করোনায় করুণ অবস্থা, মৃত্যু আর মৃত্যু!
- আপলোড তারিখঃ
১৮-০৭-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৯ জনের প্রাণহানি
২৪ ঘণ্টায় দেশে আবারও করোনায় দুই শতাধিক মৃত্যু, আক্রান্ত ৮ হাজার ৪৮৯
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আবারও দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু হয়েছে ২০৪ জনের। নতুন করে আরও করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৮ হাজার ৪৮৯ জনের শরীরে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২৮ জনের শরীরে। গতকাল মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ জন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ছয়জন ও উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনসহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ১২৬ জনের শরীরে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ চুয়াডাঙ্গার ৪২২টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১২৬টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ ও ২৯৬টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। জেলায় নতুন আক্রান্ত ১২৬ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৫৮ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ২১ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ২৩ জন ও জীবননগরের ২৪ জন রয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৯.৮৫ শতাংশ। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩৩৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ২ হাজার ২৯৯ জন, আলমডাঙ্গার ৯১২ জন, দামুড়হুদায় ১ হাজার ১০৭ জন ও জীবননগরে এক হাজার ২২ জন। গতকাল জেলায় নতুন ১৩২ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৭৬ জন।
গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫৯ জনের। এর মধ্যে ১৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলায় ও করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। এদিকে, এখন পর্যন্ত জেলায় চিকিৎসা সেবা কাজে নিয়জিত ৮৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়ে তাঁদের কর্মস্থলে পুনঃরায় যোগদান করেছেন। অন্য ১৩ জন প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গতকাল সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার রোক্সেয়া বেগম (৫৪), দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের রমজান আলীর মেয়ে নারগিছ বেগম (৫৫), একই উপজেলার দলিয়ারপুর গ্রামের করিম হোসেনের ছেলে আজিজুল হকসহ (৬৭) পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও গতকাল জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের।
গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে মৃত্যু হওয়া অন্য দুজন হলেন- চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার থানা কাউন্সিলপাড়ার আশরাফ আলীর মেয়ে মমতাজ (৪০) ও সদর উপজেলার দিননাথপুর গ্রামের ভিকু মোল্লার মেয়ে রুশিয়া (৫০)।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতাল আইসোলেশনসহ জেলায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ও করোনা আক্রান্ত অন্য এক জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। এছাড়াও ইয়োলো জোনে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও দুজনের। মৃত্যুর পর করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। করোনায় মৃত্যু হওয়া নতুন পাঁচজনসহ জেলায় আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৪২ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৭ জনের।
জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য গত বুধবার ৪৭৮টি, বৃহস্পতিবার ৪৩৮টি ও শুক্রবার ৫৪টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ৪২২টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ আরও ৩৮৬টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১৯ হাজার ৪২১টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১৯ হাজার ১১৯টি, পজিটিভ ৫ হাজার ৩৩৫ জন। জেলায় বর্তমানে ২ হাজার ১০০ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৯৭২ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ১২৮ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫৯ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৪২ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রাত নয়টায় মেহেরপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জিন এক্সপার্ট ল্যাবে পরীক্ষিত ২৭৩টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে এর মধ্যে ৮২টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্ত ৮২ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ১৩ জন, গাংনী উপজেলার ৫৬ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ১৩ জন রয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩০.০৩ শতাংশ। মেহেরপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় মোট পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৮০৫ জন। এর মধ্যে সদরে ২০৮ জন, গাংনীতে ৪৯৯ ও মুজিবনগরে ৯৮ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মারা গেছেন মোট ৯৫ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৪১ জন, গাংনী ৩৪ জন ও মুজিবনগরে ২০ জন।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩৬ জনের শরীরে। ঝিানাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২ জন ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৪ জন। এছাড়াও শহরের ইসলামীয়া হাসপাতালে ও চাকলাপাড়ায় উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২ জন। এদিকে গত শুক্রবার সকালে আসা ৭১০ টি নমুনার ফলাফলে ২৩৬ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৮.০২ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাড়ালো ৬ হাজার ২৭৫ জনে। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছে আরও ৩০ জন।
সারাদেশ:
সারাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৭ হাজার ৬৬৯ জনে। এর আগে, ১১ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৮ হাজার ৪৮৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে । এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১০ লাখ ৯২ হাজার ৪১১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ হাজার ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও ২৯ হাজার ২১৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যেখানে শনাক্তের হার ২৯.০৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৮২০ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৯ লাখ ২৩ হাজার ১৬৩ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২০৪ জনের মধ্যে ১০০ বছরের বেশি বয়সী একজন। ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৫১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দুইজন রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১২৫ জন ও মহিলা ৭৯ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ২ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২০ জন, খুলনা বিভাগে ৪৯ জন, বরিশাল বিভাগে ৫ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, রংপুর বিভাগে ১০ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
কমেন্ট বক্স