চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে করোনায় দুজনের মৃত্যু
- আপলোড তারিখঃ
৩০-০৪-২০২১
ইং
২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৮৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৩৪১
সমীকরণ প্রতিবেদক:
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৯৩ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২ হাজার ৩৪১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৫ জনে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৪ হাজার ৭৮২ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৭৭ হাজার ১০১ জন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। গত জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র । মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছরের মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জোহরা খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫১ জনে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত জোহরা খাতুন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার পীরগাছা গ্রামের মৃত করিম মণ্ডলের স্ত্রী।
জানা যায়, গত ২৮ মার্চ ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। গতকাল সকালে তাঁর নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। এর কিছুক্ষণ পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফাতেহ আকরাম জানান, ২৮ এপ্রিল দুপুরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন জোহরা। বৃহস্পতিবার সকালে জিন-এক্সপার্ট মেশিনে তাঁর পরীক্ষিত নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। মরদেহটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিহতের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও দুজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৬৩ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৮৯ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৫৪ জন, দামুড়হুদায় ৩২১ জন ও জীবননগরে ১৯৯ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় আরও দুজন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৭১৩ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯০৯ জন, আলমডাঙ্গার ৩২৮ জন, দামুড়হুদার ২৯৪ জন ও জীবননগরের ১৮৪ জন।
জানা যায়, গত বুধবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২২টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল এর মধ্যে ২১টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিস প্রকাশ করে। এর মধ্যে ২টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে, বাকি ১৯টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ৯টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রেরণ করেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৯ হাজার ২৬৫টি।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ২৬৫টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৯ হাজার ৫১, পজিটিভ ১ হাজার ৮৬৩টি ও নেগেটিভ ৭ হাজার ১৫৩টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ৯২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬ জন, আলমডাঙ্গায় ৯ জন, দামুড়হুদায় ১৬ জন ও জীবননগরে ১১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৭৭ জন হোম আইসোলেশন আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৫ জন, আলমডাঙ্গায় ৮ জন, দামুড়হুদায় ১৪ জন ও জীবননগরে ১০ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ৬জন, আলমডাঙ্গার ১, দামুড়হুদার ২ জনসহ ৮ জন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন আরও ৬ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২১ জন, আলমডাঙ্গায় ১৫ জন, দামুড়হুদায় ১১ জন ও জীবননগরে ৪ জন। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে প্রাণঘাতী করোনোভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রেহেনা খাতুন (৬৩) নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত রেহেনা খাতুন গাংনী উপজেলার মাইলমারি গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বেলা দুইটার দিকে মেহেরপুর সরকারি হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। গতকাল মেহেরপুরে নতুন করে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৯০৮ জন। মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানান, গতকাল পাঠানো হয়েছে ১৮টি ও ফলাফল এসেছে ১৮টি। এর মধ্যে নতুন করে কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি।
কমেন্ট বক্স