চুয়াডাঙ্গায় করোনা ও উপসর্গে আরও পাঁচজনের মৃত্যু
- আপলোড তারিখঃ
০১-০৭-২০২১
ইং
বেড়েই চলেছে সংক্রমণ, মেহেরপুরে নতুন ৬৬ ও চুয়াডাঙ্গায় ৮৬ জন আক্রান্ত
দেশে টানা চার দিন শতাধিক মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৮২২ জন শনাক্ত
সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৮২২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটিই দেশে একদিনে করোনায় শনাক্তের রেকর্ড। এর আগে ২৮ জুন দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৩৬৪ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৪ হাজার ৫০৩ জনে। গত চারদিনে টানা শতাধিক মৃত্যু দেখলো দেশ। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন ৮ হাজার ৮২২ জনসহ দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ লাখ ১৩ হাজার ২৫৮ জনে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ হাজার ৮৬ নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৫ হাজার ১০৫টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৫৫০ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ১৬ হাজার ২৫০ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ১১৫ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ ৫৭ জন। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে চারজন রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৭২ জন ও মহিলা ৪৩ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ৯ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১১৫ জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩০ জন, ঢাকায় ১৭ জন, চট্টগ্রামে ২৩ জন, রাজশাহীতে ২৩ জন, সিলেটে তিনজন, রংপুরে ১১ জন, ময়মনসিংহে ছয়জন ও বরিশালে দুইজন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে বেড়েই চলেছে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ। গতকাল জেলায় নতুন করে আরও ৮৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত চুয়াডাঙ্গার ২১২টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৮৬টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ ও ১২৬টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। জেলায় নতুন আক্রান্ত ৮৬ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ১৪ জন, আলমডাঙ্গার ২৬ জন, দামুড়হুদার ২০ জন ও জীবননগর উপজেলার ২৬ জন রয়েছেন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের ৪০.৫৬ শতাংশ। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৪০৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৪৯৯ জন, আলমডাঙ্গার ৫৪৬ জন, দামুড়হুদায় ৮০০ জন ও জীবননগরে ৫৫৯ জন।
গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা শতকের ঘর ছাড়িয়েছে দাঁড়িয়েছে ১০৪ জনে। এর মধ্যে জেলায় অবস্থানকালে মৃত্যু হয়েছে ৯১ জনের ও জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। গতকাল জেলা থেকে আরও ১০৮ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ২৮১ জন। গতকাল উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের।
গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের রেড জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া দুজন হলেন- চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের হক (৬৩), দামুড়হুদা উপজেলার হুমায়ুন কবির (৪০)।
করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া তিনজন হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের এনামুল হক (৮০), একই উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩৬), দামুড়হুদা উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের মৃত পরিনতের ছেলে হাসেম আলী (৭০)।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল বুধবার সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত দুজন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। করেনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া প্রত্যেকের শরীর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মৃত্যুর পর করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য গত রোববার ২৭৯টি, গত সোমবার ২৬৮টি ও মঙ্গলবার ১৩৫টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ২১২টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ আরও ১৯৬টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১৩ হাজার ৮৭২টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১৩ হাজার ৫৬টি, পজিটিভ ৩ হাজার ৪০৫ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ১৯ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ৯৪৫ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৭৪ জন। গতকাল বুধবার করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ৩৩ জন, আলমডাঙ্গায় ২০ জন, দামুড়হুদায় ২৭ জন ও জীবননগরে ১১ জনসহ ৯১জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে করোনায় প্রতিনিয়তই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। মহামারি করোনাভাইরাসে মেহেরপুরে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসোলেশনে ৩ জন ও করোনা ওয়ার্ডে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ২ জন ও নারী ২ জন।
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৬৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ২৬ জন, গাংনীতে ৩৫ জন এবং মুজিবনগরে ৫ জন। গতকাল নতুন প্রাপ্ত রিপোর্ট ১৪২টি। তারমধ্যে ৬৬জন করোনা পজিটিভ। এনিয়ে বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা পজেটিভ এর সংখ্যা ৫১৪ জন। তার মধ্যে সদরে ১৯৬ জন, গাংনীতে ২২১ জন এবং মুজিবনগরে ৯৭ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মারা গেছেন ৫১ জন। মৃতদের মধ্যে সদরে ১৯ জন, গাংনী ২০ জন ও মুজিবনগরে ১২ জন।
গতকাল বুধবার রাতে মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া মেহেরপুর পৌর এলাকার শেখপাড়ার হায়াত শেখের স্ত্রী রশিদা খাতুন (৭০), মুজিবনগর উপজেলার যতারপুর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে পলাশ (৫৫) একই উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের মোহর আলী ছেলে শাহাব উদ্দিন (৭০) এবং গাংনীর ফরমানের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৫) মৃত্যুবরণ করেন।
কমেন্ট বক্স