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৩.৮৩ শতাংশ। মেহেরপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় মোট পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৫৬৪ জন। এর মধ্যে সদরে ১৪১ জন, গাংনীতে ৩১২ ও মুজিবনগরে ১১১ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মারা গেছেন মোট ১৩১ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৫৭ জন, গাংনী ৪৬ জন ও মুজিবনগরে ২৮ জন। সারাদেশ: দেশে করোনা ভাইরাস মহামারি যেন স্থায়ী বসবাস শুরু করেছে। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ভাইরাসটির শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৯ হাজার ৭৭৯ জনে। এর আগে গতকাল ২৬ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৪ হাজার ৯২৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ হাজার ১৫৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে দেশের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ পরীক্ষা করা হয়েছে ৫২ হাজার ৪৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যেখানে শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৪৩৯ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৪১৪ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২৫৮ জনের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৫০ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭৮ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮ জন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২ জন রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১৩৮ জন ও মহিলা ১২০ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৫ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬১ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১ জন, খুলনা বিভাগে ৫০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩ জন, সিলেট বিভাগে ৭ জন, রংপুর বিভাগে ১১ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১১ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী