শ্রমিকরা ভুল তথ্য পেয়ে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন : ডিসি নজরুল ইসলাম
- আপলোড তারিখঃ
২৮-০৪-২০২১
ইং
খাদ্য-সহায়তা বয়কট করে চুয়াডাঙ্গায় পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মোটরগাড়ি খুলে দেওয়ার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য-সহায়তা বয়কট করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শহরের হাসান চত্বর এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা। এসময় চলমান লকডাউনে মোটরগাড়ি খুলে দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বললেন, শ্রমিকেরা প্রথমদিকে ভুল ভেবে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁদেরকে সঠিকটা বোঝানো হয়েছে।
জানা গেছে, লকডাউনের প্রভাবে কর্মহীনদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে খাদ্য-সহায়তা প্রদান করছে জেলা প্রশাসন। এ ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় শহরের চাঁদমারী মাঠে তালিকাভুক্ত ৩ শ পরিবহন শ্রমিককে খাদ্য-সহায়তা নেওয়ার জন্য আসতে বলা হয়। শ্রমিকরা ওইসময় মাঠে এসে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা খাদ্য-সহায়তা গ্রহণ করবেন না বলে জানায়। এসময় খাদ্য-সহায়তার নামে নামমাত্র কিছু সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। পরে তা বয়কট করে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে শহরের শহীদ হাসান চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শ্রমিকরা। এসময় নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা। পরে পুলিশ ও শ্রমিক নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিকরা বলেন, প্রায় একমাস ধরে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী মোটরগাড়ি। এতে করে তাঁরা কর্ম হারিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে সামান্য পরিমাণ চাল, ডাল, আলু ও পেঁয়াজ দেওয়ার নাম করে ডাকা হয়েছে। ওই সামান্য পরিমাণ খাবার দিয়ে তাঁদের দুদিনও চলবে না। বরং তাঁদের মোটরগাড়ি খুলে দিলে আবারও গাড়ি চালিয়ে খেয়ে বাঁচতে পারবেন।
জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রিপন মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ থাকার প্রভাবে না খেয়ে দিন কাটছে অনেক শ্রমিকের। এরমধ্যে জেলা প্রশাসনের ডাকে খাদ্য-সহায়তা নিতে গিয়ে খাদ্য-সামগ্রী দেখে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরে তারা বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়। শ্রমিকদের শান্ত করে বাড়ি ফেরানো হয়েছে।
গতরাতে এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রথম দিকে শ্রমিকরা ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁরা ভেবেছেন, সরকার থেকে ২৫ শ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ২৫ টাকার ওইটা এক জিনিস, আর শ্রমিকদেরকে যেটা দেওয়া হচ্ছে সেটা আরেক জিনিস। ২৫ শ টাকার ওটা তো প্রশাসনের কাছেই আসবে না। সরাসরি বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো হয়। আর প্রশাসন এখন মাননীয প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া খাদ্য-সহায়তা দিচ্ছে। সে জন্যই শ্রমিকদের তালিকা করে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। বিষয়টি তাঁদেরকে বোঝানো হয়েছে। তারাও বুজেছেন, আর কোনো ঝামেলা নেই।’
কমেন্ট বক্স