শহরজুড়ে ইজিবাইকের দাপট, স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই!
- আপলোড তারিখঃ
২৪-০৬-২০২১
ইং
করোনার সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি, চুয়াডাঙ্গার তিন উপজেলায় লকডাউনে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
জেলার বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ৫২টি মামলায় প্রায় ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
লকডাউনে কঠোর অবস্থানে গেছে প্রশাসন। চতুর্থ দিনে চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে ৮টি মোবাইল কোর্টে ৫২টি মামলায় ৫৪ জনকে ৭৪ হাজার ৪ শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুজনকে কারাদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ৩০টি ইজিবাইক জব্দ করেছে প্রশাসন। তবুও অসচেতন মানুষের মধ্যে লকডাউন মানার প্রবণতা কম। স্বাস্থ্যবিধি মানার আগ্রহ নেই তাঁদের। করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতিতে বেড়ে চললেও স্বাস্থ্যবিধি না মানা যেন কারো কারো ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, জীবননগর, দামুড়হুদা ও দর্শনায় প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন না করার অপরাধে এসব মোবাইল কোর্টে জরিমানা করা হচ্ছে। এবং সেইসাথে সচেতনও করা হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। গতকাল বুধবার দিনব্যাপী জেলাজুড়ে ৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। দিনব্যাপী এসব মোবাইল কোর্টে ৫২টি মামলায় ৫৪ জনকে ৭৪ হাজার ৪ শ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া দুজনকে কারাদণ্ড প্রদান ও ৩০টি ইজিবাইক জব্দ করে প্রশাসন।
এদিকে, উদ্বেগ প্রকাশ করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘আশেপাশের সকল দোকান বন্ধ। তাই চায়ের দোকানে রঙিন টেলিভিশন, সাথে দুইটা কেরামবোর্ডে অসংখ্য প্লেয়ারের সাথে অগনিত দর্শক, কোকের বড় বোতল নিয়ে বাজি খেলা। এ যেন জমজমাট আসর। গাড়ির উপস্থিতি টের পেয়ে দর্শকবৃন্দ বিভিন্নদিকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। দোকানিকে দুইদিনের জন্য জেলখানায় পাঠানো হয়। আজকে তিনঘণ্টার অভিযানে ১১ জনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দুইজনকে ২ঘণ্টা করে আটকাদেশ দেওয়া হয়। ১৩টি ইজিবাইক ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। প্রায় একশজন মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় কী প্রয়োজনে তারা বাইরে বের হয়েছেন। বেশির ভাগেরই যুক্তিসংগত কোনো কারণ না থাকলেও অনেক এক্সকিউজ দেখিয়েছেন। অনেকে লকডাউন কেমন চলছে, তা দেখার জন্য বাইরে বেরিয়েছেন। লুকোচুরি নয়, অজুহাত নয়। নিজের সুস্থতার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।’
এভাবে যখন সরকারি কর্মকর্তা ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন, প্রশাসন থেকে মাইকিং সর্বপরি জরিমানা ও জেল, তা সত্ত্বেও সচেতনতা নেই বহু মানুষের। লকডাউন যেন মানতেই চাচ্ছেন না তাঁরা। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শহরের অবস্থা প্রায় স্বাভাবিক সময়ের মতো। লকডাউনের কিছুটা প্রতিফলন ঘটলেও শহরজুড়ে ইজিবাইকের দাপট। স্বাস্থ্যবিধিরও নেই কোনো তোয়াক্কা।
বড় বড় শপিংমল, মার্কেট, বিপনীবিতান বন্ধ থাকলেও লুকোচুরি খেলার মতো খোলা হচ্ছে কিছু কিছু দোকানপাট। এছাড়াও, খোলা ছিল রাস্তার ধারের ফুটপাতের দোকান। ওই দোকানগুলো প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
পার্শ্ববর্তী আলুকদিয়া ইউনিয়নজুড়ে লকডাউন থাকায় ওই ইউনিয়নের মধ্যে দেখা গেছে মোড়ে মোড়ে বাঁশ দিয়ে সড়ক আটকানো। দৌলতদিয়াড় ও হাতিকাটায় দোকানপাট বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ভালাইপুর থেকে মেহেরপুর ও বড় বলদিয়াামী বাস ছাড়তে দেখা গেছে। কিছু কিছু ইজিবাইক শহরে ঢোকার চেষ্টা করলে মাথাভাঙ্গা ব্রিজের ওপারে দৌলতদিয়াড়ে তা আটকিয়েছে পুলিশ। ফেরত পাঠানো হয়েছে পুনরায়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে আছে প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। মাত্র ৭ দিনের লকডাউনে যদি আমরা না মানি, তাহলে লকডাউনের সুফল পাওয়া যাবে না। আমরা চাই ৭ দিনের মাথায় লকডাউন উঠে যাক, তবে যদি এমন পরিস্থিতি থাকে, তাহলে লকডাউন বাড়াতেও হতে পারে। তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার বাহিনী কাজ করছে। আমরা চাই, কঠোরভাবে ৭ দিনের লকডাউন বাস্তবায়ন করা হোক। প্রশাসন থেকে অসহায় ও কাজহীনদের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শর্ত একটাই লকডাউন মানতে হবে।
কমেন্ট বক্স