২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭ হাজারের অধিক কোভিডে আক্রান্ত
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০৪-২০২১
ইং
দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে : সংক্রমণে রেকর্ড
নতুন করে চুয়াডাঙ্গায় ১১ ও মেহেরপুরে আরও একজনের রিপোর্ট পজিটিভ
সমীকরণ প্রতিবেদক:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৮৭ জনের, যা দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে এক দিনে সর্বোচ্চ। ২৪ ঘণ্টায় করোনার সংক্রমণে মারা গেছেন আরও ৫৩ জন। এ নিয়ে টানা ৬ দিন ধরে ৫০ জনের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩০ হাজার ৭২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যা এক দিনে সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষার রেকর্ড। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৪ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ২৬৬ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৫২ হাজার ৪৮২ জন। এর আগে গত শনিবার দেশে করোনায় সংক্রমিত ৫ হাজার ৬৮৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। আর মারা গিয়েছিলেন ৫৮ জন। তার আগের দিন শুক্রবার শনাক্ত হয়েছিল ৬ হাজার ৮৩০ জনের। সেদিন ৫০ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র। মধ্যে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছর মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ মাস থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পরে গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫৪ জনে। গতকাল রোববার রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ৫জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৪ জন ও জীবননগর উপজেলার ২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬ জন ও নারী ৫ জন। বয়স ৮ থেকে ৭৩ বছর পর্যন্ত। গতকাল জেলা নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬২২ জন।
জানা যায়, গত শনিবার করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৪৩ নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনাসহ ৫৭টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁঁছায়। এর মধ্যে ১১ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকি ৪৬টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে ৩৫টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৬৯৬টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮হাজার ৪৫৯টি, পজিটিভ ১ হাজার ৭৫৪টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ২৬২টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৮০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭৮ জন ও জেলার বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছে ২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৪জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ১৬জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ১ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের। এর মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুর জেলায় নতুন করে আরও একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে সিভিল সার্জন ডাক্তার নাসির উদ্দিন জানান, মেহেরপুরে নতুন করে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত একজনই সদর উপজেলায় বাসিন্দা। এদিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, মেহেরপুর সদর ২৭ জন, গাংনী উপজেলায় ১১ জন, মুজিবনগর উপজেলায় ২ জনসহ বর্তমানে সর্বমোট ৪০ জন করোনা রোগী রয়েছেন।
কমেন্ট বক্স