মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ফের বাড়ল চুয়াডাঙ্গার চলমান ‘লকডাউন’

  • আপলোড তারিখঃ ২৭-০৬-২০২১ ইং
ফের বাড়ল চুয়াডাঙ্গার চলমান ‘লকডাউন’
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ : জেলা কোভিড-১৯ প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত সম্মিলিতভাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করতে হবে : ডিসি নজরুল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় চলমান লকডাউন আপাতত বন্ধ হচ্ছে না। সোমবার থেকে সারা দেশে লকডাউন। সে হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক লকডাউন চলবে। কঠোরভাবে এই লকডাউনকে প্রতিপালন করানো হবে। জরুরি এ সভায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তারেক, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিকুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মুনিম লিংকন, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মণ্ডলসহ কমিটির অন্য সদস্যরা। সভায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগকে সহযোগিতা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রশাসনসহ আমরা সকলেই স্বাস্থ্য বিভাগকে যেকোনো বিষয়ে সহযোগিতা করব। সকলকে সম্মিলিতভাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। জেলায় টেস্ট বাড়াতে হবে। টেস্টের পরিমাণ বাড়ানোসহ স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। অনেকের মধ্যেই করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকলেও তাঁরা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে, পরীক্ষা করিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকলে, সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাবে। শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে ছোটাছুটি করার থেকে আগে থেকে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, লকডাউন মানাতে পুরো জেলায় তদারকি করবে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এসময় লকডাউনের প্রভাবে কর্মহীনদের মধ্যে সরকারিভাবে খাদ্য-সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার আরও বলেন, জেলার সমস্ত পশুহাটগুলো বন্ধ করা হয়েছে। সকল পর্যটনকেন্দ্রও বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চায়ের দোকান পুরোপুরিভাবে বন্ধ রাখার জন্যও নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। জেলার সবধরনের প্রাইভেট কোচিং সেন্টারগুলোও বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তিনি। এদিকে, জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার গতকাল শনিবার একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯ জুন করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ২০ জুন সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও আলুকদিয়া ইউনিয়নে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলী/চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। গণবিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে- সকল ধরনের গণপরিবহন (অটো রিক্সা, সিএনজি, ইজিবাইক ইত্যাদি) ও জনচলাচল (মোটরসাইকেল, সাইকেল, রিক্সা, ভ্যান ইত্যাদি) বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা, কৃষিপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য সরঞ্জাম সংগ্রহ ও পরিবহন এবং সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা এর আওতাবহির্ভুত থাকবে। চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল গরুর হাট এবং পানহাট বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিট পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ (Takeaway/Online) করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ করা যাবে না। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানসমূহ (ছোট ছোট চায়ের দোকানসহ) বন্ধ থাকবে। দূরপাল্লার সকল বাস আবশ্যিকভাবে চুয়াডাঙ্গা টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাবে এবং শুধু চুয়াডাঙ্গা টার্মিনালে এসে যাত্রী নামাবে। সকল পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। জনসমাবেশ হয় এ ধরণের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান ওলিমা, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। মাস্ক পরিধানসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী