৩ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু, মৌসুমি চাষে ব্যাপক ক্ষতি!
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০৪-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গায় আচমকা কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব, জেলাজুড়ে তিন ঘণ্টা বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি বয়ে গেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এই তাণ্ডবে ৩ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আচমকা কালবৈশাখীর তাণ্ডবে চুয়াডাঙ্গায় বসতবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আকাশে ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। সে হাওয়া একসময় প্রবল ঝড়ে রূপ নেই। ঝড়ের তাণ্ডব চলে প্রায় ঘণ্টাখানেক। ঝড়ের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন থাকে পুরো জেলা। এর মধ্যে শহরতলীর দৌলাতদিয়াড়ে সরকারিভাবে নির্মিত একটি বসতঘরের চাল উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া উঠতি ফসল ও গাছপালায় বেশ খানিকটা ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রথমে ধূলিঝড়, পরে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। কোথাও কোথাও ঝড়ো বাতাসের গতি বেশি ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ‘এই মৌসুমে এই ধরনের আবহাওয়া খুব স্বাভাবিক। এই সময়ই শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। খুব স্বাভাবিকভাবে ঝড়ো বাতাস আর বৃষ্টির দেখা মিলবে এই ঋতুতে।’
সন্ধ্যায় প্রথমে ব্যাপক ধূলিঝড় দিয়ে শুরু হয় তাণ্ডব। এরপর প্রায় আধাঘণ্টা দমকা বাতাসে চালিয়ে কিছু শান্ত হয় প্রকৃতি। বাতাসের বেগ কমে গেলে বজ্রসহ হালকা বৃষ্টিপাত হয়। এদিকে, আজ সোমবার থেকে করোনার কারণে শুরু হচ্ছে ‘লকডাউন’। এ অবস্থায় সবার ব্যস্ততা বাসায় ফেরার। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে ভীতির সঞ্চার হয়। অনেককেই দেখা যায়, বিভিন্ন ভবন-দোকানে শেল্টার নিতে। সড়কে গতি কমে যায় বাহনেরও। বিভিন্ন জায়ড়ায় গাছের ডালপালা ভেঙে রাস্তায় পড়ে যায়। ফলে দ্বিগি¦দিক ছুটতে থাকেন অনেকে।
জানা যায়, কালবৈশাখী ঝড়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের দৌলাতাদিয়াড় দক্ষিণপাড়ায় সরকারিভাবে নির্মাণাধীন একটি বাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে। সরকারিভাবে নির্মাণ করা ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর বরাদ্দ পান দৌলাতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার মান্নান। বছর খানেক আগে ঘরটি হস্তান্তর করা হয়। সেই ঘরের একটি অংশের টিনের চাল উড়ে যেয়ে পড়ে পাশের একটি চায়ের দোকানের ওপর।
দৌলাতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার চা-দোকানি লিমন মিয়া বলেন, ‘সরকারি ওই ঘরে কেউ বাস করেনা। গতকালের ঝড়ে ঘরের পুরো টিনের চাল আমার চায়ের দোকানের ওপর এসে পড়ে। এতে ওই ঘরের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চায়ের দোকানেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় ঘণ্টাব্যাপী কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব। গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে কালো মেঘে তীব্র বাতাসের মাধ্যমে ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয়। এ ঝড়ের কারণে বিভিন্ন গাছ, আবাদি বোরো ধান ও ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাতেই আলমডাঙ্গা ওজোপেডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা পুনরায় সংযোগ দিতে ভেঙে পড়া গাছ অপসারণের কাজ শুরু করে।
সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিস গতকাল রোববার খুলনা বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস প্রদান করে। এ ধারাবাহিকতায় বিকেল ৫টার দিকে কালো মেঘে ঢেকে যায় আলমডাঙ্গার আকাশ। হঠাৎ শুরু হয় দমকা হাওয়া। দীর্ঘদিন তাপদহ ও অনাবৃষ্টির কারণে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় ধুলোর সৃষ্টি হয়। বিকেলের কালবৈশাখী ঝড়ের বাতাসে ভেসে ওঠে রাস্তার ধুলো-বালি। রাস্তার ধুলো-বালি উড়ে বাড়ি ঘরে প্রবেশ করে বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করে। ধুলো-বালির কারণে সড়কে যাতায়াতকৃত গাড়ি ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে আলমডাঙ্গা উপজেলায় বোরো আবাদি ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাতাসের কারণে ধানের ফুটন্ত ফুল ও নুয়ে পড়েছে অনেক গাছ। এরই কারণে ব্যাপক লোকসানে পড়তে হবে বলে দাবি করেন এলাকার কৃষকেরা। অন্যদিকে, মৌসুমি চাষ ভূট্টা গাছগুলো ভেঙে পড়েছে। এছাড়াও, বর্তমানে মৌসুমি ফল আম, লিচু, কাঁঠাল, কলাসহ বিভিন্ন গাছ ভেঙে পড়ায় চাষিদের মাথায় হাত দেওয়ার মতো অবস্থায় পরিণত হয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে আলমডাঙ্গার কৃষকেরা। কয়েক দফার দমকা হাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা থাকেই। সঠিক কী পরিমাণের ক্ষতি হতে পারে সেটি এখন বলা সম্ভব নয়। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠের বর্তমান চিত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। আমরা পরে জানিয়ে দেব।
কমেন্ট বক্স