মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পুলিশ-প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও বিধি-নিষেধ মানতে অনীহা

  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৬-২০২১ ইং
পুলিশ-প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও বিধি-নিষেধ মানতে অনীহা
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও আলুকদিয়া ইউনিয়নে চলছে কঠোর লকডাউন, সড়কে চলছে ছোট ছোট যানবাহন নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর পৌরসভা ও পাশর্^বর্তী আলুকদিয়া ইউনিয়ন এলাকায় চলছে কঠোর লকডাউন। গতকাল রোববার সকাল ৬টা থেকে ৭ দিনের এ লকডাউন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে লকডাউনের প্রথম দিনে সড়কে ছোট ছোট যানবাহন চলতে দেখা গেছে। খোলা ছিল সরকারি অফিস-আদালত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানপাট। সকাল থেকে পায়ে হেঁটে ও ইজিবাইক মোটরসাইকেলে চেপে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে চাকরিজীবীদের। এদিন সকাল থেকে শহরের নীচের বাজারের কাঁচা তরকারি ও মুদি দোকানেও ভিড় ছিল সাধারণ মানুষের। তবে বড় বড় শপিংমল, মার্কেট, বিপনী-বিতানসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ ছিল। দিনভর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনেরও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর থেকে দিনভর বৃষ্টির কারণে শহরে মানুষের ভিড় কম ছিল। পার্শ্ববর্তী আলুকদিয়া ইউনিয়নজুড়ে লকডাউন থাকায় ওই ইউনিয়নের মধ্যে দেখা গেছে মোড়ে মোড়ে বাঁশ দিয়ে সড়ক আটকানো। দৌলতদিয়াড় ও হাতিকাটায় দোকানপাট বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ভালাইপুর থেকে মেহেরপুর ও বড় বোয়ালিয়াগামী বাস ছাড়তে দেখা গেছে। কিছু কিছু ইজিবাইক শহরে ঢোকার চেষ্টা করলে মাথাভাঙ্গা ব্রিজের ওপারে দৌলতদিয়াড়ে তা আটকিয়েছে পুলিশ। ফেরত পাঠানো হয়েছে পুনরায়। সব স্থানেই লকডাউনের প্রভাব থাকলেও, কাঁচা বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিচের বাজারে প্রচুর মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মুদি ও কাঁচা বাজারে মানুষের মধ্যে মাস্কসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। ফেরিঘাট রোডেও বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অপর দিকে, রেলগেটের ওই দিক থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো ইজিবাইক ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে বৃষ্টির মধ্যে এবং সন্ধ্যার পর এ নির্দেশনা মানেননি ইজিবাইক চালকেরা। লকডাউন শুরুর পর সকাল থেকেই শহরের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময়ে সড়কে চলাচলরতদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অনেকেই নানা অজুহাতে এদিক-সেদিক চলাচল করেছে। আবার অনেকেরই বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়েছে। একইসাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে ছিল। স্বাস্থ্যবিধি যানবাহন ও জনচলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে তারা। তবে প্রথম দিনে কাউকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। প্রথম দিন হিসেবে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস থাকায় সকালে অফিসমুখী মানুষের চাপ ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশী। এছাড়া লকডাউনের খবরে বাজারে ভিড় জমিয়েছে জনসাধারণ। সেইসাথে বিভিন্ন অজুহাতে এদিক-সেদিক যাওয়া আসা করেছে মানুষ। এসব কারণ দেখিয়ে মানুষের চলাফেরা কম ছিল না। মোড়ে মোড়ে মানুষকে পুলিশ সদস্য ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বাঁধার মুখে পড়তে হয়। দুপুরের পর বৃষ্টি শুরু হলে বাজার ঘাটে মানুষের সংখ্যা কম দেখা গেছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে আবারও মানুষের ভিড় বাড়ে। সন্ধ্যার পর থেকে পাড়ার মোড় ও অলি-গলির মধ্যে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দেখা যায়। এছাড়া পৌর এলাকা ও আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় মানুষের চলাফেরাও বেড়েছে। এছাড়া দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসগুলো শহরের মধ্যে যাত্রী ওঠানামায় বারণ থাকলেও তা মানতে দেখা যায়নি। সন্ধ্যার পর বড় বাজারের কাউন্টারগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা নামানো করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন বলছে, কঠোরভাবে প্রতিপালন করানো ৭ দিনের লকডাউন। নির্দেশনা না মানলে জরিমানাসহ আইনের আওতায় আনা হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী