মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঈদ কেনাকাটা শুরু, স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই

  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৪-২০২১ ইং
ঈদ কেনাকাটা শুরু, স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই
শপিংমল-দোকানপাট খোলার প্রথম দিন : চুয়াডাঙ্গা শহরজুড়ে উপচে পড়া ভিড় নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন থাকলেও গতকাল রোববার থেকে খুলেছে শপিংমল ও দোকানপাট। লকডাউনের মধ্যে দোকানপাট খোলার অনুমতি যেমন সমালোচনার সৃষ্টি করেছে, ঠিক তেমনি দোকানপাট খোলার প্রথম দিনে চুয়াডাঙ্গা শহরের কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, সাথে স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা নেই। ঈদের এখনো ১৭ দিন বাকি থাকলেও গতকালের বাজারের ভিড় দেখে মনে হয়েছে আজ সোমবারই বোধহয় ঈদ। ঠিক ঈদের আগের দিন বা চাঁদ রাতে যেমন অবস্থা থাকে বাজারের, তেমনি অবস্থা দোকানপাট খোলার প্রথম দিনেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে ক্রয় বিক্রয়ের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি মার্কেটেও ক্রেতা বা বিক্রেতা কাউকেই তা মানতে দেখা যায়নি। কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান, দর্জির দোকান থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটায় প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকেই লোকজনের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সামাজিক দূরত্ব কিংবা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষজনকে বাজার করার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কোথাও ছিল না সামাজিক কিংবা শারীরিক দূরত্বের বালাই। মানুষজনকে গাদাগাদি করে শপিং করতে দেখা গেছে। অনেকের মুখেও ছিল না কোনো মাস্ক। দুপুরের কড়া রোদেও লোকজনের ভিড় কমেনি। ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের এমন স্বাভাবিক চলাফেরা দেখে বিব্রত বোধ করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, করোনা সংক্রমণ সময়ে মার্কেট খোলা যেন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। চুয়াডাঙ্গা সদরের তিতুদহ গ্রাম থেকে দোকানপাট খোলার প্রথম দিনেই ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সাজিদুর রহমান নামের এক ব্যাক্তি বলেন, ‘আসলে করোনা পরিস্থিতিতে যদিও ঈদের শপিং করা ঠিক না। কিন্তু কি আর করার পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফোঁটাতে বাধ্য হয়ে কেনাকাটা করতে এসেছি। আবার যদি দোকানপাট বন্ধ করে দেয়, সেটাও একটা ভাবনার বিষয়।’ কেনাকাটা করতে আসা তাসফিয়া নামের এক নারী বলেন, ‘আমি অনেক দিন পর বাজারে আসলাম। শহরে যেভাবে মানুষ ঘোরাঘুরি করছে, তাতে ঈদের কেনাকাটা করতে আমার ভয় করছে। কিন্তু ছেলে-মেয়েদের জন্য ঈদের কিছু কেনাকাটা করার প্রয়োজন।’ সমবায় নিউ মার্কেটের এক দোকানি বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বললেও লোকজন তা মানছেন না।’ তবে পুরো সমবায় নিউ মার্কেট ঘুরে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি কোনো দোকানকেই। হাতে গোনা দুই থেকে তিনটা দোকানে স্যানিটাইজার জাতীয় কিছু থাকলেও তা যথাযথ প্রয়োগ নেই।’ অপর দিকে, আব্দুল্লাহ সিটি, ফাতেমা প্লাজা, প্রিন্স প্লাজা কিংবা আলী হোসেন সুপার মার্কেটেও নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা। এটা শুধুমাত্র নির্দেশনাতেই থেমে আছে। সমস্ত মার্কেটেই লক্ষ করা গেছে, ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ই অসচেতন বা মানতে চাচ্ছেন না। মাঝে মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টহলে আসলে একটু সামাজিক দূরুত্ব মানতে দেখা গেলেও একটু পরেই তা আবার আগের মতো। অন্যদিকে, প্রথম দিনেই শহরজুড়ে ইজিবাইকের দাপট লক্ষ্য করা গেছে। তীব্র গরমে চালকসহ ৯ জন যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা না করেই চলছে তাঁদের চলাচল। সকাল কিংবা তীব্র গরমের দুপুর বড় বাজারে ইজিবাইকের যানজট প্রবল। বাস না চলায় এক দিকে যেমন দূরের যাত্রীও ইজিবাইকে, অন্যদিকে কাছের যাত্রীও ইজিবাইকে। সব মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরজুড়ে ইজিবাইকের স্বাস্থ্যবিধিহীন দাপট লক্ষ্য করা গেছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী