চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ১ জন আক্রান্ত : সুস্থ ১
- আপলোড তারিখঃ
২৭-০৪-২০২১
ইং
করোনায় এক দিনে ৯৭ জনের মৃত্যু, শনাক্তের হার ১২.৮২ শতাংশ
সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩০৬ জন। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৫ হাজার ৭৮৬ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৮ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ১১ হাজার ১৫০ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৯৩ জন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। গত জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র । মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছরের মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও একজনের শরীরে করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৫৭ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৮৭ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৫৩ জন, দামুড়হুদায় ৩১৯ জন ও জীবননগরে ১৯৮ জন। গতকাল সোববার জেলায় করোনা থেকে নতুন ১ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬৯৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৮৯২ জন, আলমডাঙ্গার ৩২৮ জন, দামুড়হুদার ২৯৪ জন ও জীবননগরের ১৮৪ জন।
জানা যায়, গত রোববার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২৬টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল পূর্বের পেন্ডিং একটি নমুনাসহ ২৭টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিস প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে, বাকি ২৬টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ১৬টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রেরণ করেনি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৯ হাজার ২১৭টি।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ২১৭টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৯ হাজার, পজিটিভ ১ হাজার ৮৫৭টি ও নেগেটিভ ৭ হাজার ১০৯টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ১০৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ জন, আলমডাঙ্গায় ৮ জন, দামুড়হুদায় ১৪ জন ও জীবননগরে ১১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৮৯ জন হোম আইসোলেশন আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬১ জন, আলমডাঙ্গায় ৭ জন, দামুড়হুদায় ১২ জন ও জীবননগরে ৯ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ৬জন, আলমডাঙ্গার ১, দামুড়হুদার ২ জন ও জীবননগরের ১জনসহ ১০ জন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন আরও ৫ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২১ জন, আলমডাঙ্গায় ১৪ জন, দামুড়হুদায় ১১ জন ও জীবননগরে ৩ জন। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
কমেন্ট বক্স