মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় মৃত্যু বেড়ে ৫২, মোট আক্রান্তÍ ১৭১৩

  • আপলোড তারিখঃ ০১-০৪-২০২১ ইং
চুয়াডাঙ্গায় মৃত্যু বেড়ে ৫২, মোট আক্রান্তÍ ১৭১৩
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আরও ৫২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৫৩৫৮ সমীকরণ প্রতিবেদক: গত তিন দিন ধরে দেশে করোনায় সংক্রমিত ৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার আরও ৫ হাজার ৩৫৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সাত মাসের মধ্যে করোনায় এক দিনে এটিই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু। এর আগে গত বছরের ২৬ আগস্ট করোনায় ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবারও দেশে করোনায় সংক্রমিত হয়ে ৪৫ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর করোনায় সংক্রমিত ৫ হাজার ৪২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তার আগের দিন সোমবার ৫ হাজার ১৮১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ১১ হাজার ২৯৫ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ৪৬ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ হাজার ৯৩১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চূড়ায় (পিক) উঠেছিল গত বছরের জুন-জুলাই মাসে। ওই সময়ে, বিশেষ করে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী শনাক্ত হতো। বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকার পর এক মাসের বেশি সময় ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে ছয় দিন ধরে সাড়ে তিন হাজারের বেশি রোগী (প্রতিদিন) শনাক্ত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরেকটি চূড়ার (পিক) দিকে যাচ্ছে দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা আসে ১৮ মার্চ। দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে। তবে গত পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এদিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাুর্চ্যুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আনোয়ারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার। নিহত আনোয়ারা বেগম চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ খেজুরা গ্রামের আশরাফুল জোয়ার্দ্দারের স্ত্রী। গতকাল জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিনজনের শরীরে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭১৩ জন। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। জানা যায়, গত ২৩ মার্চ করোনা উপসর্গ শ্বাসকষ্ট নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন আনোয়ারা বেগম। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে ভর্তি রাখেন। করোনা পরীক্ষার জন্য ২৭ মার্চ তাঁর শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনায় ২৮ মার্চ করোনা শনাক্ত হয়। ওইদিনই তাঁকে করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ওয়ার্ডে (রেড জোন) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল চুয়াডাঙ্গায় নতুন করোনা শনাক্ত তিনজনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ২ জন ও দামুড়হুদা উপজেলার ১ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। বয়স ২৬ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত। গত মঙ্গলবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কোনো নমুনা করেনি। তবে পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে গতকাল ৬টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে সিভিল সার্জন অফিস। এর মধ্যে তিনটি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকি তিনজনের ফলাফল নেগেটিভ। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য সদর উপজেলা থেকে ৩৯টি, দামুড়হুদা থেকে ৪টি নমুনাসহ ৪৩টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে প্রেরণ করেছে। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৫৬০টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮ হাজার ৩২১টি, পজিটিভ ১ হাজার ৭১৩টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ১৬৪টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ জন ও জেলার বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছে ৩ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্তদের মধ্যে ৩২ জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ৮ জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ১ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। এর মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। এদিকে, গতকালই নিহতের দাফনকার্য সম্পন্ন করার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী