মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

করোনা ও উপসর্গে চুয়াডাঙ্গায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু

  • আপলোড তারিখঃ ২০-০৬-২০২১ ইং
করোনা ও উপসর্গে চুয়াডাঙ্গায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু
দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল : পূর্বে মৃত দুজনের নমুনাতেও কোভিড পজিটিভ নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় করোনাক্রান্তের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। গতকাল সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার ঘণ্টার ব্যবধানে এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জেলায় গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ১০টায় জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা আক্রান্ত হয়ে এই পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করে। এনিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ জনে। এদিকে, পূর্বে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া দুজনের নমুনাতেও করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া তিনজন হলেন- চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার জ্বিনতলা মল্লিকপাড়ার মৃত আনিসুর রহমানের স্ত্রী সালেহা বেগম, জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের মৃত এলাহী মণ্ডলের ছেলে শুকুর আলী ও দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে হাজী আক্কাস আলী। আক্রান্তদের প্রত্যেকের বয়স ৭০ বছর। গতকাল বিকেল ছয়টায় সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এএসএম ফাতেহ আকরাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিট সূত্রে জানা যায়, করোনা উপসর্গ জ্বর, ঠাণ্ডাসহ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে গত ১২ জুন ইয়োলো জোনে ভর্তি হন সালেহা বেগম। করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনায় ১৬ জুন করোনা শনাক্ত হয়। ওইদিনই তাঁকে ইয়োলো জোন থেকে রেডজোন আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুর সোয়া ১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। গত ১৩ জুন শুকুর আলী করোনা উপসর্গ জ্বর, ঠাণ্ডাসহ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ইয়োলো জোনে ভর্তি হন। ১৪ জুন তাঁর নমুনায় করোনা শনাক্ত হলে তাঁকেও ইয়োলো জোন থেকে রেডজোন আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুর পৌনে একটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে, বিকেল ৪টা ১৫মিনিটে সদর হাসপাতালের রেড জোন আইসোলেশন ওয়ার্ডে মৃত্যু হয় শিক্ষক হাজী আক্কাস আলীর। গত ১৩ জুন তাঁর নমুনায় করোনা শনাক্ত হলে পরদিন তাঁকে হাসপাতালের রেড জোনে ভর্তি করে পরিবারের সদস্যরা। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এএসএম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেডজোন বা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর করোনা প্রটোকলে নিহতদের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থবিধি মেনে করোনা প্রটোকলে নিহতদের লাশের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হবে।’ গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত দুজন হলেন- জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের খয়েরহুদা গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন তোতা (৫৫) ও দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ গ্রামের মাওলা বক্সের ছেলে আব্দুল মালেক (৬০)। গতকাল জেলায় নতুন করে আরও ৬৮ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ১৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬৮ জনের নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫১.১২ শতাংশ। আগেরদিন গত শুক্রবার জেলায় একদিনে ৭৬ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। গতকাল কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭৬ জনের নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৯.৩৮ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ৬৮ জনসহ জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৯১ জনে। নতুন আক্রান্ত ৬৮ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ২৩ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৮ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ২৯ জন ও জীবননগর উপজেলার ৮ জন। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৫৯১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ২২৩ জন, আলমডাঙ্গার ৪২৪ জন, দামুড়হুদায় ৬৪৮ জন ও জীবননগরে ২৯৮ জন। গত বৃহস্পতিবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ চার উপজেলা থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য ১৪৮টি নমুনা ও বুধবার ১৩১টি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষাকৃত মোট ১৩৩টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। এর মধ্যে ৬৮ জনের করোনা ফলাফল পজিটিভ আসে, বাকী ৬৫টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ। এদিকে গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ১২৮ টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। তবে এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে গতকালের ১২৮টি নমুনাসহ চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রেরণকৃত ৪৬১টি নমুনার ফলাফল পেন্ডিং রয়েছে। গতকাল জেলা থেকে নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৩৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার জন, আলমডাঙ্গার ৩৫০, দামুড়হুদার ৩৯১ ও জীবননগরে ১৯৭ জন। জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫০৮জন। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১১ হাজার ৭৭৬টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১১ হাজার ৩১৫টি, পজিটিভ ২ হাজার ৫৯১ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় ৫৭১ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯২ জন, আলমডাঙ্গায় ৫৬ জন, দামুড়হুদায় ২২৯ জন ও জীবননগরে ৮৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৫১৯ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭৩ জন, আলমডাঙ্গায় ৫০ জন, দামুড়হুদায় ২০৮ জন ও জীবননগরে ৮৮ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ১৮ জন, আলমডাঙ্গার ৫ জন, দামুড়হুদার ১৯ জন ও জীবননগরের ৬ জন জনসহ মোট ৪৮ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৮২ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৭ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ২৩ জন ও জীবননগরে ৬ জনসহ ৭৩ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্য ৪ জন।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী