কার্পাসডাঙ্গার বাঘাডাঙ্গায় কিস্তির টাকা না পেয়ে তালা ভেঙ্গে ঘরের মালামাল বের করার সময় জনতার বাধা
পুলিশের হাতে এনজিও কর্মকর্তারা আটক : অবশেষে মুচলেকায় মুক্তি
কার্পাসডাঙ্গা অফিস: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বাঘাডাঙ্গা গ্রামে কিস্তির টাকা না পেয়ে সন্ধ্যারাতে তালা কেটে ঘরের মালামাল বের করতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়ে একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পেয়েছে ওই বেসরকারি এনজিও সংস্থার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিটের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। তবে এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাবি, তারা কিস্তির টাকা না পেয়ে ফুলমনির বাড়ীতে যেয়ে তার ঘরের তালার শিকল কেটে সংস্থার নিজস্ব তালা মারার চেষ্টাকালে জনতা বিষয়টি না বুঝে বাধা দিয়েছে। এবিষয়ে সাধারণ গ্রামবাসী সাংবাদিকদের জানায় কিস্তির টাকা না পেয়ে ঘরের তালা কাটা বা ভাঙ্গার ঘটনা ডাকাতির চেয়েও মারাক্তক ও আইন বর্হিভূত। জানা গেছে, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বাঘাডাঙ্গা গ্রামের মিশনপল্লীর চৈতীর স্ত্রী ফুলমনি একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থার কার্পাসডাঙ্গা শাখা হতে ঋণ উত্তোলন করেন। ঋণ নেওয়ার পরে ফুলমনি নিয়মিত কিস্তি চালাচ্ছিলো বলে জানা যায়। কিন্তু কোন কারণবশত গতকাল ফুলমনি বাড়ী না থাকায় ওই বেসরকারি এনজিও সংস্থার কর্মকর্তারা কিস্তি তুলতে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে ফুলমনির পরিবারের অনুপস্থিতিতে সন্ধ্যারাতে ওই বেসরকারি এনজিও সংস্থার কার্পাসডাঙ্গা শাখার ইউনিট ম্যানেজার মিনারুল ইসলাম, টেকনিক্যাল সুপার ভাইজার মিল্টন, কর্মসূচি সংগঠক ফারুক, মাসুমসহ বেশ কয়েকজন অনুমতি ছাড়াই ফুলমনির ঘরের তালা কেটে মালপত্র বের করার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয়রা অনুমতি না নিয়ে ফুলমনির ঘরের তালা কেটে মালপত্র বের না করার জন্য অনুরোধও করেন কর্মকর্তাদের। কিন্তু বেসরকারি এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীরা নাছোড়বান্দা হয়ে মালপত্র বের করার চেষ্টা করলে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়েন। উত্তেজনাকালিন সময়ে সংবাদ পেয়ে কার্পাসডাঙ্গা ফাঁড়ি পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং বেসরকারি এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। পরে মুচলেকা দিয়ে ওই এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীরা ফাঁড়ি পুলিশের কাছ থেকে মুক্তি পায়। এবিষয়ে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির টু-আইসি এএসআই আলমঙ্গীর হোসেন সমীকরণকে জানান, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং দুজন কর্মকর্তাকে অনুমতি ছাড়া অন্যের ঘরের তালা ভেঙ্গে মালপত্র বের করার অভিযোগে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসি। পরে আটককৃতদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগকারি না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ওই কর্মকর্তাদের ছেড়ে দিই। এবিষয়ে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কার্পাসডাঙ্গা শাখার ইউনিট ম্যানেজার মিনারুল ইসলাম জানান, ফুলমনি প্রায় ১লক্ষ ৮০ হাজার আমাদের সংস্থার কাছে ঋণী। গতকাল কিস্তি টাকা না দিয়ে ঘরে তালা মেরে রাখে। সংস্থার কর্মকর্তারা সারাদিন তার বাড়ীতে কয়েকবার কিস্তির টাকা নিতে যায়। সর্বশেষ আমি নিজে সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ছয়টার দিকে কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ফুলমনির বাড়ীতে যায়। তাকে না পেয়ে তার শাশুড়ীর অনুমতি নিয়ে তালা কেটে নিজেদের তালা মারতে যাবো এমন সময় স্থানীয়রা বাধ সাধে। পরে পুলিশ আসে আমাদের ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। এঘটনায় ভুল স্বীকার করে দু:খ প্রকাশ করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কার্পাসডাঙ্গা শাখার ইউনিট ম্যানেজার মিনারুল ইসলাম। ওয়েভ ফাউন্ডশেনের মত একটি সুনামধন্য এনজিও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সাধারণ সদস্যদের কাছ থেকে কিস্তি আদায়ে এমন ডাকাতের ন্যায় ব্যবহারকে ভালো চোখে দেখছেন না জনসাধারণ। স্থানীয়রা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উর্দ্ধতণ কর্তৃপক্ষের কাছে দায়ি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন