মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গাংনীতে লকডাউন মানছে না করোনাক্রান্ত পরিবার

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০৬-২০২১ ইং
গাংনীতে লকডাউন মানছে না করোনাক্রান্ত পরিবার
লকডাউন বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য, প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়হীনতা গাংনী অফিস: কোনটি করোনা আক্রান্ত বাড়ি আর কোনটি সাধারণ বাড়ি, দেখে বোঝার উপায় নেই। নেই কোনো লকডাউনের চিহ্ন। সবাই একসাথে চলাফেরা করছেন। নিয়মিত করছেন নিত্যদিনের কেনাকাটা। ফলে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনাক্রান্তদের বাড়িতে খোঁজখবর নিতে গেলে নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়লেও উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী কোনো দায়িত্ব পালন করছেন না বলে জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে প্রশাসন বলছে নিয়মানুযায়ী সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে পাওয়া গেছে বিচিত্র সব তথ্য। গেল সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন গাংনীর শিশিরপাড়া গ্রামের গৃহবধূ কোহিনুর। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যাবার পর বিশেষ ব্যবস্থায় লাশ প্যাকিং করে ও একটি মৃত্যুসনদ হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। লাশ কীভাবে দাফন করতে হবে আর কেমনভাবে ওই পরিবারের লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মানবে, সে ব্যাপারে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কেউ তদারকি করেনি। এদিকে একই সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাঁশবাড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ জাহানারা। সাধারণ মানুষের মতোই দাফন-কাফন করা হয়েছে। বাড়িতে আসছেন আত্মীয়-স্বজন। নিজেরাও প্রতিবেশীদের সাথে ভাব আদান প্রদান করছেন। হাট বাজারে যাচ্ছেন নিয়মিত। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন মৃত জাহানারার স্বামী হায়দার আলী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারটির কোনো খোঁজখবরই রাখা হয়নি। কোহিনুর কিংবা গৃহবধূ জাহানারার পরিবার নয়, উপজেলার করোনা আক্রান্ত কোনো পরিবারেই নেই লকডাউনের চিহ্ন। আক্রান্তদের মনিটরিং ব্যবস্থাও অপ্রতুল। স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্তদের বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়ে মাঝে মধ্যে রোগীর অবস্থা কী? তার খবর নিচ্ছেন। এতেও বেশ বিড়ম্বনায় পড়ছেন তারা। রোগী ও তার স্বজনেরা নানা অপমানজনক কথা শোনাচ্ছেন তাদের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। অনেকেই করোনাক্রান্ত রোগী দেখতে আসছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, যারা করোনাক্রান্ত হচ্ছেন, ওই পরিবারের লোকজন লাল পতাকা নামিয়ে রাখছেন। তাদের যে করোনা হয়েছে, সেটি কাউকে বুঝতে দিচ্ছেন না। রোগের বিষয়টি গোপন রেখে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছেন। নিষেধ করলে ঝগড়া-বিবাদ বাঁধে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো লোক আসে না এদের খোঁজখবর নিতে। মটমুড়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ জানান, মটমুড়া গ্রামের আব্দুল হান্নান করোনাক্রান্ত হয়ে মারা যান গেল মাসে। সে সময় হান্নানের লাশটি তার পরিবারের কাছে ঠিকমতো বুঝিয়েও দিয়ে আসেনি প্রশাসনের কেউ। ওই পরিবারটির ওপর কোনো নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। লাশ দাফন নিয়ে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। তেতুঁলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ওই এলাকাটি অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ। মাসখানেক আগে স্বাস্থ্য, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন যে ভূমিকা নিয়ে লকডাউন করেছিল হিন্দা তেতুঁলবাড়িয়া গ্রাম সে অবস্থা এখন নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ কিছুটা দায়িত্ব পালন করলেও পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের দেখা মেলে না। সাধারণ মানুষের সাথে আলাপকালে বিভিন্ন ক্ষোভ জানিয়েছেন তাঁরা। কয়েকজনের মতে উপজেলা প্রশাসন সন্ধ্যার পর চায়ের দোকান বন্ধে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার কিছু অংশ যদি করোনা আক্রান্ত পরিবারকে ঘরে রাখা ও অবাধ্য লোকজনকে দণ্ড প্রদান করতেন তাহলে এ রোগ বিস্তার কমে যেতো। তেমনি পুলিশ যদি শহর কেন্দ্রিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে যারা করোনা আক্রান্ত, তাদের মনিটরিং করতো তাহলেও সংক্রমণ কমত। মেহেরপুর সিভিল সার্জন নাসির উদ্দীন জানান, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় লকডাউনের সুপারিশ করে জেলা প্রশাসন বরাবর পাঠানো হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগটি লকডাউন করা ছাড়াও নিয়মিত মনিটরিং করছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসন করোনা আক্রান্তদের ঘরে থাকার বিষয়টি নিশ্চিতকরণ জরুরি। করোনা আক্রান্ত পরিবারকে যদি ঘরে না রাখা যায়, তাহলে লকডাউন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা আবশ্যক। গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রহমান জানান, করোনা প্রতিরোধ বা লকডাউনের কারণে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সব সময় পুলিশের একটি টিম প্রস্তুত থাকে। স্বাস্থ্য বিভাগ বা প্রশাসন ডাকলেই ওই টিম তাদের সাথে কাজ করবে। কিন্তু পুলিশকে না জানিয়ে যদি কেউ কোনো কাজ করে সেখানে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দ্বায় পুলিশ নিবে না। পুলিশ সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম জানান, করোনা আক্রান্ত পরিবারের লকডাউন বা বিধি-নিষেধ আরোপসহ সব ব্যাপারে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে প্রশাসন কাজ করছে। নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তারপরও কোনো ঘটনা ঘটলে কেউ যদি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী