চুয়াডাঙ্গায় মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হলো আরও ৯ জন
- আপলোড তারিখঃ
২৭-০৬-২০২১
ইং
নতুন করে জেলায় ১০৬ জন ও মেহেরপুরে ৪৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ
মহামারিতে সারা দেশে আরও ৭৭ জনের প্রাণহানি, শনাক্ত ৪৩৩৪
সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪ হাজার ৫৩ জনে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যেখানে বলা হয়েছে, একই সময়ে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪ হাজার ৩৩৪ জন। এ নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮৩৮ জনে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ১৯ হাজার ৮৪৪ নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ১৯ হাজার ২৬২টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ২৯৫ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৮৫৪ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ৭৭ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ ৩৮ জন। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩ জন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৪৮ জন ও মহিলা ২৯ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ৪ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৭৭ জনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ২০ জন, খুলনায় ১৯, ঢাকায় ১৭, রাজশাহীতে ৯, সিলেট ও রংপুরে ৪ জন করে, ময়মনসিংহে ৩ জন ও বরিশালে ১ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ। গতকাল নতুন করে আরও ১০৬ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে মোট করোনা শনাক্তের শংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ছাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩ জনে। জেলায় প্রতিদিন এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। গতকাল জেলায় হোম আইসোলেমনে একজন ও জেলার বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্য একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুজনই জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হন। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৯৪ জনের। এছাড়াও গতকাল সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সমেয় নতুন নয়জন সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ৬০ জন।
জানা যায়, গতকাল করোনায় মৃত্যু হওয়া দুজন হলেন- আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার কোর্টপাড়ার আব্দুল খালেক (৬৮) ও জীবননগর উপজেলার ধানখোলা গ্রামের ডুবারি (৭০)। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুল খালেকের পরিবারের সদস্যরা জানায় গত ১৮ জুন তিনি করোনা পজিটিভ হন। তারপর হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিন দিন। তারপর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ১ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২৩ জুন তিনি বাড়িতে ফিরে অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় স্থানীয় দারুস সালাম কবরস্থানে করোনা প্রটোকলে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়। এদিকে, জীবননগর উপজেলার ধানখোলা গ্রামের ডুবারি বেগমের মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে অবস্থানকালে। তিনি জীবননগর অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হন।
গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে নিহত সাতজন হলেন- চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়াপাড়ার সাইদদ্দিনের ছেলে ওহুপান আলী (৬০), তালতলাপাড়ার মৃত সৃষ্টি কর্মকারের ছেলে বাসুদেব কর্মকার (৬১), সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ডিহি কৃষ্ণপুর গ্রামের আনারুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম (৪০), দামুড়হুদা উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের আব্দুল হাসেমের স্ত্রী লাখি আক্তার (৪০), একই উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের মৃত সাত্তার হোসেনের ছেলে ওসমান আলি (৬০), একই গ্রামের শামীম হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৪৫) ও দর্শনা বাসস্ট্যান্ডপাড়ার মৃত আব্দুর রশিদের স্ত্রী রেনু বেগম (৭০)।
হাসপাতালের ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ জ্বর, ঠাণ্ডা ও শ্বাসকষ্টসহ করোনার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে গতকাল সকাল ১০টার দিকে ওছুমান আলীকে ভর্তি করে তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। গত ২৫ জুন ভর্তি হন বাসুদেব কর্মকার, গতকাল সকাল সাড়ে আটটায় তাঁর মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ভর্তি হন আয়েশা বেগম, গতকাল সকাল আটটা ৪০ মিনিটের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। গত ২৪ জুন ভর্তি হন লাখি আক্তার, গতকাল সকাল আটটা ২০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়, গতকাল সকাল ১০টায় ভর্তি হন ওসমান আলি, দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়াও ২৫ জুন ইয়োলো জোনে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় গতকাল বিকেল সোয়া চারটার দিকে মৃত্যু হয় মরিয়ম বেগমের ও গতকাল রাত সৌয়া নয়টায় ইয়োলো জোনে ভর্তি হন রেনু বেগম, ভর্তির ৪৫ মিনিটের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল শনিবার সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন পুরুষ ও চারজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। জ্বর, ঠাণ্ডা ও শ্বাসকষ্টসহ করোনার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি হয় তাঁরা। তাঁদের প্রত্যেকেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। নিহত পাঁচজনের মৃত্যুর আগে ও পরে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মৃত্যুর পর করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও গতকাল আলমডাঙ্গায় হোম আইসোলেশনে করোনা আক্রান্ত একজন ও জেলার বাইরে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্য একজনসহ মোট দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত চুয়াডাঙ্গার ২৫৭টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করেছে জেলা স্বাস্থ বিভাগ। এর মধ্যে ১০৬ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ১৫১টি নমুনার ফলাফল পজেটিভ এসেছে। জেলায় নতুন আক্রান্ত ১০৬ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৩৯ জন, আলমডাঙ্গার ১১জন, দামুড়হুদার ১৬ জন ও জীবননগর উপজেলার ৪০ জন রয়েছেন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের ৪১.২৫ শতাংশ। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৮৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৪১৬ জন, আলমডাঙ্গার ৪৮৮ জন, দামুড়হুদায় ৭৩৬ জন ও জীবননগরে ৪৪২ জন।
জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য গত বৃহস্পতিবার ২২৩টি ও গত শুক্রবার ১৭টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ২৫৭টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ আরও ২৩২টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১২ হাজার ৯৯৪টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১২ হাজার ২১৮টি, পজিটিভ ৩ হাজার ৮৩ জন। জেলায় বর্তমানে ৯২৬ জন হোম আইসোলেশন আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ৫৫৪ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ২৪৭ জন। গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার একজন ও আলমডাঙ্গা উপজেলার একজনসহ করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৯৪ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ৩০ জন, আলমডাঙ্গায় ১৯ জন, দামুড়হুদায় ২৫ জন ও জীবননগরে ৯ জনসহ ৮৩ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৪৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৯ জন, গাংনীতে ২১ জন এবং মুজিবনগরে ১৪ জন। গতকাল শনিবার রাতে মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন প্রাপ্ত রিপোর্ট ১০৫টি। তার মধ্যে ৪৪ জন করোনা পজিটিভ। এ নিয়ে বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা পজিটিভের সংখ্যা ৪০৪ জন। তার মধ্যে সদরে ১৪৯ জন, গাংনীতে ১৫৮ জন এবং মুজিবনগরে ৯৭ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মারা গেছেন ৪০ জন। এদের মধ্যে সদরে ১৩, গাংনীতে ১৮ এবং মুজিবনগরে ৯ জন। তিনি বলেন- মেহেরপুরে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই দিনে দিনে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এসময় তিনি সবাইকে সামাজিক দূরত্ব, নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোবার অভ্যাস, মাস্ক ব্যবহার, জনসমাগম এড়িয়ে এবং হাঁচি-কাঁশির শিষ্টাচার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
কমেন্ট বক্স