‘লকডাউনের’ প্রথম দিন : সবকিছুই যেন স্বাভাবিক!
- আপলোড তারিখঃ
০৬-০৪-২০২১
ইং
শুধু গণপরিবহন আর দোকানপাটই বন্ধ, সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা, চাকরিজীবীদের দুর্ভোগ চরমে
সমীকরণ প্রতিবেদন:
হঠাৎই ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সাত দিনের ‘লকডাউনের’ প্রথম দিন গতকাল সারা দেশেই ছিল ঢিলেঢালা ভাব। কোথাও তেমন কড়াকড়ি লক্ষ্য করা যায়নি। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ইজিবাইক-সিএনজিতে করে যাত্রীদের চলাচল করতে দেখা গেছে। কিছু কিছু স্থানে জনসমাগমও লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও তা প্রভান পড়েনি সাধারণ মানুষের মধ্যে।
চুয়াডাঙ্গা:
সারা দেশের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গাতেও শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের ‘লকডাউন’। গত বছরের তুলনায় অনেক শিথিলভাবে শুরু হয়েছে এবারের ‘লকডাউন’। কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে প্রশাসনকে। স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা না মানায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। ‘লকডাউনের’ মধ্যে মানুষের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকার কথা থাকলেও চুয়াডাঙ্গা শহরের রাস্তায় ইজিবাইক, রিকশা, প্রাইভেটকার চলতে দেখা গেছে। তবে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। তাঁদের দাবি, গত বছরের মতো এবারেও ঈদ সামনে দোকান-পাট বন্ধ করা যাবে না। ধার-দেনা করে রমজানকে সামনে রেখে নতুন নতুন পণ্য তুলেছেন দোকানে। এবারেও বিক্রি না হলে অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হবেন তাঁরা।
জানা গেছে, ‘লকডাউনের’ প্রথম দিনের সকালেই শহরের একত্রিত হয় বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। এ ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের টিম ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ দ্রুত ওই স্থানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, ‘লকডাউনের’ প্রথম দিন গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গা শহরের রাস্তায় দেখা গেছে, অন্যদিনের তুলনায় ভিড় কিছুটা কম থাকলেও সাধারণ মানুষের যাতায়ত আছে। শহরের কোর্ট মোড়ে দেখা গেছে ইজিবাইকের বেশ ভিড়। দামুড়হুদা ও জীবননগর থেকে ছেড়ে আসা সিএনজিগুলোও চলছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকায় চাকরিজীবীদের সকালে আসতে কিছুটা বেগ পোহাতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
শহরের পুরাতন হাসপাতাল রোডে খুব বেশি যান চলাচল দেখা না গেলেও শহীদ আবুল কাশেম সড়ক ও হাসপাতাল রোডে বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বড় বাজার, নিচের বাজার ও কাঁচা বাজারে সকালে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় দেখে বোঝার উপায় নেই ‘লকডাউন’ চলছে। শহীদ হাসান চত্বর তথা চৌরাস্তার মোড়ে প্রতিদিনের ন্যায় দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা। ইজিবাইক আর সিএনজিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে তাঁদের প্রয়াস থেমে নেই। বেশিরভাগ মোড়ে মোড়ে এবং শহরে প্রবেশ করার মূল চারটি সড়কেই দেখা গেছে ট্রাফিক পুলিশ।
তবে উপজেলা পর্যায় থেকে ছেড়ে আসা এবং শহরের অভ্যন্তরে চলাচল করা ইজিবাইক, সিএনজিতে মোটেও স্বাস্থ্যবিধি পরিলক্ষিত হয়নি। বিশেষ করে ইজিবাইকে অল্প জায়গার মধ্যেও প্রতিদিনের মতোই চালকসহ ৯ জন করে বসতে দেখা গেছে।
অপর দিকে, শহরের নিউ মার্কেট, প্রিন্স প্লাজা, আব্দুল্লাহ সিটি, আলী হোসেন সুপার মার্কেট, ফাতেমা প্লাজা, বড় বাজার বড় গলি, পুরাতন গলিসহ মার্কেটগুলোতে দেখা গেছে দোকান-পাট বন্ধ থাকতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট বাদে সবকিছুই বন্ধ আছে। খাবারের হোটেলগুলো বসে না খেয়ে পার্সেল করে দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় হোটেলগুলো সামনে সকালের নাস্তায় অনেক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এক সপ্তাহের ‘লকডাউন’। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে আছে।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় ঢিলেঢালাভাবে ‘লকডাউনের’ প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। প্রথম দিন জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসন মাঠে নামে।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক আকারে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে সরকার ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে। গতকাল ‘লকডাউনের’ প্রথম দিন আলমডাঙ্গায় প্রশাসন মানুষকে সচেতন করার জন্য মাঠে নামে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মণ্ডলের নেতৃত্বে প্রশাসনের এ টিমে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ন কবির, আলমডাঙ্গার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবিরসহ একদল পুলিশ ফোর্স। প্রশাসনের এ টিমটি বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন করেন।
অন্যদিকে আলমডাঙ্গার জেহালা মদন বাবুর মোড়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাস্থ্যবিধি না মানায় দুজনকে ২ শ টাকা জরিমানা করেছেন। অপর দিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেহালা বাজারে খন্দকার ছামসুদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিমকে (৪০) ৫ শত টাকা জরিমানা করেছেন।
দামুড়হুদা:
দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। অভিযানকালে মোট ১১ জনকে মাস্ক পরিধান না করা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার অপরাধে মোট ৩ হাজার ৮ শত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহযোগিতায় ছিলেন পেশকার জিহন আলীসহ দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা।
অপর দিকে, করোনাভাইরাস বিস্তারের কারণে সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজার, দর্শনা, দামুড়হুদা বাজার, ডুগডুগি পশুহাট সব জায়গায় অভিযানে পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা রহমান। গতকাল সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।
ইউএনও দিলারা রহমান জানান, জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের নির্দেশে পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত পশুহাট বন্ধ থাকবে। বিভিন্ন বাজার কমিটির সভাপতিকে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত মাইকিং চলমান রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, দামুড়হুদা উপজেলা বিভিন্ন বাজারে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনাকালে ৭ জনকে মাস্ক পরিধান না করা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার অপরাধে মোট ৩ হাজার ৭ শত টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে করোনাভাইরাস সচেতনতার লক্ষ্যে পৃথক অভিযানে মুখে মাস্ক না থাকায় এবং ‘লকডাউন’ না মানাই ১৩ জনের কাছে ৫ হাজার ৭শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মেহেরপুর জেলার মোট ৬টি স্থানে একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের একাধিক সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের একাধিক টিম।
মুখে মাস্ক না থাকায় এবং ‘লকডাউন’ না মানাই মেহেরপুর শহরের কাথুলী বাসস্ট্যান্ড, হোটেল বাজার, কলেজ মোড়, কোর্ট মোড়সহ গাংনী ও মুজিবনগরে মোট ৬টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৩ জনের কাছে ৫ হাজার ৭ শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এসময় মানুষকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সচেতন করা হয় এবং জনসাধারণের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামের নেতৃত্বে শহরের কলেজ মোড়ে, সুজন দাশ গুপ্তের নেতৃত্বে কাথুলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়, মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে কোর্ট মোড়, মেহেরপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়ানুর রহমানের নেতৃত্বে হোটেল বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজ আল আসাদ, মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ দারা খান, গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী প্রমুখ। একই সঙ্গে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরে আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে এবং মুজিবনগরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
মুজিবনগর:
কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ধাপের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘লকডাউনের’ প্রথম দিনে মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উদ্যোগে মুজিবনগর কেদারগঞ্জ বাজার, দারিয়াপুর বাজার, মোনাখালী বাজার ও বিকেলে মহাজনপুর বাজারে জনসচেতনতামূলক অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এই জনসচেতনতামূলক অভিমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন সরকারের নেতৃত্বে সঙ্গে ছিলেন মুজিবনগর থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম, এসআই বাবলুসহ মুজিবনগর থানার চৌকস একটি দল। এসময় অটোচালক, চায়ের দোকান, হোটেল, ফার্মেসি, ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের সচেতন করা ও পথচারীদের করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সচেতনতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এই সাত দিনে সরকারের নির্দেশ মোতাবেক নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করার জন্য বলা হয়। দিনভর (সকাল থেকে রাত) অভিযান পরিচালনা করে মুজিবনগরের বিভিন্ন স্থানে মোট ১১টি মামলা, ৬ হাজার টাকা জরিমানা ও ১ শ টি মাস্ক বিতরণ করা হয়।
ঝিনাইদহ:
‘লকডাউনের’ প্রথম দিনে ঝিনাইদহ শহরে অনেকটা আগের মতোই বের হয়েছে মানুষ। তাদের কারো মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা দেখা যায়নি। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ‘লকডাউন’ উপেক্ষা করে মানুষের অবাধ চলাচল। এসব মানুষদের মধ্যে বেশিরভাগেরই মুখে নেই মাস্ক, হাতে নেই হ্যান্ড গ্লাফস। কেউবা সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করছে না, থুতনিতে নামিয়ে রাখছে, কেউবা আবার পুলিশ দেখে পকেট থেকে মাস্ক বের করে মুখে লাগাচ্ছে। শহরে দোকানপাট বন্ধ ছিল। মানুষের চলাচলও ছিল আগের চেয়ে কম।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও স্থানীয় রুটের কোনো যানবাহন ছেড়ে যেতে দেখা না গেলেও শহরসহ বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে একাধিক যাত্রী নিয়ে অবাধে চলাচল করছে রিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান, থ্রি-হুইলার, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত বাহন। ‘লকডাউনের’ মধ্যে যারা বাইরে ঘোরাফেরা করছে, তাদের ঘরে ফেরাতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের অভিযান চলছে জেলাজুড়ে। তবে খুব একটা কাজে আসছে না। অভিযানের সম্মুখ পড়লেই বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন বাইরে বের হাওয়া মানুষ।
এক রিকশায় উঠেছেন তিন যাত্রী। তাঁদেরই একজন আফসানুর রহমান সেতু। তিনি বলেন, ‘লকডাউন’ তাই রাতে ঢাকা থেকে এসেছি। এক পরিবারের তিনজন, তাই একসঙ্গে বাড়ি ফিরছি রিকশায় করে। শহরে বের হওয়া রোকন উদ্দীন জানান, শরীর খারাপ তাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ডাক্তারের কাছে এসেছিলাম। লকডাউন জানি কিন্তু কী করব, ডাক্তারতো দেখাতেই হবে। ইজিবাইক চালক সোনা মিয়া একাধিক যাত্রী উঠিয়েছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই ভুল হয়ে গেছে, এমনটি আর কখনও হবে না।
‘লকডাউন’ মনিটরিংয়ের জন্য বের হওয়া জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান জানান, ‘শহরের প্রতিটি মোড়ে, হাটে-বাজারে জেলা প্রশাসনের অভিযান ও তদারকি চলছে। প্রথম দিনে সকালের দিকে কিছু মানুষ হয়তো অসচেতন ছিল। আমরা চেষ্টা করছি সকলকেই ঘরে রাখার জন্য।’ অপর দিকে পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, শহরের প্রতিটি প্রবেশ মুখ, সড়ক-মহাসড়কে পুলিশের চেকপোস্ট চলছে। কোনো যানেই একাধিক যাত্রী বহন করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে, সারা দেশের ন্যায় ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে ১ সপ্তাহের ‘লকডাউন’। সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে স্থানীয় ও দূরপাল্লার সকল প্রকার গণপরিবহন। বন্ধ রাখা হয়েছে ওষুধ, খাদ্যের দোকান ব্যতীত সকল দোকান-পাট। গতকাল সোমবার সকাল থেকে ‘লকডাউন’ কার্যকরে মাঠে রয়েছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ জেলা শহরের পোস্ট অফিস মোড়, আরাপপুর, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা কার্যকর ও সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করতে সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল বাশার, ডিবির ওসি আনোয়ার হোসেন, সদর থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এসময় ‘লকডাউনে’ অযথা শহরে ঘোরাঘুরি না করতে ও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে নানা পরামর্শ দেন।
কমেন্ট বক্স