মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শুনানিতে ডা. শামিম কবিরের বক্তব্যে তথ্য কমিশনের আপত্তি

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৬-২০২১ ইং
শুনানিতে ডা. শামিম কবিরের বক্তব্যে তথ্য কমিশনের আপত্তি
অবশেষে তথ্য কমিশনের আদেশে মিলছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের এমএসআর দরপত্রের চাহিত তথ্যাদি নিজস্ব প্রতিবেদক:
তথ্য প্রদান করতে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন, সাবেক ও বর্তমান আরএমওকে নির্দেশ ১২টি তথ্য সাবেক আরএমও এবং বাকি তিনটি তথ্য বর্তমান আরএমও এবং সিভিল সার্জন দেবেন সদর হাসপাতালের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি ও যোগাযোগের নম্বরসহ লিখিতভাবে কমিশনকে জানানোর নির্দেশ সকল তথ্য প্রদানে তিন কর্মকর্তার মধ্যে সমন্বয় করার নির্দেশ ১৫দিনের মধ্যে সকল তথ্য না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা তথ্য প্রদান না করে তথ্য অধিকার আইনের ২৫ ধারা লঙ্ঘন করেছেন ডা. শামীম কবির
অবশেষে তথ্য কমিশনের আদেশে মিলছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ২০১৯-২০ অর্থবছরের এমএসআর দরপত্রের চাহিত তথ্যাদি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এই নির্দেশ দেয় তথ্য কমিশন। এর আগে ২০২০ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. শামিম কবিরের কাছে তথ্য চেয়ে, তথ্য না পেয়ে দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেরাব্বিন সানভী তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য কমিশন বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ গঠন করে। তথ্য কমিশনের প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ, তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগম এনডিসি ও তথ্য কমিশনার ডক্টর আব্দুল মালেকের সমন্বয়ে এই বেঞ্চে গতকাল ভার্চুয়ালি শুনানি করেন। আর এই শুনানিতে ডা. শামিম কবিরের বক্তব্যে তথ্য কমিশন আপত্তি জানিয়ে আগামী ১৫দিনের মধ্যে চাহিত সকল তথ্য প্রদানের নির্দেশ দেয়। এসময় নির্দেশের ব্যত্যয় ঘটলে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানায় তথ্য কমিশন। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ২০১৯-২০ অর্থবছরের এমএসআর দরপত্রে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ হয়েছে মর্মে গত বছর চুয়াডাঙ্গায় বসবাসরত নানামহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এনিয়ে একটি স্থানীয় পত্রিকা সেসময় সংবাদ পরিবেশন করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নেতিবাচক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। যে কারণে সঠিক তথ্যের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ২০১৯-২০ অর্থবছরে এমএসআর দরপত্রের ১৫টি তথ্য চেয়ে গত বছরের ২১ জুলাই দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেরাব্বিন সানভী তথ্য অধিকার আইনে নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. শামিম কবিরের নিকট তথ্যপ্রাপ্তির আবেদন করেন। আবেদন করার পর তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পার হওয়া সত্ত্বেও ডা. শামিম কবির কোনো তথ্য প্রদান করেননি। পরে আইন অনুযায়ী সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ও আপীল কর্তৃপক্ষ ডা. এএসএম মারুফ হাসানের নিকট উক্ত তথ্যপ্রাপ্তির জন্য ওই আবেদনের আপিল করেন। এরপর সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান পত্রের মাধ্যমে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র ও তথ্য চাওয়ার স্বপক্ষে সম্পাদকের অনুমতিপত্র চান। তাঁর চাহিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করলেও সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো তথ্য প্রদান করেননি। যার কারণেই তথ্য পেতে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী। এদিকে, তথ্য কমিশন ওই অভিযোগটি আমলে নিয়ে অভিযোগটি নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে চলতি বছরের গত ২ জুন সমনের মাধ্যমে ১৫ জুন ভার্চুয়াল শুনানিতে ডা. শামিম কবিরকে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেয়। এবং গতকাল মঙ্গলবার ভার্চুয়ালি প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের বেঞ্চ অভিযোগটির শুনানি করেন। তথ্যপ্রাপ্তির আবেদনকারী সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী বলেন, ‘দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর আমার অভিযোগের শুনানি হয়েছে। শুনানিতে আমার কাছে তথ্য কমিশনের অভিযোগ নিষ্পত্তির শুনানি বেঞ্চের প্রধান ও প্রধান তথ্য কমিশনার মহোদয় বিস্তারিত জানতে চান। আমি বিস্তারিত বলার পর ডা. শামিম কবিরের নিকট ওই প্রসঙ্গে জানতে চান। ডা. শামিম কবির জানান, তাঁর কাছে চাহিত সব তথ্য না থাকায়, তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কমিশন আমার চাহিত তথ্য নিরুপণ করে ডা. শামিম কবিরের বক্তব্যের আপত্তি জানিয়ে বলেন, যেহেতু চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এমএসআর প্রজেক্টে ওষুধসহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ের ওই কমিটিতে ডা. শামিম কবির সদস্যসচিব, সেহেতু সকল তথ্যই ডা. শামিম কবিরের পক্ষে দেওয়া সম্ভব ছিল। ডা. শামিম কবির তথ্য না দিয়ে বা তথ্য প্রদানের নির্ধারিত স্থান না দেখিয়ে ভুল করেছেন। যা, তথ্য অধিকার আইনের ২৫ ধারা লঙ্ঘন। সেই মোতাবেক অনেক ব্যবস্থায় নেওয়া যায়। তবে করোনাকালীন মহামারীর সময়ে কমিশন আপাতত সেই দিকে যাবে না। অভিযোগটি কমিশন নিষ্পতি করতে চাই। কমিশন বিস্তারিত শুনানির পর, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. শামিম কবিরকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কোন কোন তথ্য দিতে পারবেন। ডা. শামিম কবির তিনটি তথ্য বাদে বাকি ১২টি তথ্য দিতে পারবেন বলে কমিশনকে জানান। এসময় কমিশন ভার্চুয়াল শুনানিতে বেঞ্চের অন্যান্য সদস্যদের সাথে আলাপ করার জন্য ৫মিনিটের সময় নিয়ে আমাদেরকে ওয়েটিংয়ে রাখেন। ৫মিনিট পর পুনরায় শুনানিতে নিয়ে, বেঞ্চের প্রধান ও প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. শামিম কবিরকে ওই তিনটি তথ্য বাদে বাকি তথ্যগুলো আগামী ১৫দিনের মধ্যে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন। এবং বাকি তথ্যগুলো পেতে তথ্যপ্রাপ্তির আবেনদনকারী তথা আমাকে সকল প্রকার সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন। এছাড়াও, কমিশন ভার্চুয়াল শুনানিতে আরও রায় দেন, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের বর্তমান আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে (আরএমও) এবিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হবে। তাঁরা বাকি তিনটিসহ ১৫টি তথ্যই প্রদান করবেন। এবং সকল তথ্যপ্রাপ্তির পর তথ্য কমিশনকে তা লিখিতভাবে জানানোর জন্য আমাকে বলা হয়। তাছাড়া, কমিশন জানায় ১৫দিনের মধ্যে সকল তথ্য প্রদান না করলে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডা. শামিম কবির আমার তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বে সহযোগিতা করবেন বলেও কমিশন নির্দেশ দেয়। কমিশন শুনানিতে আরও জানায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি ও যোগাযোগের নাম্বারসহ লিখিতভাবে তথ্য কমিশনকে জানাবে।’ প্রসঙ্গ, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর হলেও, জনস্বার্থে তথ্যপ্রাপ্তির পক্ষের রায়ে খুশি চুয়াডাঙ্গার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। নাম প্রকাশ না করে তাঁরা বলছেন, ‘আইন অনুযায়ী যে তথ্যগুলো জনগণের জানার অধিকার আছে, সেগুলি জনগণকে জানাতে হবে। কারচুপি না থাকলে, কেউ তথ্য লুকাবে কেন? আর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এমএসআর দরপত্রে অর্থ আত্মসাতের কথা শোনা যাচ্ছে। এবিষয়ে দুুদকে একজন অভিযোগও দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে ইতিমধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করেছে। এবং সেই তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এখন দেখার বিষয় থলে থেকে আসলে কী বের হয়।’


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী