মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আগুনঝরা আবহাওয়ায় হাঁসফাঁস অবস্থা, রোজাদাররাও কাহিল

  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৪-২০২১ ইং
আগুনঝরা আবহাওয়ায় হাঁসফাঁস অবস্থা, রোজাদাররাও কাহিল
চুয়াডাঙ্গায় চলছে তীব্র তাপদাহ, মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড বেড়েছে ডায়রিয়া, ভাইরাস জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, দুদিনে সদর হাসপাতালে ৬৪ শিশু ভর্তি রুদ্র রাসেল: চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গতকাল রোববার এ জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র তাপদাহে ডায়রিয়া, ভাইরাস জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বিভিন্ন হাসপাতালের পাশাপাশি চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে এ ধরনের রোগী বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, গত দুই দিনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শুধুমাত্র শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে ৬৪ জন ও বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ২৫০ জনের অধিক। এছাড়াও হাসপাতালে দুই দিনে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন পাঁচজন নারী ও চারজন পুরুষ। ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বেশিরভাগ শিশুর বয়স ২ বছরের নিচে। এদিকে, গতকাল দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাধারণত দিনের তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতর থাকলে তাকে মাঝারি তাপদাহ হিসেবে ধরা হয়। আর ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে বলে মৃদু তাপদাহ। আর ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপদাহ হিসেবে ধরা হয়। এর ওপরে উঠলে অতি উচ্চ তাপপ্রবাহ বলা হয় বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস। এদিকে, আগুনঝরা আবহাওয়ায় হাঁসফাঁস করছে চুয়াডাঙ্গার মানুষ। স্বস্তিতে নেই পশু-পাখিও। তীব্র গরম থেকে মুক্তির কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না! কাঠফাঁটা গরমে সবার যেন নাভিশ্বাস উঠেছে। এতে অস্থির হয়ে পড়ছে জনজীবন, বিশেষ করে শহুরে মানুষরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় মানুষ মাত্রাতিরিক্ত ঘামছেন। তাই বাইরে বের হলেই রোজাদাররাও কাহিল হয়ে পড়ছেন। গরমের কারণে বিভিন্ন স্থানে গাছের ছায়ায় অনেকেই বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। আর পথচারীরা ইফতারের আগে ভিড় করছেন ফুটপাতের শরবত এবং ডাব বিক্রেতাদের কাছে। একটু বৃষ্টি ও শীতল হাওয়ার পরশ পেতে সাধারণ মানুষ যেন ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। কিন্তু বৃষ্টির দেখা নেই। চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গত শনিবার (২৪ এপ্রিল) এ জেলার তাপমাত্র ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) তাপমাত্র ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শনিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্র রেকর্ড করা হয় ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতকাল এ মৌসুমের সব রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রার পারদ ওঠে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। চুয়াডাঙ্গা পৌর সহরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গরমের কারণে ঘরের বাইরে বের হতে পারছি না আবার ঘরেও থাকতে পারছি না। ঘরের দেওয়াল ও ছাদ দিয়ে যেন আগুন বের হচ্ছে। বাড়ির আশেপাশে কোথাও গাছ-পালার বাগানও নেই। আগে যখন গ্রামে থাকতাম, গরমে বাড়ির আম বাগানে বসে থাকতাম। কিন্তু এই শহরে সে সুযোগ নেই।’ চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার এলাকার ভ্রাম্যমাণ ডাব বিক্রেতা আফজালুল হাকিম বলেন, ‘গরম পড়লে মানুষ ডাব বেশি খায়। তাই আমাদের ব্যবসাও ভালো হয়। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে ডাব বিক্রি করাও মুশকিল হয়ে পড়ছে। কোথাও দাঁড়িয়ে থাকার জো নেই। সবখানেই যেন আগুন ঝরছে। অনেকেই ঘেমে নেয়ে আসছেন ডাব নিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন।’ চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, ‘এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এর আগে চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গত সোমবার (১৯ এপ্রিল) ৩৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আজ (গতকাল রোববার) চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সুতরাং এটাই এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। গত কয়েকদিন ধরে এ জেলার তামপাত্রা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। আগামী দুই দিন এ জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যহত থাকতে পারে। বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার। বৃষ্টি হলে কমতে পারে এই তাপদাহ।’ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সাত মাস বয়সী শিশু নাতনী মানতাহারা জান্নাতকে নিয়ে আসা নারগিস বেগম বলেন, ‘গত চার দিন ধরে নাতনীর ডায়রিয়া। ডাক্তারের কাছে নিয়েছিলাম গত বৃহস্পতিবার। ডাক্তার বিভিন্ন ওষুধ দিয়েছিল, ওষুধ খেয়ে একটু ভালো ছিল। কিন্তু আবার ডায়রিয়া শুরু হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।’ ডায়রিয়া নিয়ে দেড় বছরের ছেলেকে ভর্তি করান পৌর এলাকার বাসিন্দা ছবিতা বেগম। দুই দিন ধরে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশুকে নিয়ে আছেন তিনি। ছবিতা বেগম বলেন, ‘ডায়রিয়া হওয়ার পর প্রথমে ঘরে ওষুধ খাইয়েছি। তাতে না কমায় এখানে নিয়ে আসি। ডাক্তারেরা বলেছেন, গরমে পানি শূন্যতার কারেণ ডায়রিয়া হয়েছে।’ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স শাপলা বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে এই ওয়ার্ডে রোগীর চাপ একটু বেশি। গরম বাড়লে ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি পায়। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেকে হাসপাতালের বারান্দায় রয়েছে। আমরা রোগীদের যথাসাধ্য সেবা দিয়ে চলেছি।’ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘গরমে ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রতিদিন একশর অধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। গরমে ডায়রিয়াবাহিত রোটা ভাইরাস বিস্তার লাভ করে। ফলে এ সময় শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় বেশি। অত্যধিক গরমে শিশুদের ঘন ঘন পানি খাওয়ানো ও ঘর থেকে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।’


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী